মেইন ম্যেনু

২৫ বছর ধরে বিনা পয়সায় গ্যাস ব্যবহার!

ভোলায় গ্যাসের সন্ধান মেলে আশির দশকে। কিন্তু তা উত্তোলনের কাজ শুরু হয় ১৯৯৫ সালে। তাই বলে সরকারি উত্তোলনের অপেক্ষায় বসে থাকেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা নিজেরাই গ্যাস ব্যবহারে বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে নিয়েছেন। আর দেদার বিনা পয়সায় জ্বালানি ব্যবহার করে চলেছেন।

গ্যাসক্ষেত্রের আশপাশের তিনটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার প্রায় ২৫ বছর ধরেই এভাবে গ্যাস ব্যবহার করছেন। এতে মাসে মাসে কোনো টাকা তো গুনতেই হচ্ছে না বরং এই গ্যাস ব্যবহার করে অনেকে বাড়তি আয়ও করছেন।

ভোলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এই ‘শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র’। এই উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের প্রবেশপথে গাছে গাছে ঘরের টিনের চালায় এমনকি বিদ্যুতের তারের সঙ্গে জড়িয়ে বহু বাড়িঘরে মোটা তারের সংযোগ দেখা যায়।

একটু ভালো করে তাকালেই দেখা যাবে এটি কোনো বিদ্যুতের তার নয়। আসলে মোটা পাইপ। আর ওই পাইপ দিয়েই বিভিন্ন বাসাবাড়িতে নেওয়া হয়েছে গ্যাস। আর এর ব্যবহারও চমকপ্রদ।

এখানের কাচিয়া ইউনিয়নের হাসান সিকদারের বাড়িতে গেলে দেখা যায় প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের এই চমকপ্রদ পদ্ধতি। হাসান সিকদার জানালেন, প্রায় ২০ বছর আগে তিনি প্রায় ২২ হাজার টাকা ব্যয় করে একটি টিউবওয়েল বসান। তারপর দেখেন ওই কল চেপে পানি ওঠাতে হচ্ছে না। নিজে নিজেই ২৪ ঘণ্টা পানি পড়ছে। শুধু পানিই নয়, পানির সঙ্গে গ্যাসও উঠছে। তাই একদিকে তারা পানি ব্যবহার করছেন, অন্যদিকে টিউবওয়েলের পাইপের মাথায় সিলিন্ডার লাগিয়ে পাইপ দিয়ে বাড়িতে নিয়ে গ্যাসের চুলার সঙ্গে সংযোগ দিয়ে জ্বালানি হিসেবে এ গ্যাসও ব্যবহার করছেন।

download

টিউবওয়েলের ওপর সিলিন্ডার বসিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে গ্যাস

ওই এলাকার গৃহবধূ মোবাশ্বেরা বেগম জানান, ১৫ বছর ধরে তারা টিউবওয়েল থেকে গ্যাস নিয়ে বাসায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে তাদের আর কোনো জ্বালানি খরচ নেই।

শুধু মোবাশ্বেরা বেগমই নয়, বোরহানউদ্দিনের কাচিয়া, টবগী, পক্ষীয়া ইউনিয়নের কয়েক শ পরিবার এ ভাবেই স্থানীয় পদ্ধতিতে গ্যাস ব্যবহার করছেন। আবার অনেকে টিউবওয়েল থেকে গ্যাস উত্তোলন করে বিভিন্ন ছোট ছোট দোকান, হোটেলে পাইপলাইনের মাধ্যমে ভাড়া দিয়ে সংসারের খরচের জন্য বাড়তি টাকাও আয় করছেন।

মাত্র চার বছর আগে শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ডের কূপ খননের পর উত্তোলিত গ্যাস সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির মাধ্যমে ভোলা পৌরসভার ২০ কিলোমিটার এলাকায় আবাসিক সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ব্যাপক চাহিদা থাকায় ভোলার মানুষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে ভোলা পৌর এলাকায় আরো ২০ কিলোমিটার গ্যাসলাইন টানা হয় ও বোরহানউদ্দিন পৌর এলাকায় আবাসিক সংযোগের জন্য পাইপ লাইন টানা হচ্ছে।

অন্যদিকে ভোলায় বিপুল পরিমাণ গ্যাস মজুতের খবরে ইতিমধ্যে গ্যাসভিত্তিক দুটি বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কোম্পানি গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য জমি ক্রয় করছে।

শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রের ম্যানেজার জানান, এ প্ল্যান্টে বর্তমানে চারটি কূপ রয়েছে। তিনটি কূপ থেকে গ্যাস প্রডাকশন করা হলেও সাময়িক ত্রুটির জন্য বর্তমানে দুটি কূপ থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে ৪৪ এমএমসিএফটি গ্যাস পাওয়ার প্ল্যান্ট ও রেন্টাল প্ল্যান্টে সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া আবাসিক গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ১ এমএমসিএফটির নিচে। চারটি কূপ থেকে সামনে ৫৮ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্রে ৩৮২ বিসিএফ (বিলিয়ন কিউবিক ফিট) গ্যাস মজুত আছে।






মন্তব্য চালু নেই