মেইন ম্যেনু

১৫ হাজার হজযাত্রীর যাত্রা অনিশ্চিত

ভিসা এবং বিমানের টিকিট নিশ্চিত না হওয়ায় প্রায় ১৫ হাজার হজযাত্রীর হজযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে হজ এজেন্সিগুলো দুষছে ধর্মমন্ত্রণালয়কে আর মন্ত্রণালয় বলছে এজেন্সিগুলোর ব্যর্থতার কারণে এ অচলাবস্থা।

হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হাব এবং বিমান সূত্রে জানা গেছে, ১৪৩টি হজ এজেন্সির এই ১৫ হাজার হজযাত্রী কখন সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করতে পারবেন তা অনিশ্চিত। কারণ, ইতোমধ্যে অনেক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

হাব এর প্রেসিডেন্ট ইবরাহিম বাহার সাংবাদিকদের বলেন, ১৫ হাজার হজযাত্রীর ভিসা ইস্যু না হওয়ায় হজ এজেন্টরা টিকেট নিশ্চিত করতে পারেনি।

ভিসা না হওয়ার দায় তো এজেন্টদের, এমন প্রশ্নের জবাবে বাহার বলেন, ভিসার ব্যাপারে এজেন্টদের দায়বদ্ধতা নেই। এজন্য ধর্মমন্ত্রণালয় দায়ী, ভিসা না হওয়ার দায় মন্ত্রণালয়কে বহন করতে হবে।

এদিকে, শনিবার হজ পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগে হজ পরিচালক ও ধর্মমন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামালকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের আল্টিমেটাম দিয়েছে হাব।

বাহার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা একটা দুর্যোগ হবে যদি এতো বিপুল সংখ্যক হজযাত্রী হজে যেতে না পারেন। আমরা আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

অনুমোদিত সৌদি ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য হজ এজেন্টগুলো প্রয়োজনীয় ফি ধর্মমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করেছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে সময়মতো প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করার কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ ভিসা ইস্যু করেনি বলে হাবের প্রেসিডেন্টের অভিযোগ।

অভিযোগ অস্বীকার করে ধর্মমন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল জলিল সাংবাদিকদের বলেন, হজ এজেন্টরা সময়মতো টিকেট নিশ্চিত করতে না পারার কারণে ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, ৭২ হাজারের বেশি হজযাত্রী ভিসা পেয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ৫১ হাজার সৌদি আরব যেতে পেরেছেন। বাকিরা যেতে পারেনি এজেন্টরা টিকিট নিশ্চিত করতে না পারার কারণে।

তার মতে, ৪৮৩টি এজেন্সির মধ্যে ৩২৫টি হজযাত্রীদের জন্য ভিসা নিশ্চিত করতে পেরেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিমানকে অনুরোধ করেছি যেন ১০টি অতিরিক্ত ফ্লাইট ম্যানেজ করে দেয়। যাতে হজযাত্রীরা হজে যেতে পারেন।’

এ ব্যাপারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এম মোসাদ্দিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ইতোমধ্যে ১৪টি হজ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিমান অনেক লোকসানের মুখে পড়বে। ভিসা না পাওয়ায় শুক্রবারও ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিমানের এমডি বলেন, বিমানের ১৪টি ফ্লাইটে ৫ হাজার হজযাত্রীর সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল।

আমরা বাতিলকৃত ফ্লাইট পুনরায় ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি যাতে হজযাত্রীরা হজে যেতে পারেন। প্রয়োজনে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে হজযাত্রীদের যাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

হজ উপলক্ষে বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্সের যথাক্রমে ১৪৪টি ও ১০৭টি ফ্লাইট পরিচালনার আশা করা হচ্ছে বলে সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে হজ শুরু হতে পারে। এ বছর প্রায় ১ লাখ ১ হাজার ৭৫৮ জন হজযাত্রী হজে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ১০ হাজার মানুষ হজ করবেন সরকারি ব্যবস্থাপনায় আর বাকিরা বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হজ ফ্লাইটগুলো বাংলাদেশ ছাড়বে। ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে।






মন্তব্য চালু নেই