মেইন ম্যেনু

হিয়ারিং এইড বা শ্রবণযন্ত্র সম্পর্কে জেনে রাখুন জরুরি কিছু তথ্য

হিয়ারিং এইড হচ্ছে অত্যাধুনিক শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র। মানুষের শ্রবণশক্তির তারতম্যের জন্যই এই চিকিৎসা যন্ত্রটি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। হিয়ারিং এইড বিভিন্ন রকমের থাকেলেও এদের মৌলিক গঠন একই রকম। সব মেডিক্যাল হিয়ারিং ডিভাইসই শব্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা শ্রবণ সমস্যা আক্রান্ত ব্যক্তিকে শুনতে সাহায্য করে। কানে কম শুনতে পারার সমস্যা আছে যাদের তাদের ৯৫ শতাংশেরই শ্রবণশক্তির উন্নতি ঘটায় হিয়ারিং এইড নামক ছোট যন্ত্রটি। হিয়ারিং এইড ব্যাটারি

চালিত যন্ত্র। এর ৩টি অংশ থাকে –
· ১টি এমপ্লিফায়ার
· ১টি মাইক্রোফোন ও
· ১টি রিসিভার

বর্তমানে প্রযুক্তির উৎকর্ষতার সাথে সাথে শ্রবণ যন্ত্রেরও অনেক উন্নতি হয়েছে যার ফলে শ্রবণের সমস্যা আছে এমন রোগীদের জীবন অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। কিভাবে এই যন্ত্রটি কাজ করে জেনে নেই আসুন:
· যন্ত্রটির মাইক্রোফোনের অংশটি শব্দ গ্রহণ করে।
· এই ডিভাইসের মধ্যে থাকা প্রসেসিং চিপটি শব্দকে বিশ্লেষণ করে।
· প্রসেসিং চিপের বিশ্লেষিত শব্দ এমপ্লিফায়ার গ্রহণ করে।
· এমপ্লিফায়ার শব্দকে বিবর্ধিত করে লাউড স্পিকারে পাঠায়।

লাউড স্পিকারে এই শব্দকে মধ্যকর্ণে সঞ্চালন করে। মধ্যকর্ণে শব্দ রূপান্তরিত হয় যাকে “ইলেকট্রিক্যাল ইম্পালস” বা “বৈদ্যুতিক স্পন্দন” বলে।
· পরিশেষে মস্তিষ্ক এই স্পন্দন গ্রহণ করে এবং প্রসেস করে।
এই শ্রবণ সহায়ক যন্ত্রটি সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্য আজ জেনে নেই আসুন:

১। শ্রবণযন্ত্র কখনোই শ্রবণ প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেনা। তবে এর মাধ্যমে শ্রবণশক্তির উন্নতি হয় যার ফলে জীবন যাপন সহজ হয়।

২। শ্রবণযন্ত্র নেওয়ার জন্য অবশ্যই একজন অডিওলজিস্ট এর শরণাপন্ন হতে হবে।

৩। ঠিকমত লাগালে এবং সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করলে হিয়ারিং এইড ব্যবহারে কানের কোনো ক্ষতি হয়না।

৪। প্রত্যেকের শ্রবণ ক্ষমতার হ্রাস এবং শোনার চাহিদা ভিন্ন। অডিওলজিস্ট এর সাহায্য নিয়ে নির্ধারণ করতে হবে আপনার শ্রবণ যন্ত্রের প্রয়োজন আছে কিনা এবং সেটা আপনার শ্রবণ শক্তির কতটুকু উন্নতি ঘটাতে সক্ষম।

৫। সাধারণত আমরা দুই কানে শব্দ শুনি। বাইনোরাল বা উভয় কানে শ্রবণযন্ত্র ব্যবহার করলে শব্দের স্থান নির্ধারণ করতে, বিরক্তিকর শব্দের বিন্যাসে এবং শব্দের মান উপলব্ধি করতে সাহায্য করে। শ্রবণ শক্তির সমস্যা আছে এমন মানুষদের বেশিরভাগেরই এক কানে শ্রবণযন্ত্র ব্যবহারের চেয়ে দুই কানে শ্রবণযন্ত্র ব্যবহার করাই ভালো।

৬। বিভিন্ন ধরণের শ্রবণযন্ত্র পাওয়া যায় যার প্রত্যেকটিই আধুনিক ও শৈল্পিক। শ্রবণযন্ত্র কেনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তা আপনার প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারবে কিনা। আপনার বন্ধু যে স্টাইলের যন্ত্রটি ব্যবহার করছেন সেটি আপনিও ব্যবহার করতে পারবেন – এই ধারণাটি সঠিক নয়। কারণ তিনি যেটি ব্যবহার করছেন তা আপনার জন্য প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

৭। কিছু শ্রবণযন্ত্র আছে প্রোগ্রামিং করা যা বিভিন্ন ধরণের শব্দ শোনার জন্য ব্যবহার করা যায়, যেমন- টেলিফোনে কথা বলার সময় এক রকম অথবা রেস্টুরেন্টের হৈচৈ এর মধ্যে শব্দ শোনার জন্য অন্য আরেক রকম।

৮। কিছু হিয়ারিং এইড আছে যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আপনার কোন ধরণের সেটিংস প্রয়োজন সেটির ডাটা সংরক্ষণ করে রাখে অটোম্যাটিক ভাবে।

৯। ম্যানুয়াল ভলিউম কন্ট্রোলসহ অথবা ছাড়া উভয় প্রকার হিয়ারিং এইড পাওয়া যায়। বেশিরভাগ মানুষ সাউন্ড লেভেল এডজাস্ট করার ক্ষমতা আছে এমন হিয়ারিং এইড পছন্দ করে।

তীব্র শব্দের কারণে যেমন-৮৫ ডেসিবল বা তারচেয়ে উচ্চমাত্রার শব্দের কারণে মানুষের শ্রবণের সমস্যা হয়। মানুষের কান শুধু শ্রবণেই সাহায্য করেনা দেহের ভারসাম্যও রক্ষা করে। সাধারণত শ্রবণ ক্ষমতা হ্রাসের সমস্যা হয় ৬৫ বছরের কম বয়সের মানুষের। অস্বাভাবিক অবস্থা তৈরি না হলে কানের ময়লা পরিষ্কার করার প্রয়োজন নাই। দরকার হলে কান নিজেই অতিরিক্ত ময়লা ঠেলে বাহির করে দেয়। মানুষ ঘুমিয়ে গেলেও শব্দ শোনা বন্ধ হয়না, শুধুমাত্র মস্তিষ্ক আগত শব্দকে উপেক্ষা করে। অতিশয় উচ্চমাত্রার শব্দ যেমন- শটগানের শব্দ বা বিস্ফোরণের শব্দ আপনার শ্রবণ ক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট করে দিতে পারে।






মন্তব্য চালু নেই