মেইন ম্যেনু

১২ বছরের বোনকে দিয়ে পাষন্ড বড় বোনের পতিতাবৃত্তি! (ভিডিও)

শুরুতেই আপনাদের একটু ভাবতে বলবো, ধরুন আপনার আদরের ছোট বোন স্বপ্ন দেখছে বড় হয়ে ডাক্তার হবে। কিন্তু বাবা-মায়ের সামর্থ্য নেই। এখন ভরসা একমাত্র আপনি। পাঠক গ্রাম থেকে বাবা-মা আপনার কাছেই পাঠিয়েছে। ভেবে দেখুনতো এখন আপনি কি করবেন?

পাঠক আর যাই করেন নিশ্চই পড়াশুনা বাদ দিয়ে তাকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করাবেন না। কিন্তু ১২ বছরের ছোট বোনকে দিয়ে তাই করিয়েছে পাষন্ড এক বড় বোন। এরকম একটি সত্যি ঘটনা নিয়ে আজকে আমাদের আয়োজন।

অন্তু। বয়স ১২ বছরের একটু বেশী। গ্রামের বাড়ী চাদঁপুর। বাবা-মা যাকে পড়াশুনা করতে ঢাকা পাঠিয়েছিলেন বড় বোন মাফিয়ার কাছে। আর সেই বোনই কিনা অন্তুকে ২০০০ টাকার বিনিময়ে ৩৫ বছরের এক যুবকের কাছে দিয়ে দিলেন ঘন্টাখানিকের জন্য। কেন? সেটি নিশ্চই বলার প্রয়োজন নেই। কিন্তু অন্তুর স্বপ্ন পড়াশুনা করবে, নিজেকে ডাক্তার হতে হবে। সেই স্বপ্ন পূরনে যে এমন চড়া মূল্য দিতে হবে, সেটি জানা থাকলে হয়তো এমন স্বপ্ন মরে গেলেও দেখতো না অন্তু।

অন্তুর সাথে কথা হয় আমাদের। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এখানে আসে কারা? জবাবে অন্তু বলেন, আমি তাদের নাম জানিনা। আবার তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কি করে তারা? জবাবে অন্তু বলেন, এসে কাজ করে, কইরা চইলা যায়।

অন্তুর এই অন্ধকার জীবনে পা দেয়ার বয়স ২ মাস। কিন্তু প্রথম দিনের সেই দুঃসহ যন্ত্রনাদায়ক অভিজ্ঞতা সে আজও ভুলতে পারেনি।

এই পতিতাবৃত্তি করার প্রথম দিনের সেই দুঃসহ যন্ত্রনাদায়ক অভিজ্ঞতা নিয়ে অন্তু বলে, আপু বলছে তুমি এই ভাইয়াটার সাথে একটু কথা বলো আমি আসতেছি, বলে চলে গেছে।

লজ্জার কারণে সে মাকে এসব কথা খুলে বলতে পারেনি।

তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, বাসায় জানে? জবাবে অন্তু বলেন, না। তাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হয়, বাড়িতে কি বলে আসো? অন্তু বলে, পড়াশুনার জন্য। আমি আমার অঅম্মুর কাছে কিছু বলিনি।

অন্তুর বোন মাফিয়া। গ্রামে ২বার বিয়ে হওয়ার পর ঢাকায় এসে সবশেষ পরিচয় হয় বাবু নামে একজনের সাথে। মূলত বাবুর কথাতেই মাফিয়া এই পথে পা বাড়ায়। বাবুর সাথে মাফিয়ার বিয়ে হওয়ার পর গ্রাম থেকে মাস দুই আগে নিজের ছোট বোন অন্তুকে আনার পর সবশেষ ভাগ্নি মনিরাকে এ পথের সাথে পরিচয় করায় মাফিয়া। মনিরার বয়স এখন মাত্র ৮বছর।

মনিরাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তোমার আব্বু এসব জানে? জবাবে মনিরা বলে, না, আমার আব্বু এগুলা জানে না। তাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হয়, না জেনে তোমাকে পাঠাইলো পড়াশুনা করতে আবার বাড়ির কেউ জানে না? জবাবে সে (মনিরা) বলে, হ্যা বলছে, তারপর আমার আম্মা বকা দিছে আব্বুরে।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। মাফিয়াকে না জানিয়ে অন্তুর দুলাভাই, অর্থাৎ মাফিয়ার স্বামী বাবু নাকি অন্তুকে বিক্রি করারও চেষ্টা করেছিল। আর তাতেই নিজের বিবেক নাড়া দেয় বাবুর বাসায় আসা-যাওয়া আছে এমন একজনের। অন্তুকে উদ্ধারের আশায় ওই মেয়েই আমাদেরকে এসব তথ্য জানান।

কিভাবে কি ঘটলো তা জানতে চাইলে ওই মেয়ে আমাদেরকে জানান, ওখানে যাওয়ার পরে ওই মেয়েটা (অন্তু) আমাকে ইশারা দিয়ে ডাক দিয়েছে, কথা বলতে চাইছে। কথা বলার পরে ওই মেয়েটা (অন্তু) আমাকে সব খুলে বললো। এরকম প্রবলেম হইছে, এই সমস্যা, ও এই ধরণের পরিবেশে আছে, ওর আপন বোন ওকে দিয়া কাজ করাইতে চাইছে, এগুলা মেয়েটা আমাকে নিজেই বলছে। পরে মেয়েটা আমাকে লাস্ট টাইম যখন নিজেই ফোন দিছিলো বাহির সাইট থেকে, মেয়েটা বলছে যে ওকে নাকি বাহিরে পাঠাইয়া দেওয়া হবে। এখন সেটা বিক্রি করে দিবে না ওকে কাজের জন্য পাঠানো হবে সেটাতো আমাকে খুলে বলতে পারেনাই। তাও বলছিলো ওকে বাংলাদেশের বাহিরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

তার পরামর্শ এবং কৌশল অবলম্বন করে আমরাও গ্রাহক হিসিবে বাবুকে ফোন করি। কিন্তু অপরিচিত বলে মাফিয়ার স্বামী বাবু প্রথমে আমাদেরকে যেতে দিতে রাজি হয়নি। পরে বাবুর বান্ধবী নিশির নাম বলায় সে বলে আমি ঢাকার বাইরে আছি, পরে আসেন।

পরে অবশ্য বাবুর চেনা-জানা একজনের পরিচয় দিলে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি মেলে। পরে সে বাসার ঠিকানা দিয়ে আসতে বলে।

বাবুর বান্ধবী ঠিক যেভাবে বলেছিল, সব কিছু সেভাবেই হয়েছে। কিন্তু এলোমেলো অন্তুর জীবনের গল্প যেন পাহাড়ের চেয়েও দুর্গম, পাথরের চেয়েও কঠিন মনে হচ্ছিল।

তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কি বলেছিলা নিশি আপুকে? জবাবে সে বলে, এখানে আমি থাকবোনা আমাকে নিয়ে যান।

অসহনীয় এ জীবন থেকে অন্তু মুক্তি চায়। নিজেকে মুক্ত করতে চায় নিজের বড় বোনের বন্দি নরক থেকে।

তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তোমার কি এগুলো করতে ইচ্ছে করে? জবাবে সে বলে, না।

পাঠক অন্তুর জীবনের এই করুণ পরিনতি জানার পর আপনাদের কি মনে হয়েছে তা জানিনা। কিন্তু আমাদের মনে হয়েছে অন্তুকে উদ্ধার করা প্রয়োজন। অন্তুকে পাচারের হাত থেকে বাচাঁনোর জন্য যা যা করা প্রয়োজন আমরা তাই করেছি।

এসব তথ্য জানার পর আমরা অন্তুকে উদ্ধারের জন্য পুলিশের সহায়তা চাইলে পুলিশ তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।

উদ্ধারের দিনঃ সন্ধে ৬টা। পুলিশের সাথে মাফিয়ার বাসায় আমরা। তখন ওই বাসার অন্য এক বাসিন্দাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এই বাসায় বাবু নামে কেউ থাকে? জবাবে সে বলে, জ্বী থাকে। তাকে আবার জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনি কি তাকে দেখেছেন? জবাবে সে বলে, এই কিছুক্ষণ আগে বের হয়ে গেছে।

বাসার ভেতরে আমাদেরকে দেখে চমকে উঠেন মাফিয়া। অথচ মাত্র ২ঘন্টা আগের ঘটনা অস্বীকার করেন সে (মাফিয়া) বলেন, আমি এখানে কোন কিছুই করি না। আমি বাসার ভেতরে তোন লোকজন তুলিনা, কোন লোকজন আনিনা বাসায়।

বাইরের মেয়েদেরকেও পাওয়া যায় মাফিয়ার এই বাসায়। আর ছেলেদের সাথে যোগাযোগের কাজটি করেন তার স্বামী বাবু।

তখন অন্য একটি মেয়ের সাথে কথা হয় আমাদের। মেয়েটির নাম ফারজানা। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় কি করেন এখানে? জবাবে সে কিছু বলেনি।

ফারজানা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয় মাফিয়াকে। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এখন যে মেয়েটা আপনার বাসায় আছে সে কেন আসছে? সে কে? জবাবে মাফিয়া বলে, সে কে তাকে আমি চিনিনা, অন্য এক লোকের মাধ্যমে তাকে আনা হইছে। আমি বলেছিলাম আমি তোমাকে দেখি, পরে আমি তোমাকে ওই লোকের কাছে পাঠিয়ে দিব, কিন্তু পরবর্তীতে যদি আমার প্রয়োজন হয় তাহলে অন্য কোথাও পাঠাবো তোমাকে।

মাফিয়াকে জিজ্ঞাসা করা হয়, পাঠানোর কাজটা আপনি করেন? জবাবে সে বলে, হ্যা।

মূলত মাফিয়ার বাসাটি এসব অপকর্মের জন্যই ব্যবহার করা হয়। মাফিয়ার কাজ দুই পক্ষের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া। এ সম্পর্কে মাফিয়া বলেন, দেখা গেছে যে আমি যদি গেষ্টের কাছ থেকে ৫০০০ নিয়ে দেই, ওই মেয়েকে আমি ৩০০০ দিয়ে দেই এবং অন্য যার মাধ্যমে আসে তাকে ১০০০ দিতে হয় আর আমার ১০০০ থাকে।

তাকে (মাফিয়া) আবার প্রশ্ন করা হয়, আর বাসা যদি ব্যবহার করতে চায় সেক্ষেত্রে কত টাকা নেন? জবাবে সে বলে, আমার বাসা যদি কেউ ব্যবহার করতে চায় আমি সহজে কাউকে আনি না আর তারপরেও আসে তাহলে আমাকে রুমভাড়া বাবদ ১০০০টাকা দিয়ে যায়।

আর মেয়েদের পাওয়া না গেলে মাফিয়া নিজেই এই কাজটি করেন। তখন আবার পুরোটাই তার।

মাস তিনেক আগে মাফিয়ার বাচ্চা হওয়ার কারণে আপাতত সে এই কাজ করতে না পারায় নিয়ে আসে অন্তুকে। বয়স কম হওয়ার কারণে ছোট বোন অন্তুর চাহিদাও নাকি অনেক।

নিজের আপন বোনকে দিয়েও কেন এইসব ঘৃন্য কাজ করানো হয় সেই প্রশ্নেরও উত্তর হিসেবে মাফিয়া বলেন, ওর পড়াশুনার খরচ যোগানোর জন্য এই লাইনের সাথে জড়িত হয়েছে ২মাস যাবৎ।

এই কাজের উৎসাহ দিতে মাফিয়া তার আপন বোন অন্তুকে বলেন, অনেকেই এসব করতেছে, এখন যদি তুমি এসব করো তাহলে তোমার টাকা দিয়ে নিজের লেখাপড়া চালাইয়া নিতে পারবা।

এক পর্যায়ে মাফিয়া সবকিছু শিকার করতে বাধ্য হয়। এরপর পুরো বাসায় শুরু হয় পুলিশের তল্লাশি। পরিস্থিতি দেখে বোঝা যায়, যৌনকর্মের পাশাপাশি সেখানে চলে আরো অন্য অপকর্ম। পরে পুলিশ তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে অন্তুকে রাখা হয়েছে ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে।

পাঠক এতক্ষন যা বললাম এটা কোন সিনেমার কাহিনি না। এটি আমাদের চোখের আড়ালে ঘটে যাওয়া সর্ম্পূর্ণ একটি সত্যি ঘটনা। পাঠক ভবতে বলেছিলাম আপনার ছোট বোনের দায়িত্ব দেওয়া হলে আপনি কি করবেন? নিশ্চই এতক্ষনে কিছু একটা ভেবেছেন। একটু মিলিয়ে দেখুনতো মাফিয়ার ভাবনার সাথে আপনার ভাবনা মিলছে কিনা? হয়তো মাফিয়াও এমনটি ভাবেনি। কিন্তু তাকে এ কাজ করতে উৎসাহ যোগিয়েছে তার স্বামী বাবু।

চলুন পাঠক এবার ঘুরে আসি অন্তুর গ্রামের বাড়ি থেকে। মাফিয়ার কাছ থেকে ঠিকানা নিয়ে আমরা অন্তুর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্য রওয়ানা হই। কিন্তু মাফিয়া যেই ঠিকানা দিয়েছিল ওই এলাকায় ওই নামে কেউ থাকে না।

স্থানীয় এক দোকানদারকে মাফিয়ার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সে বলে, এই নামে কাউকে আমি চিনি না। তাকে জিজ্ঞাসা করা কারা হয়, আপনি কি স্থানীয়? জবাবে সে বলে, হ্যা।

তার মানে আমাদেরকে ভূল ঠিকানা দেওয়া হয়েছে। আমরা শেষ পর্যন্ত অনেক খোঁজাখুঁজির পর অন্তুর মামা বাড়ি খুজে পাই। অন্তুর মামা মজনু মিয়া মাফিয়ার সম্পর্কে জানেন, তার ভাগ্নি কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করেন, সেইরকম অবস্থা। ছোট বোনকে দিয়ে গেছেন ডাক্তার বানিয়েই ছাড়বেন!

মামার থেকে ঠিকানা নিয়ে আমরা খুঁজে পাই অন্তুর নিজের বাড়ি। অন্তুর মা ফরিদা বেগম। অভাবের সংসার, স্বামীর সাথে যোগাযোগ নেই কয়েক বছর। যে কারণে তার একমাত্র ভরসা বড় মেয়ে মাফিয়া। আর ভবিষৎ এর জন্য তাকিয়ে আছেন অন্তুর দিকে। ফরিদা বেগম এখনো ভেবে বসে আছেন ছোট মেয়ে ঢাকার অনেক বড় স্কুলে পড়েন। সংসারের সব অভাব একদিন সেই ঘোচাবে।

ফরিদা বেগমকে তার বড় মেয়ের কির্তি সম্পর্কে বললে তিনি বিশ্বাস করেননি।

বাবা-মা আপন মানুষের এমন স্বপ্নকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু যাদের কারণে অন্তুর জীবনের স্বপ্নগুলে আজ দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে, তাদের বিচার আমারা আপনাদের মতো আমরাও দেখতে চাই।

পাঠক এতক্ষন আমরা যেই অন্তু বা মাফিয়ার কারোই নাম বা ঠিকানা আসল নয়। সামাজিক মান-মর্যাদার কথা চিন্তা করে তাদের ছদ্ম নাম ব্যবহার করেছি। কিন্তু নাম না জানা এরকম হাজারো অন্তুর জীবন আজ মাফিয়া, বাবুদের কারণে যৌনপল্লীর চার দেয়ালে বন্দী। আসুন আমরা সবাই সোচ্চার হই।

ভিডিও:






মন্তব্য চালু নেই