মেইন ম্যেনু

৩৭ বছর পর সেই রেল স্টেশন, মিলল না স্বজন

তিনদিন চট্টগ্রামের দোহাজারী ঘুরেও স্বজনদের সন্ধান পেলেন না নেদারল্যান্ডস থেকে ৩৭ বছর পরে বাংলাদেশে আসা সুলতানা ফন দ্য লেস্ত।

স্বামী ইয়োরিস ইয়াকবস ও ১০ বছর বয়েসী ছেলে নোয়াহ আবেদ নাবিলা ইয়াকবসকে নিয়ে রোববার ঢাকা এসেছেন তিনি। ১২ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডস ফিরে যাবেন তারা।

১৯৭৯ সালের শেষদিকে চার বছর বয়সী সুলতানাকে দত্তক হিসেবে নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যাওয়া হয়। দেশটির আইন্দ্যোহেভেন’র ক্রিস ও থেয়া দম্পতির কাছে মানুষ হন তিনি।

শৈশব, কৈশোর পেরিয়ে বিয়ে; সন্তানও বড় হয়েছে- এর মাঝে কেটে গেছে ৩৭ বছর।

শিশুকালের আবছা স্মৃতিকে সম্বল করে স্বজনদের খোঁজে তিনি গত ১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে আসেন। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক এনজিও ‘স্লোব বাংলাদেশ’র এক্ষেত্রে তাকে সহায়তা করে।

স্বজনদের সন্ধানে বৃহস্পতি, শুক্র ও রোববার স্বামী-সন্তানকে নিয়ে দিনভর চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী এলাকা চষে বেড়ান সুলতানা।

তার স্মৃতিতে ছিল একটি রেল স্টেশন এবং তার পাশের একটি বাজার। তিন দিনে দোহাজারীর কোথাও কোথাও গিয়ে সুলতানা তার শৈশবের স্মৃতি হাতড়ানোর চেষ্টা করে থমকে দাঁড়িয়েছেন, ভেবেছেন এখানেই হয়ত তার পরিবারের বাস ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ফল মেলেনি তার এই অনুসন্ধানে।

অনুসন্ধানে তাকে সহায়তা করা স্লোব বাংলাদেশ- এর সাবেক কর্মকর্তা ইসমাইল শরিফ বলেন, “সুলতানাকে নিয়ে আমরা দোহাজারী রেল স্টেশন, পাশের বাজার, খাজুরিয়া, স্টেশন সংলগ্ন উল্লাপাড়াসহ কয়েকটি এলাকায় কয়েকবার গিয়েছি।

“রেল স্টেশন গিয়ে সুলতানার মনে হয়েছে, এখানে সে আগেও এসেছে। স্টেশনের পুরনো জিনিস দেখে তার মনে পড়ছিল। এসময় সে খুব আবেগী হয়ে পড়ে।”

স্টেশনের পূর্ব পাশে একটি বাড়ি সংলগ্ন পুকুরে দুই শিশুকে কাপড় কাচতে দেখে সুলতানা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে পুকুর ঘাটে নেমে কাপড় কাচতে শুরু করেন তিনি।

শিশুকালে এ ধরনের কাজ করার কথা মনে পড়ছে বলে সুলতানা জানিয়েছেন।

নেদারল্যান্ডস থেকে স্বজনদের খুঁজতে একজনের আসার কথা শুনে দোহাজারী এলাকায় অনেকেই জড়ো হয়েছিলেন।

কেউ কেউ শিশুবয়সে সুলতানার হারিয়ে যাওয়ার কথা শোনার কথা জানালেও স্বজনদের খোঁজ দিতে পারেনি বলে ইসমাইল জানান।

রাতের একটি ফ্লাইটে সুলতানা তার স্বামী, সন্তানকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করেন। সোমবার পটুয়াখালীতে উন্নয়ন সংস্থা স্লোব বাংলাদেশ- এর কয়েকটি প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন শেষে ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি নেদারল্যান্ডস ফিরে যাবেন।

১৯৭৯ সালে চার বছর বয়সী সুলতানাকে তার দাদি রহিমা খাতুন লালন-পালনের জন্য ‘নেদারল্যান্ডস ইন্টার কান্ট্রি চাইল্ড ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন ঢাকা’র কাছে দত্তকের জন্য হস্তান্তর করে।

স্বজনদের খুঁজতে তাকে হস্তান্তরের হলফনামার একটি অনুলিপি নিয়ে আসেন সুলতানা।

তাতে লেখা- সুলতানার জন্ম ১৯৭৫ সালের ৮ জানুয়ারি, চট্টগ্রাম জেলার তৎকালীন পটিয়া উপজেলার দোহাজারীতে (বর্তমানে চন্দনাইশ উপজেলার অর্ন্তগত)।

এতে দাদি হিসেবে রহিমা খাতুন সুলতানার ভরণপোষণ চালাতে না পারা এবং তার বাবা-মা উভয়ই মারা যাওয়ার কারণ দেখিয়ে দত্তকের জন্য ‘হস্তান্তর’র কথা উল্লেখ রয়েছে। এতে রহিমা খাতুনের স্বামীর নাম উল্লেখ রয়েছে মৃত কদম আলী।






মন্তব্য চালু নেই