মেইন ম্যেনু

১৫ মাস পর টেস্টে কেমন করবে টাইগাররা

সত্যিই ভাবতে অবাক লাগে। একটা সময় ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলগতভাবে শতরান পূর্ণ করতে বুক মাটিতে লেগে যেতো। সেই বাংলাদেশ আজ বিশ্ব ক্রিকেটে সমীহ জাগানোর মতো স্থান দখল করে আছে। র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথম সারির দলগুলো আজ টাইগারদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ভক্তরাও এখন আর বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নিয়ে হতাশায় ভোগে না। বরং সাকিব-মাশরাফি-মোস্তাফিজদের নিয়ে গর্ব করে।

এমন বাহবা পাওয়ার জায়গাটা একদিনে মেলেনি। বহু ত্যাগ আর ছড়াই উৎরাই পেরিয়েই বাংলাদেশ আজ নিজেদের এমন অবস্থান তৈরি করেছে। ক্রিকেটের তিনটি ফরমেটে সমানভাবে দক্ষ না হলেও একদিনের ক্রিকেটে সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্যতা রাখে মাশরাফিরা।

নিন্দুকেরা বলে বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেটে এখনও কাঁচা। পরিসংখ্যানও তাদের পক্ষেই কথা বলছে। ২০০০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৯৩টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। যার মধ্যে ৭টি জয় আর ৭১টি ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা। সর্বশেষ গত বছর জুলাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। ১৫ মাস পর ইংল্যান্ড সিরিজ দিয়ে আবার টেস্টে ফিরছে বাংলাদেশ।

এতো দীর্ঘ সময় পর সাদা পোশাকে ফের মাঠে নেমে কেমন করবে বাংলাদেশ। এমন প্রশ্ন রীতিমত ঘুরপাক খাচ্ছে ভক্তদের মনে। তারউপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এখনও জেতা হয়নি টেস্ট ম্যাচও। ইংলিশদের সঙ্গে ২০০৫ এবং ২০০৯ সালে দুটি করে ৪টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। যেখানে জয়ের মুখ দেখা হয়নি মুশফিক-নাসিরদের। কিন্তু টাইগারদের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের আশা ইংলিশদের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। ‘অবশ্যই আমরা ইতিবাচক। আমার ধারণা, এটা খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজ হবে। আমাদের সঙ্গে খেলতে রাজি হওয়ায় ইসিবিকে ধন্যবাদ।’

২০০০ সালের ১০ নভেম্বর। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের পথচলা শুরু। হাঁটি হাঁটি পা পা করে টেস্ট ক্রিকেটে এক যুগ পার করল বাংলাদেশ। দুর্জয়-বুলবুলদের থেকে আজ মুশফিক-সাকিবদের কাঁধে দায়িত্ব। এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় টেস্টে বাংলাদেশের প্রত্যাশার বিপরীতে অর্জনের পাল্লাটা নেহায়েতই কম নয়।

১০ই নভেম্বর বাংলার মাটিতে প্রথম গড়ায় টেস্ট বল। এই ম্যাচেই দৃঢ়চেতা বাঙ্গালীর মুন্সিয়ানা দেখলো সারা বিশ্ব। শুরু করলেন বুলবুল, শতক হাঁকিয়ে ১৪ কোটি হৃদয়ে স্বপ্নের জাল বুনে দিলেন। শুধু ব্যাট উঁচু করতে না, পাকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাট্রিক করে অলোক কাপালি জানান দিলেন নিজেদের ক্ষমতা।

বাধা এসেছে বার বার, টাইগাররা পেরিয়ে গেছে শত বাধা। হবে না, পারবে না বলে যখন মুখে তুবড়ি ছুটিয়েছে ক্রিকেটের শাসক শ্রেণী, তখনই ব্যাট আর বলে জবাব দিয়েছে বাংলার ছেলেরা।

হাজারো প্রতিকূলতার বাঁধ ভেঙ্গে টাইগাররা এগিয়ে গেছে দুর্বার গতিতে। বাঘের গর্জন শুনিয়েছে সারা বিশ্বকে। ঐ বুলবুল-দুর্জয়দের দেখানো পথে এখন ক্রিকেট দুনিয়ায় মাইলের পর মাইল পাড়ি দিচ্ছেন সাকিব-তামিমরা। অভিজাত লর্ডসে সেঞ্চুরি করে অনার্স বোর্ডে বাংলাদেশের নাম লিখে দিয়েছেন তামিম ইকবাল। বিদেশের মাটিতে বাংলার পতাকা উড়িয়ে এসেছেন সাকিবও।

হাজারো টুকরো টুকরো গল্পে ক্রিকেট ইতিহাসে একটা অধ্যায় সাজিয়েছে এ দেশের ক্রিকেটেররা। আসছে ইংল্যান্ড সিরিজে আরও ভালো কিছুর প্রত্যাশায় দেশের লক্ষ-কোটি ক্রিকেটভক্তরা। এতো কেবল শুরু, কোটি হৃদয়ের ভালোবাসার শক্তিতে গোটা পৃথিবীকে জয় করুক বাংলার ক্রিকেট, বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এমন আশা আর স্বপ্নকে বুকে লালন করছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা।






মন্তব্য চালু নেই