মেইন ম্যেনু

১০ টাকা কেজির চালের তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম!

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় সরকারঘোষিত ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের তৈরি তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নাম পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার পঞ্চক্রোশী ইউনিয়ন পরিষদের এক হাজার দুস্থদের তালিকা তৈরি করে চেয়ারম্যান ফিরোজ শেখ স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেন। তালিকা অনুযায়ী এক হাজার কার্ড তৈরি হয়। আর চাল বিতরণের জন্য দুজন ডিলার নিয়োগ করা হয়। কিন্তু চাল দেওয়ার সময় ডিলার ফেরদৌসী বেগমের কাছে দেওয়া তালিকায় চারজন মৃত ব্যক্তির নাম ধরা পড়ে।

জানা গেছে, চেয়ারম্যান নিজেকে বাঁচাতে প্রায় তারপক্ষের ৭০-৮০ জন দরিদ্রকে ডিলার ফেরদৌসী বেগমের কাছ থেকে চাল নিতে বাধা দেন। আবার কিছু সুবিধাভোগীকে তিনি কৌশলে অবলম্বন করে আরেক ডিলার আইয়ুব আলী ফরিদের কাছ থেকে চাল নেওয়ার জন্য বাধ্য করেন।

ডিলার ফেরদৌসীর ম্যানেজার মিঠুন জানান, খাদ্য অফিস থেকে সরবরাহ করা তালিকায় শুকুর আলী, মোহাম্মদ, শহিদুল ও সাইফুল নামে চারজন মৃতব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে।

সুবিধাভোগী আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমরা ডিলার আইয়ুব আলী ফরিদের কাছ থেকে চাল নিয়েছি। পরে জানতে পারলাম আমাদের তালিকা ডিলার ফেরদৌসীর কাছে।’

এ বিষয়ে ডিলার আইয়ুব আলী ফরিদ জানান, তালিকায় একটি ওয়ার্ডের দরিদ্রদের নাম বাদ পড়েছিল। পরে চেয়ারম্যান সুপারিশ করে কয়েকজনকে চাল নিয়ে দেন।

এ বিষয়ে ডিলার ফেরদৌসী বেগমের স্বামী নজরুর ইসলাম ভুট্টো বলেন, ‘চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন নিয়ে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে মতবিরোধ ছিল। এ ছাড়া তিনি আমার কাছে ১০০টি সাদা কার্ড চেয়েছিলেন। কিন্তু দেওয়া হয়নি। তা ছাড়া তালিকায় মৃত ব্যক্তিদের নামের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। আর এসব কারণেই নিজেকে বাঁচাতে এবং আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে ফাঁসানোর জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে।’ তিনি আরো জানান, চাল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন সুবিধাভোগীরা এসে দোকানের সামনে ভিড় করছে।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ শেখ বলেন, ‘আমি কোনো তালিকা করিনি। শুধু স্বাক্ষর করেছি।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সন্দীপ কুমার জানান, মৃত ব্যক্তির পাশাপাশি কিছু ভুয়া লোকের নামই তালিকায় রয়েছে। এ জন্য চাল বিতরণ বন্ধ রয়েছে। আগামী রোববার তদন্তের পর বিষয়টি সুরাহা করা হবে।






মন্তব্য চালু নেই