মেইন ম্যেনু

২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ হচ্ছে না !

বর্তমান সরকারের লক্ষ্য রয়েছে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা। এ লক্ষ্যে কাজও করছে সরকার। অর্থনীতির ধারাবাহিক ইতিবাচক অগ্রগতিও মধ্যম আয়ের দেশের দিকেই এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশকে। কিন্তু অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির নিয়মের ফাঁকে পড়ে ২০২৪ সালের আগে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া সম্ভব নয়।

নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার ৬ বছর আগে জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটি সেই দেশকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। বাংলাদেশ ২০২১ সালকে লক্ষ্যমাত্রা ধরে এগিয়ে গেলে চলতি বছরই (২০১৫) তালিকায় যুক্ত হওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তা এখনই সম্ভব হচ্ছে না।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বর্তমান অগ্রগতির নিরিখে বলা যায়, বাংলাদেশ জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কমিটির তালিকায় ২০১৮ সালে যুক্ত হতে পারে। সেই হিসাবে ২০২৪ সালের আগে বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া অসম্ভব।

তবে বর্তমান অগ্রগতি আগামী বছরগুলোতে অব্যাহত না থাকলে ২০২৪ সালের মধ্যেও মধ্যম আয়ের দেশ হওয়া হয়তো সম্ভবপর হবে না।

যদিও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও চলতি বছর অর্থনীতির বেশ কিছু সূচক ইতিবাচক ছিল। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ছিল, রেমিট্যান্স প্রবাহ যথার্থ ছিল, বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মাথাপিছু আয়।

কিন্তু এসব সুযোগ কাজে লাগিয়েও রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারেনি সরকার। গত কয়েক বছরের মতো এবারও জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারেনি সরকার। এ ছাড়া ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, ব্যাংকের সুদের হার কমানোসহ অনেক খাতে সরকার গত বছরের মতোই পিছিয়ে ছিল।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০১৪-১৫ তৃতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা’য় দেখানো হয়েছে, ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ অনেক পিছিয়ে আছে। বর্তমানে দেশে ব্যক্তি খাতে মাত্র ১৩ শতাংশ বিনিয়োগ রয়েছে। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে নিতে এ বিনিয়োগ দ্বিগুণ করতে হবে। তবে দুর্নীতি, অবকাঠামো উন্নয়নে ঘাটতি, সরকারের নীতির দুর্বলতা ও অর্থায়নের অভাবে বিনিয়োগ বাড়ছে না।

এগুলো মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বলেও সংস্থাটি তাদের মূল্যায়নে জানিয়েছে।

এ ব্যাপারে সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে তিনটি শর্ত রয়েছে। মাথাপিছু আয় হতে হবে ১ হাজার ১৯০ ডলার(এপ্রিল, ২০১৫), মানবসম্পদ উন্নয়নের সূচক হতে হবে ৬৬ এবং অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থা দূর করতে হবে।

এর মধ্যে বাংলাদেশ শুধু প্রথম শর্তটি পূরণ করতে পেরেছে। বাকি শর্ত দুটি ২০২১ সালের মধ্যে পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। মানবসম্পদ উন্নয়নের সূচক ২০২১ সালে ৬৬ এর কাছাকাছি গেলেও অর্থনৈতিক ভঙ্গুর অবস্থা কাটিয়ে ওঠা আগামী এক দশকের আগে সম্ভব হবে না। তাই ২০২১ সালের মধ্যেই মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আমাদের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ যে এগিয়ে যাচ্ছে তা এখন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বিশেষ করে সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অগ্রগতি এখন অনেক দেশের জন্যই উদাহরণ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বাজেটের আকার দেখলে উন্নয়নের বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যায়। ১৫ বছর আগেও যা অকল্পনীয় ছিল, বর্তমানে তা দৃশ্যমান বাস্তবতা। জিডিপির হার বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রথম ১০ মাসের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। চলতি মূল্যে এ অর্থবছরে দেশের জিডিপির পরিমাণ ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। যা অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।’

মন্ত্রী বলেন, একসময় আমাদের বলা হতো ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’। সেই বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশের পথে। তবে কেবল প্রবৃদ্ধিনির্ভর মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার পাশাপাশি আমাদের আকাঙ্ক্ষা সামগ্রিক উন্নয়নেরও। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

মধ্যম আয়ের দেশ কী: মধ্যম আয়ের দেশ শ্রেণীকরণটি মূলত বিশ্বব্যাংকের। কোন দেশকে কী পরিমাণ ঋণ দেওয়া হবে, সেটি নির্ধারণ করতেই তারা দেশগুলোকে চার ভাগে ভাগ করে। মোট জাতীয় উৎপাদনে (জিএনআই) মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে দেশের বিভাজন করে দাতা সংস্থাটি। বিভাজনগুলো হলো নিম্ন আয় (মাথাপিছু আয় কমপক্ষে ১০৪৫ ডলার), নিম্ন মধ্যম আয় (১০৪৬ ডলার–৪১২৫ ডলার), উচ্চ মধ্যম আয় (৪১২৬ ডলার–১২৭৪৫ ডলার) এবং উচ্চ আয় (১২৭৪৬ ডলারের বেশি)। প্রতিবছরের ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক এই শ্রেণীকরণের তালিকা প্রকাশ করে। রাইজিংবিডি






মন্তব্য চালু নেই