মেইন ম্যেনু

৩৫তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় বাধা !

৩৫ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাশ করেও তারা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না। এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে খোদ পুলিশ সদরদপ্তর। সদরদপ্তরের অনুমতি না পাওয়ায় ৩০ থেকে ৩৫ জন দারোগা এবং সার্জেন্টের ক্যাডার কর্মকর্তা হওয়ার সাধ পুরণ হচ্ছে না।

জানা গেছে, এবার ৩৫ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩০ থেকে ৩৫ জন দারোগা এবং সার্জেন্ট। যারা অতি সম্প্রতি পুলিশ বিভাগে যোগদান করেছেন এবং সারদা পুলিশ একাডেমিতে ট্রেনিংয়ে রয়েছেন। তারা লিখিত পরীক্ষার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমোদন চাইলেও পুলিশ সদরদপ্তর থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। ফলে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার যোগ্যতা যাচাই করার সৌভাগ্য তাদের হচ্ছে না।

সম্প্রতি লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না এমন কিছু চাকরি প্রার্থী এমন অভিযোগ করেন।

রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমীতে সার্জেন্ট পদে ট্রেনিংয়ে আছেন, এমন একজন পরিচয় গোপন রাখার শর্তে রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমি ৩৫ তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করেছি। আমার লিখিত পরীক্ষা আগামী ১ সেপ্টেম্বার থেকে শুরু হবে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া না পাওয়ায় পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুনছি এবার পুলিশ বিভাগ থেকে কাউকে লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছেনা।পুলিশের এআইজির (প্রশাসন) একঘেয়েমির কারণেই মুলত কেউ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না বলে ধারণা করছি।’

এরকম কতজন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র সারদা পুলিশ একাডেমীতে ২৫/৩০ জনের মতো আছি, যারা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবো না। এ ব্যাপারে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে যোগাযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।’

আরেক চাকরি প্রার্থী তারিক সজল জানান, ‘এর আগের বছরগুলোতে ট্রেনিংয়ে থাকা অবস্থায় বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথম কাউকে কোনোভাবেই লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে পুলিশ সদরদপ্তরে এআইজির (প্রশাসন) কাছে ধর্ণা দিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।’

লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন না এমন একজন চাকরিপ্রার্থী শাহনেওয়াজ। তিনি তার ফেসবুকে কমেন্টস করে বলেছেন, ‘ভাই… আমি পুলিশ একাডেমীতে…আমাকে এক্সামের অনুমতি দেওয়া হয়নি, তাই রিটেন এক্সাম দিতে পারছি না, হেল্প নিডেড…।’

এ প্রসঙ্গে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (প্রশাসন) রফা সুলতানা খানমের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি সাক্ষাত দিতে রাজি হননি। এমনকি এ বিষয়ে কোনো কথা বলতেও রাজি হননি তিনি। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি এক পুলিশ সদস্যের মাধ্যমে জানান, এ বিষয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

কামরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি তেমন কিছু জানি না। তবে আমাকে জানতে হবে। আমি এ বিষয়ে জেনে আপনাকে বুধবার বিকেলের দিকে জানাবো।’ কিন্তু পরে তিনি আর কিছু জানাননি। পুনরায় ফোন করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

তবে পুলিশ সদরদপ্তরের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘সাধারণত কেউ চাকরি পেয়ে ট্রেনিংয়ে থাকলে অন্য কোনো পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয় না। কারণ পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে এখন তারা ট্রেনিংয়ে আছে। এখন তারা চলে গেলে পরবর্তীতে শুন্য কোটায় নিয়োগ দিতে হিমশিম খেতে হয়। তাই সম্ভবত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

পুলিশে চাকরি করলে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না, জানতে চাইলে পুলিশের আরেকজন উর্ধতন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ‘এটা অমানবিক এবং অন্যায়। কাউকে পরীক্ষা দিতে না দেওয়াটা অবশ্যই ভালো কাজ নয়। কারণ ওই ব্যক্তি পরীক্ষা দিয়ে বিসিএস ক্যাডারের মাধ্যমে বড় কর্মকর্তা হতে পারবেন। তাকে যদি পরীক্ষাই দিতে দেওয়া না হয়, তবে তিনি সেখানেই পড়ে থাকবেন। অন্য যেকোনো ছুটি দেখিয়ে হলেও পরীক্ষা দিতে দেওয়াটাই উচিৎ বলে মনে করি।’

প্রসঙ্গত, গত ৬ মার্চ বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ৩৫তম বিসিএস এর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ৮ এপ্রিল ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এরপর লিখিত পরীক্ষার জন্য আবেদন ফরম গ্রহন করা হয়। আগামী ১ সেপ্টেম্বার থেকে ৭ সেপ্টেম্বার পর্যন্ত ৩৫ তম লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। রাইজিংবিডি






মন্তব্য চালু নেই