মেইন ম্যেনু

১০৪ বছর বয়সে মারা গেলেন বিশ্ব জয়করা কুমিল্লার সন্তান সেই পকেট হারকিউলিস

চলে গেলেন সাবেক বিশ্বশ্রী, চির যুবক বডিবিল্ডার মনোহর আইচ। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০৪ বছর। আজ ৫ জুন রবিবার বিকাল পৌনে চারটা দিকে কলকাতায় নিজের বাড়িতেই মৃত্যু হয় পকেট হারকিউলিসের।

বয়স সেঞ্চুরি পেরোলেও প্রতিদিন নিয়ম করে ঘণ্টা দেড়েকের শরীরচর্চা। সুষম ডায়েট। এগুলোর কোনোটাতেই কোনো কমতি ছিল না। জীবনের শেষদিন পর্যন্ত শরীরের প্রতি কোনো অযত্ন করেননি সাবেক বিশ্বশ্রী। তবে, দিনকয়েক ধরে সেই শরীরটাই সঙ্গ দিচ্ছিল না তার। বার্ধক্যজনিত কারণে বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন ১০৪ বছরের এই নবীন প্রাণ। অবশেষে হার মানতে হল। রবিবার নিজের বাগুইআটির বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

১৯১২ সালের ১৭ মার্চ অবিভক্ত বাংলাদেশের কুমিল্লার এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন মনোহর আইচ। ছেলেবেলা থেকেই কুস্তি, ভারত্তোলনের উপর তার আগ্রহ ছিল অপরিসীম। সুগঠিত শরীরের লক্ষ্যে ছোটবেলাতেই ভর্তি হয়ে যান রূপলাল ব্যায়াম সমিতিতে। এরপর ঢাকায় থাকাকালীন ফিজিক অ্যান্ড ম্যাজিক নামে একটি প্রদর্শনীতে পিসি সরকারের সঙ্গে শারীরিক কৌশল প্রদর্শন করে সুখ্যাতি অর্জন করেন।

শারীরিক সৌষ্ঠবই ছিল তার জীবনের অন্যতম নেশা। ঈর্ষণীয় শরীরের জন্য তত্‍‌কালীন ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের প্রশংসার পাত্র ছিলেন। তবে দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে কখনো কোনো আপোস করেননি। এক ব্রিটিশ কর্মকর্তাকে চড় মেরে একবার তাকে কারাবরণও করতে হয়েছে। তবে, জেলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকে শরীরচর্চা করতে দেখে অবাক হয়ে যান ইংরেজরা। তার অধ্যাবশায় দেখে বিশেষ খাবার-দাবারেরও ব্যবস্থা করেন তারা।

১৯৫০ সালে মাত্র ৩৭ বছর বয়সে মিস্টার হারকিউলিস খেতাব জেতেন। উচ্চতায় তিনি ছিলেন মাত্র ৪ ফিট ১১ ইঞ্চি। এজন্য তিনি পকেট হারকিউলিস হিসেবেও পরিচিত। এর পরের বছর মিস্টার ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান পেলেও, সেরার শিরোপার জন্য তাকে বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৯৫২ সালে তিনি জিতে নেন বিশ্বশ্রীর সম্মান। এরপর ১৯৫৫ ও ৬০ সালে মিস্টার ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় তিনি যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ স্থান অধিকার করেন।

মাংসপেশির উপর নিয়ন্ত্রণ, সারা পৃথিবী ঘুরে শারীরিক কসরত প্রদর্শন, ৩০০ কিমি স্কোয়াট – এসব নানা কীর্তিতে মহিমান্বিত মনোহর আইচ শেষ বয়স পর্যন্তও অংশ নিয়েছেন বডি বিল্ডিং-এর নানা প্রদর্শনীতে। তার ফিট বডি হয়ে উঠেছে আধুনিক প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। তার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ ক্রীড়ামহল। মনোহর আইচের মৃত্যু হলেও, সুন্দর শরীরের জন্য অধ্যাবশায়ের যে অনন্য নজির তিনি গড়ে গিয়েছেন, তা অমর হয়ে থাকবে গোটা দেশবাসীর মনে। পকেট হারকিউলিসকে আমাদের তরফে রইল শেষ শ্রদ্ধা।






মন্তব্য চালু নেই