মেইন ম্যেনু

২০১৪ সালের সিলেবাসে ১৬ সালের পরীক্ষা !

শরীয়তপুরের জাজিরায় একটি কেন্দ্রে ২০১৪ সালের সিলেবাস অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে পরীক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিব, সহকারী কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শকদের বহিষ্কার করে কারণ দর্শাতে বলেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

বৃহস্পতিবার জাজিরা উপজেলার বিকে নগর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে এ তথ্য জানা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিকে নগর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে উপজেলার আটটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ২০১৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিকে নগর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয় মূলকেন্দ্র আর বিকে নগর বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রসায়ন পরীক্ষা শুরুতেই শিক্ষার্থীদের মাঝে ভিন্ন সিলেবাসে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়।

ভিন্ন সিলেবাসে পরীক্ষা দেয়া বিকে নগর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী রেহানা, চম্পা, শ্যামলী, শাকিল, আমজাদিয়া একাডেমির শিক্ষার্থী আয়শা, রানী ও শাকিল জানায়, ২০১৪ সালের সিলেবাসে পরীক্ষা দিয়ে জীবনের লক্ষ্য বদলে গেছে। ১১টি বিষয়ে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাবে তারা কিন্তু রসায়নে খারাপ হওয়ার কারণে কাঙ্খিত ফলাফল থেকে বঞ্চি হবে তারা। এটা তাদের জীবনের লক্ষ্য বদলে দিবে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সকল বিষয়ের নম্বর বিবেচনায় রেখে রসায়ন বিষয় মূল্যায়ন করার আবেদন জানিয়েছে তারা।

অভিভাবক আবুল কালাম বলেন, ‘পরীক্ষার হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্র সচিব, সহকারী কেন্দ্র সচিবসহ কক্ষ পরিদর্শকগদের চোখে ভুলটি ধরা পড়লো না। আমার মেয়ে ১৮ তারিখ বিকেলে জানায়, পরীক্ষা ভালো হয়নি। পরে খতিয়ে দেখি সিলেবাস বহিঃর্ভূত প্রশ্ন হয়েছে। আমি আশা করবো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন অন্যান্য সকল বিষয়ের সঙ্গে মিল রেখে রসায়নের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেন।’

বিকে নগর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভেন্যু বিকে নগর বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের ১১ ও ১২ নং কক্ষে ৪০ জন শিক্ষার্থীর ২০১৪ সালের সিলেবাসে পরীক্ষ গ্রহণ করা হয়েছে। আমার বিদ্যালয়ের ২৩ জন, আমজাদিয়া একাডেমির ১৫ জন ও লাউখোলা এএইচ উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষার্থী আমাদের ভুলে ভিন্ন সিলেবাসে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক কেন্দ্র সচিব হিসেবে আমাকে, সহকারী কেন্দ্র সচিব হিসেবে কে এম ইদ্রিসুর রহমান ও কক্ষ পরিদর্শক মো. মোশারফ হেরসেন, শিল্পী বেগম, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. মামুন মিয়াকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করে কারণ দর্শাতে বলেছেন। আমরা এখন পরীক্ষার কোনো দায়িত্ব পালন করি না। তবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের আবেদন করেছি।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘প্রতি বছর প্রশ্নপত্রের রঙ পরিবর্তন করা উচিৎ। তাহলে ভুল প্রশ্নপত্র দেখেই বুঝা যাবে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। তাছাড়া ২০১৪ সালের সিলেবাসে প্রশ্নপত্র হলেও কোনো সমস্যা হবে না। পাঠ্য পুস্তক তো একই। তবুও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবো শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র যেন সঠিক মূল্যায়ন করা হয়।’






মন্তব্য চালু নেই