মেইন ম্যেনু

হার্ভার্ডের গবেষণা প্রকাশ করলো সুখি জীবনের একটিমাত্র রহস্য

ভালো থাকতে চাই আমরা সবাই। একটি স্বচ্ছল, সুখি জীবনের প্রত্যাশায় অনেক কিছুই করতে হয় আমাদেরকে। ক্যারিয়ার গড়তে হয়, ব্যাঙ্কে টাকা জমাতে হয় নির্ভরতার বাড়ি-গাড়ি করতে, নিজের সংসার, সন্তান-সন্ততির ব্যাপারে ভাবতে হয়। এতকিছু করার পর আসলে কী সুখ পাওয়া যায়? সুখের জন্য সবচাইতে জরুরী আসলে কোন কাজটি? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে বিজ্ঞান।

৭৫ বছরেরও বেশী সময় ধরে হার্ভার্ডের গ্র্যান্ট অ্যান্ড গ্লুয়েক স্টাডি মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার তথ্য নিয়ে চলেছে। এর মাঝে দুইটি গ্রুপের তথ্য নেওয়া হয়। একটি হলো ৪৫৬ জন দরিদ্র পুরুষের গ্রুপ, তারা বস্টনে বাস করেন ১৯৩৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত (গ্র্যান্ট স্টাডি)। অন্যটি হলো হার্ভার্ডের ১৯৩৯ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত সময়ের ২৬৮ জন পুরুষ স্নাতকের গ্রুপ (গ্লুয়েক স্টাডি)।

অনেক লম্বা সময়ের গবেষণা হবার কারণে কয়েক প্রজন্মের গবেষকেরা এতে কাজ করেন। বিশ্বযুদ্ধ ২ এর আগে থেকেই এক কাজ চলছে। এর ফলাফ্ল? হার্ভার্ডের স্টাডি অফ অ্যাডাল্ট ডেভেলপমেন্টের ডিরেক্টর রবার্ট ওয়ালডিঙ্গারের মতে, সুখি জীবনের জন্য সবকিছুর চাইতে একটি জিনিস বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আর তা হলো প্রিয়জনদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। এটা নিশ্চিতভাবে আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখে। আপনার চাকরির আয়, জীবনের বিভিন্ন সাফল্যের অর্জন, কর্মক্ষেত্রে ক্ষমতা সবকিছুর চাইতে এটাই বেশী গুরুত্বপূর্ণ। মোটকথা, ভালোবাসাই আপনাকে সবদিক দিয়ে সুস্থ ও সুখি রাখতে পারে।

গবেষণার মতে, কারো সাথে আপনার সম্পর্ক ভালো থাকলে, তার ওপর নির্ভর করতে পারলে আপনার নার্ভাস সিস্টেম রিল্যাক্স হয়, আপনার মস্তিষ্ক বেশী সময় ধরে সুস্থ থাকে, আর শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরণের কষ্ট লাঘব করে। এটাও জানা যায় যে, যারা একাকী বোধ করেন তাদের স্বাস্থ্য দ্রুত খারাপ হয় এবং তারা কম বয়সে মারা যান।

আপনার কয়টি বন্ধু আছে, অথবা আপনার জীবনসঙ্গীর সাথে সম্পর্কটি শক্তপোক্ত কিনা এর চাইতে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হলো এই সম্পর্কের গভীরতা। আপনার বন্ধু সংখ্যা শত শত হয়েও লাভ নেই যদি তাদের সাথে আপনার সম্পর্ক নির্ভরতার না হয়, যদি তাদের সাথে আপনি স্বস্তি বোধ না করেন।

এই গবেষণা ১৯৭২ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত পরিচালনা করেন জর্জ ভ্যালিয়ান্ট। তিনি বলেন, এখানে দুইটি ব্যাপার গুরুত্বপূর্ণ। একটি হলো ভালোবাসা, আরেকটি ব্যাপার হলো এমনভাবে জীবনযাপন করা যাতে সেই ভালোবাসা হারিয়ে না যায়।

ভাবুন, আপনি একটি ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে আছেন। আপনার জীবনে কোনো এক দুর্যোগ দেখা দিল, যেমন চাকরি চলে যাওয়া, পিতামাতা অথবা সন্তানের মৃত্যু। এই দুর্যোগে যদি আপনি নিজেকে সামলে না উঠতে পারেন, তাহলে হয়তো আপনার সম্পর্কটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আপনি ভালোবাসার মানুষটিকে হারাতে পারেন এর কারণে। এ কারণেই গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ। এতে বলা হয় জীবনের অন্যান্য ব্যাপারের চাইতে ভালোবাসাকেই বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। আপনি যদি কোনো দুর্ঘটনার আঘাত সামলে উঠতে না পারেন, তাহলে একজন থেরাপিস্টের কাছে যান, কোনো সাপোর্ট গ্রুপের সাথে যোগাযোগ করুন। নিজের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখুন যাতে ভালোবাসার মানুষটিকে হারাতে না হয়, তাকে হারিয়ে ফেললে আপনার অর্থ-বিত্ত, ক্যারিয়ার, স্বাস্থ্য কোনোটাই আপনাকে সুখি করবে না। একইভাবে আপনার কাছের মানুষ, বন্ধু, পরিবারের মানুষদেরকেও গুরুত্ব দিন। কারণ সুখি জীবনের ভিত্তিই হলো এই সম্পর্কগুলো।






মন্তব্য চালু নেই