মেইন ম্যেনু

১৮ মাসের শিশুর ওজন ২২ কেজি !

১৮ মাসের একটা বাচ্চার ওজন কত হতে পারে বলুন তো? ভাবছেন এটা আবার কেমন প্রশ্ন হলো? আসলে ১৮ বছর বয়সী এক শিশুর যে ওজন তা শুনে রীতিমত অবাক না হয়ে পারবেন না। শিশুটির ওজন কত জানেন? ওইটুকুন শিশুর ওজন কিনা ২২ কেজি!

জন্মের পর থেকেই লাফিয়ে বাড়ছিল ওজন। রোগের লক্ষণ বলতে শুধু ছিল খিদে। কোনওভাবেই খাওয়া থামাতে পারত না শিশুটি। খাবার না পেলেই শুরু হত কান্না। লাগামছাড়া খাওয়ার কারণেই দেড় বছরের মধ্যেই তার ওজন গিয়ে ঠেকেছে ২২ কেজিতে! অতিরিক্ত ওজনের জন্য সে না পারে চলতে, না পারে বসতে।

ভারতের পুণের বাসিন্দা ওই শিশু শ্রীজিত হিঙ্গানকরের মা রূপালি জানান, জন্মের সময় শ্রীজিতের ওজন ছিল আড়াই কেজি। ৬ মাস বয়সে তার ওজন দাঁড়ায় ৪ কেজিতে। যখন তার বয়স ১০ মাস তখন তার ওজন ১৭ কেজি হয়ে যায়। এই ভাবেই ক্রমে বাড়ছিল তার ওজন।

শুধু অত্যধিক খাওয়া ছাড়া আর কোনও লক্ষণ না থাকায় প্রথম দিকে এই বিষয়টির মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকত্ব চোখে পড়েনি বাবা-মার। সমস্যা ছিল একটাই, বয়সের সঙ্গে ওজনের সামঞ্জস্য না থাকায় ১ বছর বয়স হয়ে যাওয়ার পরেও নিজে থেকে বসতে পর্যন্ত পারত না সে। চিন্তিত বাবা-মা শ্রীজিতকে নিয়ে পরে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হন ।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, শ্রীজিতের এই রাক্ষুসে খিদের জন্য দায়ী লেপটিন নামে এক হরমোন। শ্রীজিত আসলে এই হরমোন সংক্রান্ত একটি বিরল রোগে আক্রান্ত। তার দেহে লেপটিন হরমোনের অভাব রয়েছে। যার চিকিৎসা দেশে নেই।

চিকিৎসকরা জানান, লেপটিনের প্রভাবে একজন বুঝতে পারেন তার পেট ভর্তি হয়েছে কি না। পেট ভর্তি হয়ে গেলে মস্তিষ্ককে খাওয়া থামানোর সিগন্যাল দেয় এই হরমোন। শ্রীজিতের দেহে এই হরমোনের অভাব থাকায় খাওয়া থামানোর বিষয়টি বুঝতে পারে না সে। ফলে, সব সময় শুধু খেয়েই চলে। আর অতিরিক্ত খাওয়ার ফলেই লাফিয়ে লাফিয়ে ওজন বেড়ে চলেছে তার।






মন্তব্য চালু নেই