মেইন ম্যেনু

হোভারবোর্ডে আগুন লাগে যে কারণে

যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য উন্নত দেশগুলোতে হোভারবোর্ড ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়ছে। ইউএস কনজ্যুমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন যুক্তরাষ্ট্রে এই পর্যন্ত ১২ টি দুর্ঘটনা রেকর্ড করেছে যার সবগুলোই ছিল হোভারবোর্ডের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিতে আগুন ধরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে। হোভারবোর্ডের কারণে ক্ষতি হয়েছে ২ মিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি।

প্রথমত, হোভারবোর্ডের মালিক এবং সাক্ষীদের স্বীকারোক্তি অনুসারে কিছু হোভারবোর্ডে আগুন ধরেছে চার্জ দেয়ার সময় এবং অন্যগুলো চালানোর সময়। এদের মধ্যে শুধুমাত্র একটি হোভারবোর্ড ওয়াশিংটন শপিং মলের ভেতরে একটি কিয়স্ক মেশিনের কাছে সাধারণ ভাবে রেখে দেয়ার সময় আগুন ধরে যায়।

ভয়ের বিষয় হল শুধু কোনো নির্দিষ্ট কারণেই হোভারবোর্ডে আগুন ধরে না। যদি আপনি হোভারবোর্ড কিনতে চান তাহলে আপনি এড়িয়ে যাবেন এমন কোন বিষয়ও এখানে নেই। বিশেষ কোন ব্র্যান্ডও নেই যা বাদ দিয়ে আপনি কিনবেন। সব গুলো হোভারবোর্ড চীন থেকে আসে। চীনের অভ্যন্তরীণ হাজারের বেশি আন্ত কারখানা গুলোতে হোভারবোর্ড তৈরি হয়। হোভারবোর্ডের বক্সগুলোতেও আগুন না লাগার কোন নিশ্চয়তা প্রদান করে না। এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় আগুন নির্বাপন সংস্থাগুলোও কোন নির্দেশিকা দেয় না।

আগুন ধরার কারণ খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় অফিশিয়াল ভাবে হোভারবোর্ডের বক্সে আসা চার্জার দিয়ে হোভারবোর্ডটিকে চার্জ করার কথা উল্লেখ করা থাকে। সাধারণ জ্ঞান দিয়ে চিন্তা করলে আপনি দেখবেন যে প্লাগে আপনি হোভারবোর্ডটি চার্জ দেবেন সে প্লাগে অন্য কোন ডিভাইস একই সময়ে চার্জ দিলে হোভারবোর্ডটিতে আগুন ধরে যেতে পারে। ল্যাপটপের চার্জার এবং হোভারবোর্ডের চার্জার দেখতে একই রকম হওয়াতে অনেকে ল্যাপটপের চার্জার দিয়ে হোভারবোর্ড চার্জ দিয়ে থাকেন। ফলে দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়।

অন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো ওভার চার্জিং। অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি গুলোতে চার্জার সংযুক্ত থাকার পরেও চার্জ হয়ে গেলে ব্যাটারি চার্জ নেয়া বন্ধ করে দেয়। কিন্তু হোভারবোর্ডের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয় নি। এছাড়াও হোভারবোর্ডে ব্যবহার করা হয় লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি। ব্যাটারিটি যখন চার্জ হয়ে যায় তখন ব্যাটারি সেলের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং এর কারণে ইলেক্ট্রোলাইট বয়লিং সৃষ্টি হয় এবং এটি সেলের কেসিং এ ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন লেগে যায়।

এক্ষেত্রে উত্তম উপায় হলো ব্যাটারি এবং চার্জারের স্ট্যান্ডার্ড জেনে নেয়া। এগুলোতে কি নিরাপত্তার ছাড়পত্র রয়েছে কি না জানা গেলে দুর্ঘটনার হাত থেকে অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া যাবে। তবে অ্যামাজনের মত প্রসিদ্ধ ই-কমার্স সাইটগুলোতে মান নিয়ন্ত্রিত হোভারবোর্ড পাওয়া যায়। অ্যামাজন হোভারবোর্ড নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাটারি এবং চার্জারের স্ট্যান্ডার্ড মান ঠিক রেখে পণ্য নির্মানের পরামর্শ দিয়েছে।

ব্যাটারি এবং চার্জার ঠিক থাকার পরেও হোভারবোর্ড সংক্রান্ত দুর্ঘটনা দেখা দিতে পারে। কারণ ব্যাটারি এবং চার্জারকে সার্টিফায়েড করা গেলেও পুরো হোভারবোর্ডকে সার্টিফায়েড করার সুযোগ নেই।






মন্তব্য চালু নেই