মেইন ম্যেনু

১৮ লাখ ভাড়াটিয়ার তথ্য পুলিশের হাতে

রাজধানীর আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সন্ত্রাসীসহ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বছরখানেক আগে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছিল ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এ লক্ষ্যে ২০ লাখ ১৫ হাজার ৩৭৪টি ফরম বিতরণ করে রাজধানীর ৪৯ থানা পুলিশ। তার মধ্যে ১৮ লাখ ৪ হাজার ৩১৯ বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার তথ্য পুলিশের হাতে জমা পড়েছে। ডিএমপি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকায় বসবাসরত নাগরিকদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি করছে ডিএমপি। এই তথ্যভাণ্ডারে ঢাকায় স্থায়ী এবং অস্থায়ীভাবে বাস করা ভূমির মালিক (বাড়িওয়ালা) এবং ভূমি ব্যবহারকারী (ভাড়াটিয়া) উভয়ের তথ্য থাকছে। যাতে সহজেই যে কোনো প্রয়োজনে পুলিশের তথ্য পেতে সমস্যা না হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ লাখ তথ্য ফরম হাতে পাওয়া মানে শুধু ১৮ লাখ মানুষের তথ্য নয়। এখানে একটি পরিবারের জন্য একটি তথ্য ফরম রয়েছে। আবার একজন ছিন্নমূল মানুষের ও মেসবাসী এক যুবকেরও তথ্য রয়েছে। একটি পরিবারে ১০/১২ জন পর্যন্ত সদস্য থাকতে পারে। গড়ে প্রতি তথ্য ফরমে ৪ নাগরিকের তথ্য পুলিশ হাতে পেয়েছে। সে হিসাবে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ মানুষের তথ্য পেয়েছে পুলিশ ।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বলেন, যারা ভাড়াটিয়া তারা যেখানেই থাকুন না কেন, তারা যদি সচেতন হোন এবং তাদের নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তবে আইনগত সুবিধা হয়।

‘আমাদের উদ্দেশ্য, ঢাকা মহানগর এলাকার নাগরিকদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জনমনে যেন স্বস্তি থাকে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ২০ লাখের উপরে ফরম পূরণ করেছি। ফরম হাতে পেয়েছি ১৮ লাখেরও উপরে। এর আগেও অনেক উদ্যোগ নিয়ে সাধারণ নাগরিকের ব্যাপক সহযোগিতা পেয়েছি। ভাড়াটিয়া সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।’

‘আমাদের লক্ষ্য রাজধানীর সব নাগরিকের তথ্য পুলিশের কাছে থাকবে। বিষয়টি দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ব্যাপার, তবে এক বছরেই প্রায় কোটি নাগরিকের তথ্য আমরা পেয়েছি। বাকিদের পেতে পুলিশিং অব্যাহত রয়েছে।’

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ভাড়াটিয়ার তথ্য একটি প্রক্রিয়াধীন বিষয়। নতুন ভাড়াটিয়া আসছেন। পুরাতন ভাড়াটিয়া যাচ্ছেন। তাই তথ্য সংগ্রহ সব সময় হালনাগাদের বিষয়। নতুন ভাড়াটিয়া আসুক আর পুরাতন ভাড়াটিয়া স্থানান্তরিত হোক না কেন, তাদের সবার তথ্য পুলিশের কাছে আসবে। নিজ এলাকায় প্রায় ২ লাখ তথ্য ফরম বিতরণের কথা জানান তিনি।

ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া কঠিন উল্লেখ করে ডিসি বিপ্লব বলেন, মাত্র ২০ শতাংশ ভাড়াটিয়া স্ব-উদ্যোগে তথ্য ফরম পূরণ করে পুলিশকে দিয়েছেন। বাকিদের তথ্য পুলিশকে ম্যান টু ম্যান ও বাসা মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেই তথ্য ফরম জমা ও সংগ্রহ করতে হচ্ছে। যে প্রচেষ্টা চলছে, তাতে মোটামুটি রাজধানীর প্রায় সবারই তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এটা শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।






মন্তব্য চালু নেই