মেইন ম্যেনু

‘হেরিটেজ: বাংলাদেশের ইতিহাসের আরকাইভস’

ইয়াজিম ইসলাম পলাশ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: শুরুটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেট থেকে। একঝাাঁক তরুণ শিক্ষার্থী বেড়িয়েছে জ্ঞানের সন্ধানে, উদ্দেশ্য ইতিহাস সম্পর্কে জানা। কাজলা গেটে চোখে পড়ল একটি ব্যানার ‘হেরিটেজ: বাংলাদেশের ইতিহাসের আরকাইভস’। গেট থেকে ডানদিকে একটু গেলেই চোখে পড়ল একটি পাঁচতলা ভবন । নাম ‘হেরিটেজ ভবন’। যা ড. মাহবুবর রহমান সম্পূর্ণ একক উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন। হেরিটেজটি বাংলাদেশের ইতিহাসের আরকাইভস নামে পরিচিত। যা জ্ঞানপিপাসুদের জ্ঞানের পিপাসা আরো বাড়িয়ে দেয় ।

ভবনের ভেতরে ঢুকতেই যেন একরাশ আলোর ঝঁলকানিতে মন ভরে যায়। পুরো ভবনটাই যেন জ্ঞানের আলোতে ভরা। নিচতলায় প্রথম গ্যালারিতে রয়েছে বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কিত বই। যা দেখে চোখের সামনে ভেসে উঠে বাংলাদেশের এক টুকরো গর্বিত ইতিহাস।

আরোও রয়েছে বাংলাদেশের সংবাদপত্র, লিফলেট, ব্যানার, পোস্টার প্রভৃতি। ‘বেগম’ পত্রিকাটি আামাদের মনে করিয়ে দেয় সেই হারানো দিনের স্মৃতিগুলো। দ্বিতীয় গ্যালারিতে রয়েছে বিখ্যাত মানুষদের জীবনী। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা শতাধিক জীবনী রয়েছে। আরও রয়েছে ২৪০ টির অধিক থিসিস। যা গবেষকদের জন্য গবেষণার দ্বার উন্মোচন করে দেয়। তৃতীয় গ্যালারিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বই, বিয়ের কার্ড, চিত্রকর্ম, কৃষিকাজে ব্যবহৃত নানা উপকরণ ও অনেক দুর্লভ জিনিসপত্র।

এছাড়াও আরো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের লিফলেট, পোস্টার, স্মরণিকা, বার্ষিকী, স্কুল কলেজের ম্যাগাজিন, রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, নারী সংগঠন, আদিবাসী, আন্দোলন-সংগ্রাম প্রভৃতি বিষয়ে ডকুমেন্টস, জেলা-উপজেলাভিত্তিক রচিত গ্রন্থ, জীবনী ও আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, জার্নাল, সাময়িকী, লিটল ম্যাগাজিন, বিভিন্ন সাময়িকী ও দৈনিক পত্রিকার ঈদ ও নববর্ষের সংখ্যা ইত্যাদি।

গত ১২ বছরে এখানে সংগৃহীত হয়েছে বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলা সম্পর্কিত বই, ২৫০০ শিরোনামের কয়েক হাজার সাময়িকী, বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৩৭০০ টি লিফলেট, ১৯৯৮ সাল থেকে সংবাদপত্র, ২০০ টির বেশি থিসিস, কৃষিকাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র, খড়ম, কলের গান, এছাড়্ওা অসংখ্য স¥রণিকা, বার্ষিকী, জীবনীগ্রন্থ। আর্ওো রয়েছে ব্রিটিশ, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশ আমলের মুদ্রা প্রভৃতি। যা সত্যিই প্রসংশার দাবিদার।

উন্নত দেশে ইতিহাসের উপকরণের ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা দেখা গেলেও বাংলাদেশে এর সংখ্যা খুবই বিরল। কর্মময় জীবনের ফাঁকে ঘুরে আসতে পারেন রাজশাহীর কাজলায় অবস্থিত এ আরকাইভস থেকে।

আরকাইভসটি ড. মাহবুবর রহমান ২০০২ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন। ড. মাহবুবর রহমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক। ইতিহাসের প্রতি নিবেদিত ও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের উপকরণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণে এ আরকাইভসটি প্রতিষ্ঠা করেন। অতীতকে বাদ দিয়ে কখনো বর্তমানকে ব্যাখ্যা করা যায় না। অতীত ইতিহাসের উপকরণ যতেœর সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয় এ আরকাইভসে। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধবদের সহযোগিতায় যে বিশাল সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন তা সকলের নিকট প্রসংশনীয়। হেরিটেজ আরকাইভসটি বর্তমানে তিনটি ফ্লোর স্পেস নিয়ে গঠিত। যা একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর আয়ের উৎস হচ্ছে ব্যক্তি অনুদান।

এখানে সংগ্রহ করা হয় লিফলেট,পোস্টার, স্মরণিকা, বার্ষিকী, স্কুল কলেজের ম্যাগাজিন, রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, নারী সংগঠন, আদিবাসী, আন্দোলন-সংগ্রাম প্রভৃতি বিষয়ে ডকুমেন্টস, জেলা-উপজেলাভিত্তিক রচিত গ্রন্থ, জীবনী ও আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, জার্নাল, সাময়িকী, লিটল ম্যাগাজিন, বিভিন্ন সাময়িকী ও দৈনিক পত্রিকার ঈদ ও নববর্ষের সংখ্যা ইত্যাদি।

20160331_170542

গত ১২ বছরে এখানে সংগৃহীত হয়েছে বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলা সম্পর্কিত বই, ২৫০০ শিরোনামের কয়েক হাজার সাময়িকী, বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ৩৭০০ টি লিফলেট, ১৯৯৮ সাল থেকে সংবাদপত্র, ২০০ টির বেশি থিসিস, কৃষিকাজে ব্যবহৃত জিনিসপত্র, খড়ম, কলের গান, এছাড়্ওা অসংখ্য স¥রণিকা, বার্ষিকী, জীবনীগ্রন্থ। আর্ওো রয়েছে ব্রিটিশ, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশ আমলের মুদ্রা প্রভৃতি।

হেরিটেজ আরকাইভসকে অনেকেই তাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহ দান করেছেন। যেমন: কথাসাহিত্যক প্রফেসর হাসান আজিজুল হক, প্রফেসর মুনতাসীর মামুন, প্রফেসর কে এম মোহসীন, শাহনারা হোসেন, প্রফেসর সিরাজুল ইসলাম, প্রফেসর মো. শাফি, প্রফেসর তাহমিনা আলম প্রমুখ।

এটি প্রতিদিন বিকেল সাড়ে ৪ টা থেকে রাত সাড়ে ৮ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৪ জন গবেষক গবেষণা করার সুযোগ পান এখানে। এছাড়্ওা ভ্রমণপিপাসুদের জন্য ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে এ আরকাইভসটিতে।

কথা হয় এ আরকাইভসটির স্বপ্নদ্রষ্টা ও নির্মাতা মাহবুবর রহমান স্যারের সাথে। কেন ও কীভাবে তিনি এই বিশাল সংগ্রহশালা গড়ে তুলেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘১৯৯৮ সালে নেদারল্যা- এ ইতিহাসবিষয়ক সেমিনারে যোগ দিতে গিয়ে সেদেশের আরকাইভস দেখে মুগ্ধ হন তিনি । দেশে ফিরে এমন একটি আরকাইভস প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখতে থাকেন এবং ২০০২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে এর কাজ শুরু করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, আপনার অজান্তে অবহেলায় ইতিহাসের যেসব জিনিস নষ্ট হচ্ছে তা এই হেরিটেজে দান করলে আরকাইভসটি যেমন সমৃদ্ধ হবে তেমনি তা রাজশাহী তথা সমগ্র জাতির প্রত্যাশা মেটাবে।’
হেরিটেজটির পুরো ঠিকানা: হেরিটেজ ভবন, ৪৫৬-ক, কাজলা, রাজশাহী।






মন্তব্য চালু নেই