মেইন ম্যেনু

হ্যালো সিটি: এক মাসে অভিযোগ প্রায় তিন হাজার, আসছে আরবিতেও

পুলিশের ‘হ্যালো সিটি’ অ্যাপসে আসছে জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার তথ্য। শুধু বাংলায় নয়, আরবি ও ইংরেজিসহ অন্যান্য ভাষাতেও এসব তথ্য আসছে। দেশ ছাড়িয়ে এখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকেও এই অ্যাপসে জমা হচ্ছে তথ্য। উদ্বোধনের মাত্র এক মাসের মাথায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের এই অ্যাপসে জঙ্গি, বিস্ফোরক ও মাদক, সাইবার ক্রাইমসহ নানা বিষয়ে দুই হাজার ৭৩৭টি অভিযোগ বা তথ্য জমা পড়েছে। অ্যাপসটি বিশেষভাবে জঙ্গি ও উগ্রবাদ দমনে তৈরি করা হলেও ভুক্তভোগী বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এখানে অভিযোগ করে তথ্য দিচ্ছেন । জঙ্গি সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো ছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে খতিয়ে দেখতে সরবরাহ করছেন কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা।

গত ৩১ জুলাই ‘হ্যালো সিটি’ নামের এই অ্যাপস উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। রাজধানীর মিন্টোরোডের ডিএমপি’র মিডিয়া সেন্টারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অ্যাপস-এ অভিযোগ কিংবা তথ্য জানানোর সুবিধাগুলোর বিস্তারিত তথ্য দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তথ্যদাতা নিজের পরিচয় গোপন রেখেই পুলিশকে তথ্য দিতে পারবেন এই অ্যাপসের মাধ্যমে। সাধারণ মানুষের আস্থার ও বিশ্বাসের বিষয়টি মাথায় রেখেই এই অ্যাপস তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তারা। দেশে এই অ্যাপসের রেটিং ৪.৬ হলেও দেশের বাইরে এর রেটিং ৫ এ ৫। গড় রেটিং পড়েছে ৪.৭। এক মাসে অ্যাপসটি ডাউনলোড হয়েছে প্রায় ২৯ হাজার ৮৪৩ বার।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিট সূত্র জানায়, অ্যাপসে আসা তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছেন গোয়েন্দারা। কারণ, অনেকে প্রতিপক্ষকে হয়রানির উদ্দেশ্যেও তথ্য দিচ্ছেন। কোনও মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন সেজন্য অ্যাপসে আসা তথ্য ও অভিযোগগুলো সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয়।

জানা গেছে, উদ্বোধনের এক মাসের মধ্যে অ্যাপসে তথ্য জমা হয়েছে দুই হাজার ৭৩৭টি। এরমধ্যে জঙ্গি সংক্রান্ত তথ্য পড়েছে ৭০৩টি। বোমা, এক্সক্লুসিভ ও মাদক সংক্রান্ত তথ্য জমা পড়েছে ৭৮৩টি। সাইবার ক্রাইম নিয়ে অভিযোগ পড়েছে ৬৩৮টি। ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিষয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে ৬১০টি। কোনও জটিলতা ছাড়াই তথ্যদাতা এই অ্যাপসের মাধ্যমে সন্দেহভাজন জঙ্গি তৎপরতার ছবি, অডিও এবং ভিডিও পুলিশকে পাঠাতে পারেন। অ্যাপসে দু’টি অপশনই আছে। কেউ যদি নিজের নাম দিয়ে তথ্য দিতে চান সেই সুযোগও রয়েছে। আবার কেউ যদি নিরাপত্তার স্বার্থে নাম ও ঠিকানা দিতে না চান সেই সুযোগও রয়েছে।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন জানান, জঙ্গি ও উগ্রবাদ, সাইবার ক্রাইম, বোমা, বিষ্ফোরক, অস্ত্র, মাদক, আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও জালিয়াতি এবং মোস্ট ওয়ান্টেড ব্যক্তি সম্পর্কে এই অ্যাপসে খুব সহজেই মানুষ তথ্য দিতে পারবেন। অনেকেই দিচ্ছেন। তিনি বলেন, অনেক সময় মানুষ হয়রানিসহ নানা কারণে তথ্য দিতে চান না। তথ্যদাতার পরিচয় পুরোপুরি গোপন রাখার স্বার্থে অনেক চিন্তাভাবনা করে এই অ্যাপস তৈরি করা হয়েছে।এতে ব্যাপক সাড়াও মিলেছে। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী তারা অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে নিচ্ছেন।

এডিসি ছানোয়ার বলেন, বাংলাদেশের বাইরে আয়ারল্যান্ড, ইতালি, মালেয়েশিয়া এবং ওমান থেকে অভিযোগ আসছে বেশি। এছাড়া সৌদি আরব, আরব আমিরাত, আমেরিকা, কুয়েত, ভারত, বাহরাইন ও ইরান থেকেও জঙ্গি ও ট্রান্সন্যাশনাল অপরাধ বিষয়ে তথ্য পাচ্ছেন তারা। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ও আরবি ভাষায়ও অভিযোগ আসছে এই অ্যাপসে। আরবি ভাষার অভিযোগগুলো তারা অভিজ্ঞ লোকদিয়ে অনুবাদ করে নিচ্ছেন। তিনি বলেন, এই অ্যাপসের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে ব্যাপকভাবে জনগণকে সম্পৃক্ত করা।






মন্তব্য চালু নেই