মেইন ম্যেনু

৩ মাস পর স্কুলে শ্যামল কান্তি

নারায়ণগঞ্জ: ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে প্রথমে মারধর, পরে কান ধরে উঠবস করানোর তিনমাস পর নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেছেন সেই প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত। দেশজুড়ে ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের বিচার দাবির মধ্যেই চারটি সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করে ওই শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তার দুই দিনের মাথায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুল পর্ষদের ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে জানায়, প্রধান শিক্ষক তার পদে বহাল আছেন। নিয়ম বহির্ভূত সিদ্ধান্ত নেয়ায় ওই স্কুল কমিটি বাতিল করে মন্ত্রণালয়।

রোববার (১০ জুলাই) সকাল ৯টায় শহরের খানপুর মোকরবা রোডের ৬ তলা ভবনের ভাড়া বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত।

এ সময় তিনি বলেন,‘দীর্ঘদিন পর স্কুলে ফিরতে পারছি এ জন্য আনন্দ লাগছে।’ তবে স্কুলের পরিবেশ নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

এদিকে সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা পুলিশ বাড়ির চারপাশ ঘেরাও করে রাখেন। পরে পুলিশের একটি টিম কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্কুলের উদ্দেশ্যে নিয়ে যান।

নারায়ণগঞ্জ সদর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সরাফত জানান, তিনি সারারাত পাহারা দেওয়ার পর সকালে এএসআই মাহবুবুরের নেতৃত্বে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে বন্দর থানা পুলিশের কাছে শিক্ষকে তুলে দেওয়া হয়। পরে বন্দর থানা পুলিশ শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্কুলে পৌঁছে দেন।

বন্দর থানার ডিউটি অফিসার নাছির জানান, এসআই মনির আকন্দের কাছে সদর থানা পুলিশ শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে হস্তান্তর করে। পরে তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম শিক্ষকে স্কুলে পৌঁছে দেয়। স্কুল ছুটি না হওয়া পর্যন্ত তারা ওই স্কুলে শিক্ষকের নিরাপত্তার জন্য অবস্থান করবেন এবং তাকে পুনরায় বাসায় পৌঁছে দিবেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে ইসলাম ধর্মের কটুক্তির অভিযোগ এনে স্কুল কমিটির লোকজন ও স্থানীয়রা প্রথমে মারধর করে। পরে স্থানীয় জাতীয় পার্টির নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর ও বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান কানধরে উঠবস করান। তবে এ বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকের প্রাণ বাঁচাতে এ কাজ করেছেন তিনি।

পরে ওই রাতেই শ্যামল কান্তি ভক্তকে প্রথমে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরদিন শহরের খানপুরে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে তাকে হাসপাতালের ২০নং ওয়ার্ডে শয্যা দিলেও পরে উন্নত কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ডা. শফিউল আজমের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২০ মে পুলিশের প্রহরায় শ্যামল কান্তি ভক্তকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। ওই বোর্ডের অধীনেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে রিলিজ দেয়ার পর ওইদিন বিকেলে তিনি নারায়ণগঞ্জ শহরের নগর খানপুরে মোকরবা সড়কের বাসায় উঠেন। সেই থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছেন।

এদিকে এ ঘটনায় শ্যামল কান্তিকে বরখাস্ত করে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি। কিন্তু পরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সাময়িক বরখাস্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে স্বপদে বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানান। সেই সঙ্গে এই ঘটনায় ওই স্কুল পরিচালনা কমিটিকে বাতিলের ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।



« (পূর্বের সংবাদ)



মন্তব্য চালু নেই