মেইন ম্যেনু

১০ টাকা ঘুষ নিয়ে তুলকালাম

ঘুষের পরিমাণ দশ টাকা। কিন্তু ঘটনা লাখ টাকার। এ দশ টাকা ঘুষ না পেয়েই একজন আনসার সদস্য এক রিকশা চালককে পিটিয়ে বেহুশ করেন। আর তাতে ক্ষেপে যান স্থানীয় লোকজন। তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে পাল্টা আনসারকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেন। অবশেষে দৌড়ে একটি ভবনে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পান ওই আনসার সদস্যটি। পরে পুলিশ এসে দুজনকেই পাঠায় হাসপাতালে। এ ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর পান্থপথে বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে।

জানা গেছে, মিরপুর রোড ভিআইপি রোড হওয়ায় সেখানে রিকশা চলাচল করতে পারে না। এ জন্য মিরপুর রোডের সঙ্গে যুক্ত যেসব সড়কে রিকশা চলাচল করে, সেসব সড়ক থেকে মূল সড়কে রিকশা আসতে বাধা দেয় ট্রাফিক পুলিশ। এ জন্য বিভিন্ন মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন থাকে আনসার সদস্যরা। পান্থপথের এ সড়কটিও মিরপুর রোডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় রাসেল স্কয়ার অভিমুখে রিকশা চলাচলে বাধা দেয় ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। যদিও প্রায়শ ৫-১০ টাকার উৎকোচ নিয়ে রিকশা চলতে দেন আনসার সদস্যরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজধানীর পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালের উল্টোপাশে আনসার সদস্য আল ইসলাম কর্তব্যরত ছিলেন। রিকশাচালক হোসাইন সেপথ দিয়ে মিরপুর রোডের দিকে যাবার সময় তাকে থামানোর জন্য ইশারা দেন আল ইসলাম। রিকশাচালক না থেমে সামনে এগিয়ে যান। দৌড়ে রিকশার গতিরোধ করেন আল ইসলাম। এক পর্যায়ে রিকশাচালককে হাতের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পিটুনি দেন আনসার সদস্য। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে যান রিকশাচালক হোসাইন। রিকশাচালক অজ্ঞান হয়ে পড়লে সেখান থেকে সরে যান আনসার সদস্য আল ইসলাম। আহত রিকশাচালককে প্রহারের ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় লোকজন আনসার সদস্যকে ধরে গণপিটুনি দেন। এতে তারও মাথা ফেটে যায়। আনসার আল ইসলাম সেখান থেকে দৌঁড়ে পালিয়ে পাশের একটি ভবনে গিয়ে আশ্রয় নেন।

স্থানীয় জনতার প্রহারে আহত আনসার সদস্য আল ইসলামঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী রিকশাচালক শাহজাহান বলেন, রিকশাচালককে মারতে দেখে স্থানীয় লোকজন আনসার সদস্যকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। এই পথ দিয়ে রিকশা চলা নিষেধ হলেও আনসার সদস্যদের টাকা দিলেই যাওয়ার অনুমিত মেলে। সেই রিকশা চালক টাকা না দেওয়ায় মার খেয়েছেন। প্রায়ই আনসার সদস্যরা টাকা না দিলে রিকশাচালকদের মারধর করেন।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আসলাম বলেন, ‘এখানে প্রায়ই রিকশাচালকদের সঙ্গে আনসারদের ঝামেলা হয়। তারা টাকা দিলেই রিকশা ছেড়ে দেন। না দিলেই রিকশা যেতে দেন না, মারধর করেন।

আসলাম আরও বলেন, আজকেও (বুধবার) আনসার সদস্য টাকার জন্য রিকশা চালককে মেরেছেন। রিকশাচালককে মারায় ক্ষিপ্ত জনতাও আনসার সদস্যকে মারধর করেন। পরে আনসার সদস্য দৌঁড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ এসে দুজনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।’

আহত রিকশা চালক হোসাইন বলেন, আমার কাছে আনসার সদস্য ১০ টাকা চেয়েছিলেন, আমি না দিয়ে চলে যাওয়ায় আমাকে লাঠি দিয়ে পিঠিয়েছেন। মাথায়, পায়ে লাঠি দিয়ে মেরেছেন।

তবে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনও কথা বলেননি আনসার সদস্য আল ইসলাম।

ঘটনাস্থলে থাকা কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরাও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।






মন্তব্য চালু নেই