মেইন ম্যেনু

হুজি থেকে জেএমবিতে ইমরান

২০০১ সালে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামি বাংলাদেশে (হুজি-বি) যোগদান করে মো. ইমরান হোসেন ওরফে ইমরান ওরফে এমরান। কিন্তু দীর্ঘদিন পর ২০১৪ সালের শুরুর দিকে তিনি জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন। তারপর থেকেই জেএমবির সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করে আসছিলেন।

সোমবার দুপুরে র‌্যাবের কাওরান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এ এলিট বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি জানান, ইমরান মূলত ২০১১ সাল থেকে জয়দেবপুরের কয়েকটি কেমিক্যাল-নির্ভর শিল্প কারখানায় চাকরি করতেন। সেই সুবাদে বৈধ কেমিক্যাল সংগ্রহ ও সরবরাহ চেইন সম্পর্কীয় তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি জঙ্গি সংগঠনের জন্য বিস্ফোরক তৈরীতে রাসায়নিক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করতেন। এ ছাড়া বাহক ও কুরিয়ারের মাধ্যমেও চাহিদা মোতাবেক বিস্ফোরক সামগ্রী চট্টগ্রাম এলাকায় জঙ্গিদের কাছে পাঠাতেন। মূলত তার সরবরাহ করা রাসায়নিক দ্রব্যাদির মাধ্যমে জঙ্গি সংগঠনের প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো।

মুফতি মাহমুদ আরো জানান, রোববার রাত সোয়া ১০টার দিকে আশুলিয়া থেকে মো. ইমরান হোসেন ওরফে ইমরান ওরফে এমরান (৩৪) এবং মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে জুনায়েদ ওরফে রফিককে (৪০) গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই বোতল সালফিউরিক এসিড, বিভিন্ন ধরনের স্প্লিন্টার উপযোগী পাঁচ প্যাকেট বল এবং বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক তৈরীর উপযোগী রাসায়নিক পদার্থ (সালফার সদৃশ্য পাউডার, পটাসিয়াম সদৃশ্য পাউডার, পটাসিয়াম ক্লোরেট সদৃশ্য পাউডার) ১ কেজি ৬৫০ গ্রামসহ অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার তথ্য প্রদান করেছে।

মুফতি মাহমুদ জানান, ইমরান ঢাকা থেকে সংগ্রহ করা কেমিক্যাল রফিকের কাছে পাঠাত। রফিক সেগুলো চাহিদা মোতাবেক চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দিত।

তিনি জানান, ২০০১ সালে ময়মনসিংহের বুড়িরচরে তার মতো ২০-২৫ জন যুবককে নিয়ে হুজির একটি প্রাথমিক জঙ্গি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। ইমরান ওই প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হওয়ার পর চট্টগ্রামে অস্ত্র প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। বুড়িরচরের প্রশিক্ষণ সম্পর্কে তিনি জানান, শহিদুল্লাহ এবং রুম্মন নামে দু’জন প্রশিক্ষক তাদের শারীরিক ও জঙ্গি মতাদর্শের ওপর প্রশিক্ষণ দিতেন।

ইমরান সংগঠনের জন্য নিয়মিত ইয়ানত (অর্থ) সংগ্রহ করে ময়মনসিংহ জেলার সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ জনৈক তারিক ওরফে আব্দুল্লাহর কাছে পাঠাতেন। এরপর ২০১৪ সালের শুরুর দিকে তিনি জেএমবির প্রতি অনুরক্ত হয়ে পড়েন। তারপর থেকে তিনি জেএমবির হয়ে কাজ করে আসছিলেন।

আটক মো. রফিকুল ইসলাম ওরফে জুনায়েদ ওরফে রফিক সম্পর্কে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, রফিক চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। রফিক এবং ইমরান একই সময় থেকে হুজিবিতে যোগ দেন। ওই সংগঠনে থাকাকালীন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরী হয়। তিনি বোমা তৈরীতে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত।

ইমরানের মাধ্যমেই রফিক ২০১৫ সালের শেষের দিকে জেএমবির অনুসারী হয়ে পড়েন। তিনি সংগ্রহকৃত রাসায়নিক দ্রব্যাদি সংগ্রহ করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রশিক্ষণ এলাকাতে পাঠাতেন। বাহকের কাজে তিনি নারী সদস্যদের ব্যবহার করতেন। রফিকের দু’জন স্ত্রীও এ কাজে সম্পৃক্ত বলে রফিক স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তার প্রথম স্ত্রী জয়নাব বিবি আত্মগোপনে রয়েছেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রী তহুরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি এড়াতে নিখোঁজ হয়ে রফিককে বিবাহ করার পর বাড়িতে ফেরত আসেন এবং পরবর্তীতে র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েন। এ ছাড়া বিস্ফোরক বাহক হিসেবে আরো কয়েকজন নারী সদস্য সম্পর্কে রফিকুল তথ্য দিয়েছেন।

মুফতি মাহমুদ আরো জানান, গত ১০ এপ্রিল র‌্যাব-১৪ এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া অভিযানে জেএমবির এক নারী সদস্য গ্রেফতার হন। সেই নারী সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদে জেএমবির বিস্ফোরক সংগ্রহ ও সরবরাহের কিছু তথ্য উপাত্ত পাওয়া যায়।






মন্তব্য চালু নেই