মেইন ম্যেনু

হাড়ের স্যুপের স্বাস্থ্য উপকারিতা

আপনি হয়তো মুরগীর স্যুপ বা হাড় দিয়ে তৈরি অন্য কোন খাবার যেমন- নেহারি খেয়েছেন। কিন্তু এই হাড়ের জুস বা স্যুপের যে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে তা কি জানেন? আসলে বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে হাড়ের জুস।

হাড়ের এই স্যুপ তৈরি হয় গরু বা মুরগীর অস্থি ও তরুণাস্থি দিয়ে। হাড়ের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের মিনারেল থাকে এবং এর পাশাপাশি জেলাটিন ও কোলাজেন থাকে। এ কারণেই হাড়ের স্যুপের স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রচুর।

হাড়ের স্যুপে মিনারেলের পাশাপাশি ভিটামিন ও থাকে। এতে উচ্চমাত্রার ম্যাগনেসিয়াম থাকে। এছাড়াও আয়রন, সেলেনিয়াম, কপার, ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, ভিটামিন সি ও বি৬ এর ভালো উৎস হাড়ের স্যুপ। হাড়ের স্যুপে কন্ডিশনাল অ্যামাইনো এসিড থাকে। এই ধরণের অ্যামাইনো এসিড আমাদের শরীরে উৎপন্ন হয় না, তাই খাদ্য থেকে এদের গ্রহণ করতে হয়। হাড়ের স্যুপে যে ৪টি অ্যামাইনো এসিড থাকে সেগুলো হল- আরজিনিন, গ্লিসাইন, গ্লুটামিন ও প্রোলিন। এই অ্যামাইনো এসিড গুলো ইমিউন ফাংশন, অন্ত্রের কাজ, জ্ঞানীয় ক্ষমতা এবং বডি ডিটক্সের জন্য প্রয়োজনীয়।

হাড়ের স্যুপের স্বাস্থ্য উপকারিতা সমূহঃ

১. অন্ত্রের সমস্যা নিরাময়ে সাহায্য করেঃ

যাদের অন্ত্রের বিভিন্ন ধরণের সমস্যা যেমন- লিকি গাট বা হজমের সমস্যা থাকে তারা প্রতিদিন ১ কাপ হাড়ের স্যুপ খেলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। অন্ত্রের ছিদ্রগুলোকে মেরামত করতে কার্যকরী ভূমিকা রাখে হাড়ের স্যুপের জেলাটিন। ডায়রিয়া, খাদ্যের অসহনীয়তা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপার সমস্যাগুলো হয় অন্ত্রের ছিদ্রের অসামঞ্জস্যতার জন্য।—-

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ

হাড়ের স্যুপ ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে কিনা তা এখনো জানা যায়নি। তবে অনেক ধরণের স্বাস্থ্যগত সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করে হাড়ের স্যুপ এবং এই কাজটি করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটানোর মাধ্যমে। হাড়ের স্যুপের প্রচুর খনিজ উপাদানের উপস্থিতি, অ্যামাইনো এসিড ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের জন্যই এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উন্নতি ঘটাতে পারে।

৩. ভাইরাস ও ঠান্ডার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেঃ

গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, সাধারণ ঠান্ডার উপসর্গগুলো কমতে সাহায্য করে হাড়ের স্যুপ। হাড়ের স্যুপ সাইনাস ও শ্বাসনালীর পথ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এটি হজম সহায়ক পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ। তাই অসুস্থ হলে মুরগীর স্যুপ খাওয়ার কথা বলা হয়।

৪. জয়েন্টের ব্যথা দূর করেঃ

বছরের পর বছর ধরে মানুষ জয়েন্টের ব্যথায় আরাম পাওয়ার জন্য গ্লুকোসামাইন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করছেন। হাড়ের স্যুপে গ্লুকোসামিন থাকে, তার অর্থ হাড়ের স্যুপ অস্থি সন্ধির ব্যথা কমাতে কার্যকরী হতে পারে। এছাড়াও হাড়ের স্যুপ হাড়কে শক্তিশালী করে এবং অষ্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করে।

৫. ঘুমের উন্নতি ঘটায়ঃ

হাড়ের স্যুপে গ্লিসাইন থাকে যার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। আসলে গবেষণায় পাওয়া গেছে যে, গ্লিসাইন ঘুমের মান উন্নত করতে পারে এর পাশাপাশি স্মৃতিরও উন্নতি ঘটায়।

তাছাড়া হাড়ের রসে কোলাজেন থাকে বলে এই স্যুপ খেলে ত্বককে দৃঢ়, উজ্জ্বল ও তরুণ রাখে, অন্ত্রের যে ব্যাকটেরিয়া স্থূলতার জন্য দায়ী তাদের দূর করে ওজন কমতে সাহায্য করে হাড়ের স্যুপ, মিনারেল ও ইলেক্ট্রোলাইটের উপস্থিতির জন্য শরীর হাইড্রেটেড থাকতে সাহায্য করে হাড়ের স্যুপ।






মন্তব্য চালু নেই