মেইন ম্যেনু

খুনির মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া, কৌশলে বিয়ে

২০ বছর পর বাবার খুনের বদলা নিতে স্ত্রীকে খুন

খুনের বদলা খুন। আজ থেকে প্রায় ২০ বছর আগে খুন হয়েছিলেন আশরাফ আলী নামে এক ব্যক্তি। জমি-জমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশীরা তাকে হত্যা করে। এ ঘটনা এতদিনে প্রায় সবাই ভুলে গেছে। শুধু ভুলতে পারেনি নিহতের ছেলে কুরবান আলী।

কুরবান আলী খুনি পরিবারের সঙ্গে মেলামেশা, খুনির মেয়ের সঙ্গে পরকীয়া, কৌশলে বিয়ে, অবশেষে বাবা খুনের বদলা নিতে হত্যা করে বসেন স্ত্রীকে।

গত ৩ আগস্ট গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে রাজশাহীর পবা উপজেলার দাদপুর এলাকায়। নিহত গৃহবধূর নাম মর্জিনা বেগম। তিনি দাদপুরের কুরবান আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী।

আজ থেকে ২০ বছর আগে ১৯৯৫ সালে কুরবান আলীর বাবা আশরাফ আলী খুন হন মর্জিনার বাবা ও ভাইদের হাতে। ওই সময় আশরাফ আলীকে তারা পিটিয়ে হত্যা করে লাশ গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখেছিলো।

ঘটনাটি দাগ কেটে যায় কোরবান আলীর মনে। প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পনা করে। এর মধ্যেই মর্জিনার বিয়ে হয় একই গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। এক পর্যায়ে দুই সন্তানের মাও হন। এবার বাবার হত্যার বদলা নিতে নতুন পরিকল্পনা করে কুরবান। মর্জিনার মন পাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। সফলও হয় শেষ অবধি। ২০০৫ সালের দিকে দুই সন্তান ও স্বামীর ঘরে ফেলে কুরবান আলীর সঙ্গে পালিয়ে আসেন মর্জিনা। এরপর রাজশাহী নগরীর শাহ মখদুম থানার ভুগরইল এলাকায় দুজন মিলে নতুন সংসার শুরু করেন।

কুরবান সেখানে করতেন কাঠ মিস্ত্রির কাজ। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় মুড়ি ও ভাজা বিক্রিও করতেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উঠেপড়ে লাগেন। প্রথমে মর্জিনার ওপর একটু একটু করে অত্যাচার শুরু। এরপর দিন দিন বাড়তে থাকে। নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় ৩ আগস্ট গভীর রাতে মর্জিনাকে পিটিয়ে হত্যা করেন কুরবান। এরপর সে এলাকাছাড়া হয়ে যান।

মর্জিনা ও কুরবানের প্রতিবেশীদের আলোচনার মাধ্যমে বেরিয়ে আসে ২০ বছর আগের কথা।

তারা জানান, মর্জিনার দুই ছেলে ঢাকায় থাকে। বেশির ভাগ সময় মর্জিনা একাই বাড়িতে থাকতো। সোমবার রাতে কোরবান বাড়িতে আসেন। গভীর রাতে স্ত্রীকে নির্যাতন করে। তাদের কান্নাকাটি ও চিৎকার শোনা যায়।

নিহতের প্রতিবেশী মফিজ উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে কোরবান। মাঝে মধ্যে সে স্ত্রীকে নির্যাতন করতো।

শাহ মুখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউফ বলেন, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির উঠানে লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন থানায় খবর দেয়। পরে লাশ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। লাশের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পারিবারিক কলহের জের ধরে মর্জিনাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হত্যার বিষয়ে ওসি জানান, যেহেতু কুরবান পলাতক সেহেতু মর্জিনাকে কেন খুন করা হয়েছিলো তা সঠিকভাবে বলা যাবে না। তাকে আটক করা হলেই আসল ঘটনা বেরিয়ে আসবে।






মন্তব্য চালু নেই