মেইন ম্যেনু

হোটেল বয় থেকে বলিউডের সাম্রাজ্যে অক্ষয়

অক্ষয় কুমার, বলিউডের সবচেয়ে ব্যস্ততম অভিনেতা তিনি। আয়ের দিক থেকেও কোনো অংশে পিছিয়ে নেই বলিউডের ‘থ্রি খান’-থেকে। একটা সময় বলিউডের ছবি মানেই ছিল অক্ষয় কুমারের উপস্থিতি। যদিও এখন কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন বাছ-বিচারহীন ছবিতে অভিনয় করা। এখন আর তাকে বি-ক্যাটাগরি ছবিতে অংশ নিতে খুব একটা দেখা যায় না। অথচ একটা সময়ে তিনি বছরে চার/পাঁচটি ছবিতেও অভিনয় করেছেন! ৯সেপ্টেম্বর ছিল বলিউডের এই ভার্সেটাইল অভিনেতার জন্মদিন।

ক্যারিয়ারের প্রথম দেকে মডেলিং দিয়ে যাত্রা করেছিলেন বলিউডের মত বিশাল ইন্ডাস্ট্রিতে। নব্বইয়ের দশকে অভিনয় জগতের সাথে তার পরিচয়। যদিও ‘ক্যারাতে’ কিংবা ‘মার্শাল আর্ট’-এই বেশী আগ্রহ ছিল তার। নব্বইয়ের দশকেও তিনি মার্শাল আর্ট শিক্ষা দিতেন। বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর মানুষ, ফলে শৃঙ্ক্ষলাবদ্ধ জীবনেই শৈশব আর কৈশোর কাটে তার। তবে প্রথম জীবনে গ্ল্যামার জগতের প্রতি কোনো আশক্তিই ছিল না। জীবনের লক্ষই ঠিক করে ফেলেছিলেন ‘কেরাতে মাস্টার’ হিসেবে! আর এর জন্য ‘হংকং’ থেকে আধুনিক কেরাতের উপর পড়াশুনাও করেছেন। আর এটা শিখতে কাজ করেছেন বিভিন্ন হোটেলে, হোটেল বয় হিসেবে।

মডেলিং দিয়ে বলিউডে পা রাখেন অক্ষয়

মডেলিং দিয়ে বলিউডে পা রাখেন অক্ষয়

এরপর ব্যাংককে থাকতে করেছেন ‘ওয়েটার’-এর কাজ। কিন্তু সুন্দর চেহারা, স্মার্ট লুকিং, কথা বার্তায়ও অন্যকে প্রভাবিত করে ফেলানোর ক্ষমতা তার ভাগ্যকে অন্যদিকে মোচড় কাটলো। তাই ওয়েটার বয়, আর কেরাতে মাস্টার থেকে একদিন মডেলিংয়ের জন্য নির্বাচিত হয়ে যান। তবে তার আগে মডেলিংয়ের জন্য তাকে বুদ্ধি দেন তারই কেরাতের এক ফটোগ্রাফার ছাত্র। যদিও অক্ষয়ের কোনো ইচ্ছাই ছিল না এ বিষয়ে। তার সমস্ত মনযোগ যেন কেরাতেকেই কেন্দ্র করে। কিন্তু ওই ছাত্রই সব ব্যবস্থা করে মডেলিংয়ে নিয়ে আসেন অক্ষয়কে।

অতঃপর মডেলিংয়ে সাফল্যও দেখতে শুরু করেন তিনি। একদিন ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব আসে, না মূল অভিনেতা হিসেবে নয়! বরং কেরাতে মাস্টার হিসেবেই। খুশিতে গদগদ অক্ষয়। মহেশ ভাটের ছবি ‘আজ’-এ কেরাতে ইনস্ট্রাকটর হিসেবে অভিনয় করেন প্রথমবার। কেরাতের সাথে অভিনয়ের অ্যাডভেঞ্চারটাও পেয়ে বসে অক্ষয়কে। কেরাতে, মডেলিং আর অভিনয় তাকে মোহমুগ্ধ করে তুলে। অন্যদিকে এমন স্মার্টলুকিং তরুণ পেয়ে উচ্ছ্বসিত নির্মাতা, প্রযোজকরাও। এরপর অভিনয় করেন ‘সুগন্ধ’ নামের একটি ছবিতে। যাতে অক্ষয়ের পারফর্মেন্সে মুগ্ধ হন সকলে। এরপরই নায়ক হিসেবে ছবি করেন অক্ষয়, ছবির নাম ‘ড্যান্সার’। তার বিপরীতে অভিনয় করেন কৃতি সিং ও মনিষ ভাল। যদিও ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে করা অভিনীত ছবিগুলো বক্স অফিসে খুব একটা ভালো করেনি, ফ্লপও করেছে অনেক ছবি। কিন্তু একসময় ঠিকই বলিউডে জায়গা করে নেন অক্ষয়।

মার্শাল আর্টের প্রতি মারাত্মক ঝোঁক ছিল অক্ষয়ের

মার্শাল আর্টের প্রতি মারাত্মক ঝোঁক ছিল অক্ষয়ের

প্রকৃতপক্ষে অক্ষয় কুমারের সবচেয়ে সাফল্য আসে তার অভিনীত পরের ছবি ‘খিলাড়ি’তে অভিনয় করে। যা ওইসময় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। শুধু তাই না, সেই ছবির গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফিরে। সিনেমার ক্যারিয়ারে অক্ষয় প্রথমে অ্যাকশনধর্মী ছবিকেই বেছে নেন। কারণ, কেরাতের জগত থেকে বের হয়ে ছবির জগতে অ্যাকশনধর্মীতাকেই অ্যাডভাঞ্চোর বলে মনে হয়েছে তার কাছে। ফলে দেখা যায় নব্বইয়ের দশকে অক্ষয়ের অভিনীত বেশীর ভাগ ছবিই অ্যাকশনে ভরপুর। দেদার, সৈনিক, কায়দা কানুন, মহড়া, ময়দান-ই-জঙ, শপথ, ইনসাফ:দ্য ফাইনাল জাস্টিস, বারুদের তার জনপ্রিয় সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য।

২০০০ সালে এসে অক্ষয় কুমারের মধ্যে একটা দারুণ পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। বৈচিত্রময় চরিত্রে অভিনয় করে আসে ব্যাপক সাফল্যও। অ্যাকশন ছাড়াও তাকে বেশীর ভাগ কমেডি ছবিতে অভিনয় করতে দেখা যায়, এছাড়াও তিনি বেশকিছু রোমান্টিক-ড্রামাতেও অভিনয় করেন। এরমধ্যে হে বেবি, বুল বুলায়া, বাগাম বাগ, ওয়েলকাম, সিং ইজ কিং, দে দনা দন, হাউজফুল উল্লেখযাগ্য।

চলতি বছরে অক্ষয় কুমার অভিনীত ছবি ‘ব্রাদার্স’ মুক্তি পেয়েছে।






মন্তব্য চালু নেই