মেইন ম্যেনু

২৫ বছর পর স্বপ্নের মাঠে স্মরণীয় দিনের অপেক্ষা

শুধু বাংলাদেশীরাই নয়, একজন ক্রিকেটার হিসেবে প্রত্যেকেই চায় লডর্স, মেলবোর্ন এবং ইডেনে খেলতে। ক্রিকেটের অন্যতম তীর্থপীঠ ইডেনে খেলা তো এক স্বপ্ন। ২৫ বছর পর আজ আবারও সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সামনে। প্রথম ম্যাচে এই বিখ্যাত মাঠে প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা, আজ পাকিস্তান। স্বপ্নের মাঠে পাকিস্তানকে হারিয়ে স্মরণীয় দিনের অপেক্ষায় টাইগার ক্রিকেটার ও তার তাবৎ ভক্তরা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ম্যাচে ধারাবাহিকতা ছাড়া প্রমাণের তেমন কিছু নেই। তবে পাকিস্তানের জন্য বাংলাদেশ ম্যাচ নিজেদের ফিরে পাওয়ার। গত বছরের দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে নাস্তানুবাদ হওয়ার পর সর্বশেষ এশিয়া কাপে পর্যদুস্ত পাকিস্তান দেশে ফিরে চরম সমালোচনার মুখে পড়ে।

এই ম্যাচে সরফরাজ আহমেদ, শোয়েব মালিক ও উমর আকমলের ব্যাটিং পাকিস্তানকে কিছুটা স্বস্তিতে রাখলেও টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদ, মোহাম্মদ হাফিজ ও সারজিল খানের ফর্ম নিয়ে চিন্তায় তারা।

ব্যাটিং পাকিস্তানের চিন্তার কারণ হলেও বোলিংয়েই তাদের ভরসা। বাংলাদেশের টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ভোগাতে পারেন তিন পেসার মোহাম্মদ আমির, মোহাম্মদ ইরফান ও ওয়াহাব রিয়াজ। আর টাইগার মিডল অর্ডারকে পরীক্ষা নিতে পারেন তিন স্পিনার শহিদ আফ্রিদি, শোয়েব মালিক ও ইমাদ ওয়াসিম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গা গরমের ম্যাচে ৪ উইকেট নিয়ে সে আভাস দিয়ে রেখেছেন ওয়াসিম।

ব্যাটিং-বোলিং মিলিয়ে পুরো ছন্দেই ছিল বাংলাদেশ। তবে তাতে কিছুটা ছেদ ফেলেছে দলের দুই অন্যতম সেরা বোলার তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আইসিসির সন্দেহ পোষণ। দুজনই বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিয়েছেন। আর ইনজুরি কারণে এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে দলের বাইরে ‘কাটার মাস্টার’ মুস্তাফিজুর রহমান। তবে এই ম্যাচে খেলার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে মুস্তাফিজের।

বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তামিম ইকবাল। দেশের হয়ে প্রায় সব রেকর্ডই নিজের নামের পাশে সেটে নিচ্ছেন এই বা হাতি ব্যাটসম্যান। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসানরা।

এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের হয়ে লাইমলাইটে থাকবেন তামিম ইকবাল। বাছাইপর্বের তিন ম্যাচে এক সেঞ্চুরি ও এক হাফসেঞ্চুরি সহ ২৩৮ রান করেছেন ইনফর্ম এই ব্যাটসম্যান। দেশের হয়ে প্রথম টি২০ সেঞ্চুরির পর নাম লিখিয়েছেন এক হাজারি রানের ক্লাবে। এছাড়া চলতি বছর টি২০তে ৪৩’র বেশি গড়ে ৩৮৮ রান করা সাব্বিরও থাকবেন নজরে। সাথে থাকবেন দুরন্ত ফিনিশার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

এই ম্যাচে আরেকটি মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সাকিব আল-হাসান। আর মাত্র ৪ রান করতে পারলেই দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টি-২০ ক্রিকেটে ১০০০ হাজার রান পূর্ণ করবে টাইগারদের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এছাড়া আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার কারণে সাকিবের জন্য ইডেন দ্বিতীয় হোম ভেন্যু। এই মাঠে প্রতিটি ঘাসের সাথে পরিচিত সাকিব।

আর পাকিস্তানের হয়ে লাইমলাইটের থাকবেন শোয়েব মালিক, আমির ও শহিদ আফ্রিদি। সাম্প্রতিক ব্যর্থতা থেকে দলকে বের করে আনতে জ্বলে উঠতে পারেন বুমবুম।

ইডেনে এর আগে একবারই খেলেছে বাংলাদেশ। সেই ১৯৯০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। সেই ম্যাচে অবশ্য শ্রীলঙ্কার কাছে হেরেছিল বাংলাদেশ। তবে অর্জনও ছিল টাইগাদের। হারা ম্যাচে সেরা নির্বাচিত হয়েছিলেন বর্তমান ধারাভাষ্যকার আতাহার আলী খান। সেটাই ছিল আন্তর্জাতিক ম্যাচে বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটারের প্রথম ম্যাচ সেরা হওয়ার ঘটনা।

তবে ইডেন পাকিস্তানের জন্য পরিচিত ভেন্যুই। ইডেনের অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ানডেতে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল পাকিস্তান। ১৯৮৭ সালের সেই ম্যাচে ভারতকে ২ উইকেটে হারিয়েছিল সফরকারীরা। এছাড়া ইডেনের ভারতের বিপক্ষে চারটি ম্যাচ খেলে একটিতেও হারেনি পাকিস্তান। তবে টি২০তে ইডেনে এবারই প্রথম নামছে পাকিস্তান। সে হিসেবে একই বিন্দুতে দাঁড়িয়ে দুদল।

ইডেনে এর আগে একটি মাত্র আন্তর্জাতিক টি২০ ম্যাচ হয়েছে। সেখানে মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও ইংল্যান্ড। ভারতের করা ১২০ রানের স্কোর সহজেই টপকে ছিল ইংলিশরা। সুতরাং ইডেনের পিচে আন্তর্জাতিক টি২০তে সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন রান ১২১ ও ১২০।

টি-২০ ফরমেটে জয়-পরাজয়ের হিসাবে পাল্লা পাকিস্তানের দিকেই ঝুঁকে রয়েছে। এ পর্যন্ত নয়টি টি-২০ ম্যাচ খেলে দুটিতে জয় এসেছে, একটা গত বছরে এবং সর্বশেষটা চলতি মাসেই এশিয়া কাপে। ‘অঘোষিত ফাইনালে’ পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে টাইগার বাহিনী।

তবে গত বছর এই পাকিস্তানকেই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। তাই ওয়ানডের পারফর্মেন্সটা টি-২০তে রুপ দিতে পারলে এবং সাম্প্রতিক পারফর্মেন্সের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারলে দাঁড়াতেই পারবে না পাকিস্তান।

সর্বশেষ জয়-পরাজয়ের হিসেবে অবশ্য পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে বাংলাদেশ। সর্বশেষ খেলা পাঁচ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে চারটিতেই। সেখানে পাকিস্তানে জয় মাত্র দুটিতে।

ইডেনের পিচ ঐতিহ্যগতভাবেই স্পিনারদের অনুকূলে থাকে। গত সোমবারের পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা ম্যাচেও সেটা দেখা গেছে। তবে পেসারদের জন্যও কিছুটা বাউন্স থাকে।

আর মৌসুম অনুযায়ী কলকাতায় এই সময়টা ঝড়-বৃষ্টির। তবে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচকে সামনে রেখে প্রকৃতি বাধা হওয়ার কোনো আভাস এখনো নেই। ওয়েদার ডটকমের পূর্বাভাস অনুযায়ী আজ কলকাতার আকাশ ঝকঝকেই থাকবে। তাপমাত্রা থাকবে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

সম্ভাব্য বাংলাদেশ দল: মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, আবু হায়দার রনি/মুস্তাফিজুর রহমান, আল-আমিন হোসেন, আরাফাত সানি, মোহাম্মদ মিথুন/নাসির হোসেন, এবং নুরুল হাসান সোহান।

সম্ভাব্য পাকিস্তান দল: শহীদ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আহমেদ শেহজাদ, সারজিল খান, মোহাম্মদ হাফিজ, উমর আকমল, শোয়েব মালিক, ইমাদ ওয়াসিম, সরফরাজ আহমেদ, ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ আমির ও মোহাম্মদ ইরফান।






মন্তব্য চালু নেই