মেইন ম্যেনু

৩ লাখ কোটি গাছ রয়েছে পৃথিবীতে

ইংরেজি ভাষায় গাছ শব্দকে বলা হচ্ছে ‘Tree’। কিন্তু বাংলা ভাষায় গাছ, বৃক্ষ, তরু ইত্যাদি নাম রয়েছে। আর এই শব্দগুলো যতটা সমার্থক শব্দ তারচেয়েও বেশি গুনবাচক। প্রকৃতির লীলা এবং কার্যকারণের উপর ভিত্তি করেই আমাদের এই অঞ্চলে গাছকে বিভিন্ন গুনে দেখা হয়েছে। প্রকৃতি বন্দনার যে রীতি আমাদের মধ্যে সদাক্রিয়াশীল, সেই ক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আমাদের অঞ্চলে বৃক্ষকে প্রকৃতি ও মানবজীবনের অন্যতম অঙ্গ হিসেবে দেখা হয়েছে। কিন্তু প্রাচীন কৌম সমাজ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায় বৃক্ষপ্রেম।

আধুনিকায়নের নামে গোটা পৃথিবীজুরে যে বন উজার করা হয়েছে তা থেকে বাদ যায়নি কোনো অঞ্চলই। তাই বৃক্ষ ধ্বংস করতে করতে এখন এমন একটা অবস্থা এসে পৌছেছে যে, গবেষকদের গবেষণা করে বের করতে হচ্ছে আমাদের পৃথিবীতে মাথাপিছু মানুষের জন্য কতগুলো গাছ বরাদ্দ আছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হচ্ছে যে, আমাদের বর্তমান পৃথিবীতে গাছের সংখ্যা হচ্ছে মাত্র তিন ট্রিলিয়ন, যার অর্থ হচ্ছে বিশ্বে তিন লাখ কোটির বেশি মোট গাছ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মজার বিষয় হলো, বৃক্ষের এই সংখ্যা আগের পরিসংখ্যান থেকে আট গুন বেশি। পূর্বে বিশ্বে মাত্র চারশো বিলিয়ন (৪০ হাজার কোটি) গাছ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। যদিও সেই তথ্য কতটুকু সঠিক ছিল তা নিয়েও অনেক সন্দেহ ছিল ভিন্ন ক্ষেত্রের গবেষকদের।

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের থমাস ক্রোথার এবং তার সহকর্মীরা স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে সাম্প্রতিক এই তথ্য জানিয়েছেন। ওই গবেষক দলটি বিজ্ঞানভিত্তিক ‘ন্যাচার’ সামায়িকীকে জানিয়েছে, নতুন এই তথ্যের অর্থ হলো, পৃথিবীতে প্রত্যেকের জন্য অন্তত ৪২০টি গাছ রয়েছে। তবে গবেষক ড. ক্রোথার বলছেন, এই বিপুল সংখ্যা আসলে বিশাল কোন অর্থ বহন করছে না। এর ফলে নতুন করে কোন ভাণ্ডার আবিষ্কার হয়নি এবং এতে পৃথিবীর কোন ক্ষতি বা বৃদ্ধি হচ্ছে না। তবে তাদের আবিষ্কৃত এ নতুন তথ্য গবেষক আর নীতি নির্ধারকদের জন্য সহায়ক হবে বলে মনে করছেন গবেষক থমাস ক্রোথার।

স্যাটেলাইটের ছবি তোলার পর, বেশ কয়েকটি বনের ভিতর প্রবেশ করে কর্মীরা সেখানকার গাছপালা গুনে দেখেন। এর ফলে ছবির সঙ্গে বাস্তবের গাছের সংখ্যা বের করতে তারা সমর্থ হন। পরে এই মডেল ধরেই অন্য বনের গাছ জরিপ করা হয়।

তবে বর্তমানে বন ধ্বংস করার প্রবণতার মধ্যে এ ধরণের গবেষণা বিরূপ প্রভাব ফেলবে কীনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ আমাদের সামনে জলজ্যন্ত উদাহরণ হিসেবে আছে বিলুপ্তপ্রায় সাদা গণ্ডার। গবেষকরা যখন প্রকাশ্যে ঘোষণা দিলেন যে, বিশ্বে এখন মাত্র চারটি সাদা গণ্ডার জীবিত আছে। তার কিছুদিনের মধ্যেই দেখা গেল বিপুল প্রহরার মাঝেও শিকারীরা ঠিকই একটি সাদা হাতিকে হত্যা করে ফেলেছে।






মন্তব্য চালু নেই