মেইন ম্যেনু

হিন্দু ছাত্রের ইসলাম গ্রহণ, এলাকায় তোলপাড়

সদ্যসমাপ্ত এসএসসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী এক ছাত্রের ইসলাম ধর্ম গ্রহণকে কেন্দ্র করে এলাকায় তোলপাড় বয়ে গেলো। কেউ কেউ একে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত বলে অভিহিত করেছেন। কেউবা অপহরণেরও অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ ও গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিয়ে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের কথা স্বীকার করে সেই নওমুসলিম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আব্দুল্লাহ উপজেলার পশ্চিম জাফলং উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। এখন সে ফলাফলের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে। তার আগের নাম ছিল শ্রী মোহন দেবনাথ। উপজেলার দক্ষিন প্রতাপপুর গ্রামের মনরঞ্জন নাথের পুত্র।

জানা যায়, গত ১৭ র্মাচ হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে স্বেচ্চায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মোহন দেবনাথ। পরের দিন স্থানীয় এক তাবলিগ জামায়াতের সাথী হয় এবং তিন চিল্লার (৪০ দিনে এক চিল্লা) জন্য চলে যায় ময়মনসিংহে। আর তখনই পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এলাকার কয়েকজন মুসলিম তাদের ছেলেকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করেছে। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত লোকেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ এপ্রিল রোববার উপজেলা যুবলীগ নেতা গোলাম সারওয়ারের মধ্যস্থতায় আব্দুল্লাহকে ময়মনসিংহ থেকে গোয়াইনঘাটে আনা হয়। ওই দিন বিকেল ৫টায় গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক সালিশ বৈঠক হয়।

সালিশি সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফুল হক, সুভাষ চন্দ্র পাল ছানা, গোপাল কৃষ্ণ দে চন্দন, গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব সভাপতি মনজুর আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমদ শামীম ও নজরুল ইসলাম নজু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগ নেতা গোলাম সারওয়ার, স্বেচ্ছা-সেবকদল নেতা রুহুল আমীন, ছাত্রলীগ নেতা মোশারফ হোসেন মাসুম এবং আব্দুল্লাহর বাবা, মা ও আত্মীয় স্বজন।

সালিশ সভায় সবার উপস্থিতিতে আব্দুল্লাহ বলে, আমি স্বেচ্চায় সজ্ঞানে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি। কারো প্ররোচনায় প্রলুব্ধ হয়ে কিংবা পরামর্শ নিয়ে ধর্মান্তরিত হইনি।

সে আরো বলে, আমি সপ্তম শ্রেণিতে পড়া থাকাবস্থাতেই ধর্মান্তরিত হওয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সেই সুযোগ হয়ে ওঠেনি। দীর্ঘদিন পর আমার মনের ইচ্ছা পূরণ হওয়াতে আনন্দিত। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

তার বক্তব্যের পর অভিযুক্তদের দায়মুক্তি দেয়া হয় এবং অভিভাবকরাও মেনে নেন। এরপর আব্দুল্লাহ আবার তাবলিগ জামাতে যোগ দিতে ময়মনসিংহ চলে যায়।

এর সত্যতা জানতে গোয়াইনঘাট প্রেসক্লাব সভাপতি মনজুর আহমদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ওই সালিশ বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং মোহন দেবনাথ যে স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়েছে বলে ভরা মজলিসে জানিয়েছে, সে কথাও নিশ্চিত করেন।






মন্তব্য চালু নেই