মেইন ম্যেনু

৩২৫ বছর পরে গণহত্যার প্রতিশোধ নিলেন শয়তান-পূজারীরা

আজ থেকে ৩২৫ বছর আগে ১৬৯৩ সালে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ ইতিহাসের অন্যতম প্রধান লজ্জাজনক ঘটনাটি ঘটেছিল। ম্যাসাচুসেটস-এর সালেম শহরে ডাকিনীবিদ্যা চর্চার অভিযোগে ২০ জন নারী-পুরুষ-শিশুকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়।

বলাই বাহুল্য, এই অদ্ভুত বিচারের পিছনে গভীরতর রাজনৈতিক ও ধর্মতান্ত্রিক উদ্দেশ্য নিহিত ছিল। ২০ জন ডাকিনীতান্ত্রিক তথা শয়তান উপাসকের গল্পটাকে ভবিষ্যতের মার্কিন ইতিহাস মেনে নেয়নি। বার বার প্রতিবাদ হয়েছে এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে। কিন্তু ইতিহাসের সেই কলঙ্ককে মুছে ফেলা যে সহজ নয়, সে কথাও বার বার প্রমাণিত হয়েছে।

সেই কাল থেকে মার্কিন সমাজ-ইতিহাস অনেকটাই বদলেছে। আজ আর মার্কিন সমাজে ‘ডাকিনীবিদ্যা’ বা শয়তান উপাসনা মোটেই কোনও গর্হিত কাজ নয়। বরং একদা নিষিদ্ধ এই সব কাল্টকে দর্শনচর্চার ভিন্নতর মার্গ বলে মনে করে মার্কিন সমাজ। ২০১৪-এ মার্কিন দেশে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘দ্য স্যাটানিক টেম্পল’ নামের সংস্থাটি।

নামে ‘শয়তান উপাসক’ হলেও এই সংস্থার উদ্দেশ্য মানবিক মূল্যবোধের বিস্তার, ন্যায়বিচারকে সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দেওয়া। তবে, মধ্যযুগীয় ইউরোপের শয়তান উপাসনার ছাঁদ তাঁরা অনুসরণ করেন। সেই কারণে খ্রিস্টিয় সংগঠনগুলির সঙ্গে তাদের সম্পর্কগত টানাপোড়েনও বিদ্যমান। এই সংগঠনের দাবি, তারা খ্রিস্টান ধর্মীয় সংগঠনগুলির অবিচারের প্রতিবাদ করছে।

সম্প্রতি দ্য স্যাটানিক টেম্পল তাদের সংগঠনের কেন্দ্র স্থাপন করল সালেমে। সংস্থার মুখপাত্র লুসিয়েন গ্রিভস গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাঁদের কর্মকেন্দ্র স্থাপনের জন্য সালেমের থেকে উপযুক্ত আর কোন জাযগা হতে পারে? একদা এই শহরে শয়তান উপাসনার জন্য হত্যা করা হয়েছে নিরীহ মানুষকে।

আজ সেই শহরেই শয়তান উপাসনার প্রকাশ্য সংগঠন কাজ করবে। তার চাইতেও বড় কথা, ১৮৮২ সালে নির্মিত এক অন্ত্যেষ্টি গৃহে স্থাপিত হবে সংস্থার সংগ্রহশালা। এখানে শয়তান উপাসনা ও তথাকথিত ডাকিনীবিদ্যার ইতিহাস ও নথি সাধারণের কাছে উন্মুক্ত থাকবে।

তা হলে কি ৩২৫ বছর পরে শান্তি পেল সেই ২০ জন নারী-পুরুষ-শিশুর আত্মা? এবিষয়ে কিন্তু গ্রিভস কিছু বলেননি।






মন্তব্য চালু নেই