মেইন ম্যেনু

১ দিনে ১৩টি ডিম দিল মুরগী

এই পৃথিবীতে কতই না আজব ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাটিও তেমন অবাক করার মত ঘটনা।ঘটনাটি ঘটেছে হবিগঞ্জে। ছবি দেখে যে কেউ বিভ্রান্তিতে পড়তে পারেন। মাথায় বড় ঝুঁটি আর অববয় দেখে হয়তো ভাবছেন এটি মোরগ। সত্যিই কি তাই! না। আসলে এটি একটি মুরগী।

শরীরিক অববয়ের মতো এর ডিম পাড়ার ক্ষমতাও অবিশ্বাস্য! শুনলে বিশ্বাসই করতে চাইবেন না কেউ। তারপরেও বিশ্বাস করতেই হবে। কারণ, একদিনে পর পর ১৩টি ডিম পেড়ে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে এই মুরগীটি।

আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই মুরগীটির মালিক হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পইল গ্রামের সৈয়দ মাইনুল হক আরিফ। তার বাবা উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদুল হক।

আরিফ জানান, গেল বছর সেপ্টেম্বরের মাঝামঝি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মুরগীটি প্রতিদিন তিনটি করে ডিম দিতে থাকে। প্রায় দেড় মাস বন্ধ থাকার পর চলতি বছর ৫ জানুয়ারি থেকে পুনরায় একাধিক ডিম পাড়া শুরু করে মুরগীটি এবং জানুয়ারি মাসের বুধবারে সর্বোচ্চ ১৩টি ডিম দেয়।

এমবিএ পাস করা আরিফ জানান, নেদারল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণী বিদ্যায় পিএইচডি করছেন তার আত্মীয় সৈয়দ সায়েম উদ্দিন। মুরগীটির ছবি ও বৃত্তান্ত জানিয়ে তাকে ই-মেইলে করেন।

জবাবে সায়েম উদ্দিন তাকে জানিয়েছেন, মুরগীটির জেনেটিক কোনো সমস্যা থাকতে পারে। যে কারণে ডিম ধরে রাখতে পারছে না। যে কোনো সময় মুরগীটির মৃত্যু হতে পারে।

আরিফের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি তার পোলট্রি ফার্মের জন্য গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে স্থানীয় অলিপুরের সিপি হ্যাচারী থেকে একদিন বয়সী ব্রাউন লেয়ার প্রজাতির দুই হাজার মুরগীর বাচ্চা কেনেন। পাঁচ মাস বয়সে ডিম পাড়ার কথা থাকলেও মুরগীগুলো ছয় মাস বয়েসে ডিম দিতে শুরু করে।

এ ব্যাপারে জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা: মাহবুবুল আলম জানান, প্রাণীদেহে যে গ্র্যাল্ড থাকে তা থেকে অতিরিক্ত হরমোন নিঃসরণ হওয়ায় প্রজনন ইন্দ্রিয়ের কার্যক্রমতা বেড়ে যাওয়ায় হয়তো মুরগীটি মাত্রাতিরিক্ত ডিম দিচ্ছে। তিনি জানান, খামারী যদি তার মুরগীটি পরীক্ষার জন্য দেন তাহলে এটিকে রোগ অনুসন্ধান গবেষণাগারে পাঠিয়ে সহজে এর কারণ জানাতে পারব।

সরকারিভাবে বা দেশে কোনো প্রাণী গবেষক এর উপর গবেষণা করতে চাইলে মুরগীটি দিতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন আরিফ।






মন্তব্য চালু নেই