মেইন ম্যেনু

২০১৯ সালে তিনটি ‘নরম’ শর্তে নির্বাচনে যাবে বিএনপি

২০১৯ সালের আগে নির্বাচনের পথে যাচ্ছে না বিএনপি। আর এই সময়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম ও জাতীয় ঐক্যের কথা বললেও আন্দোলনে ‘অকার্যকর’ই থাকতে চায় সংসদের বাইরে থাকা প্রধান এ রাজনৈতিক দলটি। বরঞ্চ ২০১৯-এর নির্বাচনের আগে তিনটি ‘নরম’ শর্ত ছুঁড়তে চায় সরকারের দিকে। দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটি, ভাইস-চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা কাউন্সিল ও খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে কথা বলে আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এ অবস্থান জানা গেছে। খবর: বাংলা ট্রিবিউন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য সূত্র মতে,নির্বাচনে যাওয়ার সম্ভাব্য শর্ত তিনটি হচ্ছে, স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনে ‘দুই জোটের বাইরের নিরপেক্ষ’ লোকদের দায়িত্ব দেওয়া। প্রধানত এই তিনটি দাবিকে সামনে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী বিএনপির নীতি নির্ধারকরা।

সূত্রের মত, ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে একটি বিদেশি রাষ্ট্রের কাছেও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পর্কে দলীয় অবস্থান বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হবে বিএনপিকে। এক্ষেত্রে তারেক রহমানকে দীর্ঘদিনের জন্যই বাংলাদেশের বাইরে থাকতে হতে পারে।

আন্দোলন-সংগ্রাম ও জাতীয় ঐক্যের মূলে ১৯’র নির্বাচন

বিএনপির শীর্ষ নেতারা মুখে-মুখে সরকার পতনে আন্দোলন ও জাতীয় ঐক্য গড়ার আওয়াজ তুললেও ২০১৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কার্যত কোনও আন্দোলনে যাবে না দলটি। এর আগে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার ইচ্ছা দলের নেতাদের। অভ্যন্তরীণ কোন্দল যতোটা পারা যায় কমিয়ে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে চান তারা। ওই টার্গেটের কারণেই কারচুপি ও জয়ের ন্যূনতম নিশ্চয়তা না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোয় নিয়মিত অংশ নিয়েছে বিএনপি। নির্বাচনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ও নেতাকর্মীদের নির্বাচনের মধ্যে রাখতে এই সিদ্ধান্তগুলো নেয় বিএনপি।

সূত্রের দাবি, জাতীয় ঐক্য ও কর্মসূচির কথা বলা হলেও মূলত ওই ঐক্য ২০১৯-এর নির্বাচনি ঐক্য। ওই নির্বাচনের আগে সরকারের বাইরে থাকা প্রায় সব দলকেই একমঞ্চে আনতে চায় বিএনপি। এক্ষেত্রে বাধা হতে পারে জামায়াতে ইসলামী। বিতর্কিত এই দলটির সম্ভাব্য রাজনৈতিক ভাগ্য ঝুলে থাকায় সুনিশ্চিত কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না বিএনপির নীতি নির্ধারকরা। ইতোমধ্যে খালেদা জিয়া বিভিন্ন ইফতার মাহফিলে সব দলকে এক কাতারে এসে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এর বাইরে গত ১৯ মার্চে কাউন্সিলে খালেদা জিয়ার ঘোষিত ভিশন ২০৩০-এর টার্গেটও ২০১৯ এর নির্বাচন। ফলে, ওই নির্বাচনকে সামনে রেখেই ভিশন ২০৩০-কে নির্বাচনি ইশতেহার হিসেবে ঘোষণা দেবে বিএনপি।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের নির্বাচনের আগে বড় ধরনের কর্মসূচিতে যাবে না বিএনপি। এক্ষেত্রে দলটির সক্ষমতার পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এ কারণে ছোট-ছোট বিষয়ভিত্তিক কর্মসূচি দিয়ে দলকে চাঙ্গা করার পক্ষপাতী দলটির নেতারা। ঢাকা মহানগরের মির্জা আব্বাস ও হাবিব উন নবী সোহেল কমিটির ভরাডুবির পর নতুন কোনও বড় আন্দোলনে যেতে অনেকখানি সতর্ক বিএনপি। অন্যদিকে কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলটির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে নানা মতও রয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি, তাতে পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার মতো কেউ নেই। আমাদের ওপর প্রতিনিয়তই অত্যাচার করা হচ্ছে। মামলা দেওয়া হচ্ছে। সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসে প্রতিদিনই আদালতে হাজিরা দিতে হয়। ফলে সেখানে সবকিছু ছকে বাঁধা পাবেন না। আমরা তো পরিকল্পনা নিয়েই এগুচ্ছি। আমরা কাউন্সিল করেছি। কাউন্সিলের আগে আমরা চেষ্টা করেছি জেলার কমিটিগুলো নতুনভাবে সাজাতে। রমজানের পরই জেলার যেসব কমিটি বাকি রয়েছে, সেগুলো সাজানো হবে। রমজানে ইফতার মাহফিলের মাধ্যমে আমরা নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

কর্মসূচির বিষয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা তো আন্দোলনেই আছি। ফলে নতুন করে আন্দোলন শুরু করব,এটা বলার দরকার নেই। আওয়ামী লীগ বিনা নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেছে। এখানে তারা স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছে। তারও আগে থেকেই আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলন করছি। ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর পর থেকেই আমরা আন্দোলনে রয়েছি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আন্দোলনে কবে যাব, এ নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। যতো শিগগির সম্ভব কর্মসূচিতে যাবে বিএনপি-এমন দাবিও করেন তিনি।

সম্প্রতি এক ইফতারে বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদও দুঃসময়ে ঐক্যবদ্ধ হতে সব দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

২০১৯ এর নির্বাচনে সরকারকে তিনটি ‘নরম’ শর্ত দেবে বিএনপি

নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ এক সদস্য জানান, কর্মসূচিতেই যেতে হবে, ধীরে সুস্থ্যে, হটকারিতা না করে আগামী ২০১৯ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে কর্মসূচিতে যেতে হবে। যাতে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশন-এই তিনটা নিউট্রাল রোল প্লে করতে পারে। এসব স্থানে কোন পার্টির লোক বসবে দ্যাট ইজ ডিফারেন্স, তিনটা যদি নিউট্রাল ওয়েতে কাজ করে তাহলে বিএনপি উইন। যেকোনও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে এই তিনটি পদে দেওয়া যেতে পারে। খালেদা জিয়ার হাত থাকবে না, শেখ হাসিনারও হাত থাকবে না। এটা দুই পার্টির জন্যই মঙ্গল।

এসব শর্ত নিয়ে খালেদা জিয়া বা তারেক রহমানের কী চিন্তা, এ নিয়ে কোনও তথ্য জানাননি স্থায়ী কমিটির ওই সদস্য। তার দাবি, আগে-পরে বিএনপি এই দাবি নিয়েই সামনে এগুবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ২০১৯ নয়,আমরা চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নির্বাচন। সকল দলের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন।

এসব শর্ত জানা নেই বলে জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু মনে করেন,২০১৯ সালের আগে নির্বাচন হবে না, এমনটি নয়। এটা যেকোনও সময় হতে পারে। সরকারের নির্যাতনে জনগণ অতিষ্ট। জনগণ চাইলে যে কোনও সময় নির্বাচন দিতে বাধ্য হবে সরকার।

উল্লেখ্য, বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘বিতর্কিত’ জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে ফোন করে ৫টি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলেন। এর মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছিল।






মন্তব্য চালু নেই