মেইন ম্যেনু

হেডফোনই কাল হলো বুয়েট ছাত্র তপুর

একটা হেডফোনই কাল হলো বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী তানভীর গওহর তপুর (২৩) জীবনে। রাজধানীর মগবাজার ওয়্যারলেস গেটে ট্রেনের ধাক্কায় বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার প্রাণ যায়।

তানভীর বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, দু’কানে হেডফোন লাগিয়ে ট্রেন লাইনের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন তানভীর।

তানভীরের বাবা মোহাম্মদ আলী গওহর জানান, তারা স্বপরিবারে মগবাজার এলাকার ডাক্তার গলির ১৭১ নম্বর বাসায় থাকেন। তানভীর তাদের একমাত্র সন্তান ছিলেন। সকালে সে টিউশনি করার জন্য বাসা থেকে বের হয়।

ওয়্যারলেস রেলগেটে ট্রেনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় তানভীর। প্রথমে তাকে স্থানীয় ডা. সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু সেখানে তার চিকিৎসা দিতে অপরাগতা জানানোয় পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তানভীরকে মৃত ঘোষণা করেন।

তানভীরদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার কোতোয়ালী থানার কালিয়াজুরিতে। ময়না তদন্ত শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে, মৃত্যুর খবরে বুয়েটের শতাধিক শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা শেষবারের মতো তানভীরকে দেখতে ঢামেক হাসপাতালে ছুটে আসেন। এসময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তানভীরের পরিবারের সদস্য, স্বজন, তার সহপাঠী ও শিক্ষকদের আহাজারিতে হাসপাতালের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে।

সহপাঠীরা বলেন, তানভীর খুবই ভদ্র ও নম্র প্রকৃতির ছিল। তার এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি আব্দুল মজিদ বলেন, ‘সকালে ওয়্যারলেস রেলগেট এলাকায় দু’কানে হেডফোন লাগিয়ে ট্রেন লাইনের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন বুয়েট শিক্ষার্থী তানভীর। এ সময় জয়দেবপুর থেকে ঢাকাগামী তুরাগ ট্রেনের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।’






মন্তব্য চালু নেই