মেইন ম্যেনু

হাসিমুখ পুরুষরাই নারীদের কাছে বেশি বিশ্বাসযোগ্য

গোমড়ামুখোদের চেয়ে হাসিখুশি পুরুষদেরই নারীরা বেশি আকর্ষণীয় মনে করেন। সম্প্রতি নরওয়ে ও জাপানে পরিচালিত দু’টি গবেষণায় এমনটাই প্রমাণিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে নারীরা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য হাসিমুখ পুরুষদেরকেই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রাখছেন। এর আগের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, হাসিখুশি স্বভাবের পুরুষরা খুব সহজেই নারীদেরকে বিছানায় নিয়ে যেতে পারেন। গবেষণায় আরো প্রমাণিত হয়েছে, নারীরা হাসিমুখ পুরুষদেরকে অন্যদের চেয়ে বেশি বিশ্বাসযোগ্যও মনে করেন।

তবে যেসব নারী স্বল্পকালীন সম্পর্কের জন্য সঙ্গী খুঁজছেন তারা হাসিমুখ পুরুষদের চেয়ে বরং গোমড়ামুখো ও পুরুষালি স্বভাবের লোকদেরই পছন্দ করেন। নরওয়ের অসলো এবং জাপানের সেনশু বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় এমনটাই প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন। ইভোল্যুশনারি সাইকোলজি নামের জার্নালে ওই গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এতে গবেষকরা জানান, ‘দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য নারীদের আকৃষ্ট করতে মুচকি হাসি খুবই কার্যকর। কিন্তু সল্পমেয়াদি সম্পর্কের জন্য হাসি খুব একটা কাজে দেয় না।’

সামাজিক ও সহযোগিতামূলক চরিত্রই দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য নারীদের বেশি পছন্দ- প্রচলিত এই ধারণার সঙ্গেও এই গবেষণার ফলাফল মিলে গেছে। কারণ দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে সন্তান লালন-পালনসহ আরো অনেক বিষয় আছে যেসব ক্ষেত্রে সহযোগিতামুলক বৈশিষ্টসম্পন্ন চরিত্র থাকাটা অতীব জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে নারীরা বিশ্বাসযোগ্যতার মতো সামাজিক উপদানগুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কারণ দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে গর্ভধারনকালীন ও সন্তান লালন-পালনের সময় বাবা হিসেবে যথাযথ দায়িত্ব পালনের ইস্যু জড়িত। যেটা অনেকসময় বেশি পুরুষালি স্বভাবের পুরুষদের কাছ থেকে পাওয়া যায় না।

গবেষণার প্রথম পর্বে ২১৮ জন নারীকে হাসিমুখ পুরুষদের পাশাপাশি নিরপেক্ষ অভিব্যক্তির পুরুষদের ছবিও দেখানো হয়। এরপর তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি সম্পর্কের জন্য কোন পুরুষরা বেশি আকর্ষণীয় তার রেটিং করতে বলা হয়। গবেষণার দ্বিতীয় অংশে ৭১ জন নারীকে একইভাবে হাসিমুখ ও নিরপেক্ষ অভিব্যক্তির পুরুষদের ছবি দেখানো হয়। এরপর কোন পুরুষের ব্যক্তিত্ব কীরকম হতে পারে সে ব্যাপারে রেটিং করতে বলা হয়।

গবেষণার দুই পর্যায়েই দেখা গেছে, নিরপেক্ষ অভিব্যক্তির পুরুষদেরকে নারীরা বেশি পুরুষালি স্বভাবের বলে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে, হাসিমুখ পুরুষদেরকে বেশি বিশ্বাসযোগ্য বলে চিহ্নিত করেছেন। ওই একই জার্নালে একমাস আগে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণার ফলাফল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসিখুশি পুরুষরা সহজেই নারীদের বিছানায় নিয়ে যেতে পারেন।

কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো পুরুষ একজন নারীকে যতবেশি হাসাতে পারবেন তত সহজেই ওই নারী তার সঙ্গে ডেটিংয়ে যেতে রাজি হবে। তবে বিপরীতক্রমে পুরুষরা হাসিখুশি নারীদের চেয়ে বরং একটু চাপা স্বভাবের নারীদেরই বেশি পছন্দ করেন। হাসিখুশি নারীরা খুব সহজেই কোনো পুরুষকে ডেটিংয়ে নিয়ে যেতে পারেন না।






মন্তব্য চালু নেই