মেইন ম্যেনু

৩ শতাব্দী ‘দেখা’ জীবিত শেষ মানুষ

বয়স তার ১১৬ বছর। কিন্তু ছুঁয়েছেন তিন শতাব্দী। তিনি আবার একজন নারী। এম্মা মোরানো-মারতিনুজ্জিই এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে বয়সী মানুষ।

টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, সম্ভবত এম্মা মোরানোই ঊনিশ শতক দেখা শেষ জীবিত ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউ ইয়র্কের সুসান্না মুশাত জোনসের মৃত্যুর পর এম্মা মোরানোই বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তির খেতাব পান। এম্মা মোরানোর কয়েক মাসের বড় ছিলেন সুসান্না মুশাত।

শুক্রবার ‘প্রবীনতম ব্যক্তি’র খেতাব পাওয়ার কথা জানতে পেরে এম্মা স্বগতোক্তি করেন, সর্বনাশ, আমি পাহাড়ের মত বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি, টেলিগ্রাফকে জানান তার শুশ্রুষাকারী রোজি সান্টনি। এম্মা তার দীর্ঘজীবনের জন্য প্রতিদির ‘কাঁচা ডিম’ খাওয়া, আগে আগে ঘুমাতে যাওয়া ও ‘একা’ থাকাকে কৃতিত্ব দিয়েছেন।

১৮৯৯ সালের ২৯ নভেম্বর উত্তর ইতালির পিয়েদমন্ট এলাকায় জন্ম নেন এম্মা। বর্তমানে সুইজারল্যান্ড সীমান্তের কাছাকাছি লেকসাইড শহর ভার্বেনিয়ায় নিজের এক কামরার বাড়িতে বাস করছেন তিনি।

মাঝে মাঝে ডাক্তারদের বাড়িতে ডেকে পাঠালেও তার শরীর এখনো ‘যথেষ্ট সুস্থ’ বলে জানিয়েছে টেলিগ্রাফ। কৈশোরে এক ডাক্তার তাকে রক্তশূন্যতার জন্য কাঁচা ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই থেকে কাঁচা ডিম তার প্রাত্যহিক আহার, জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।

পত্রিকাটি ২০১৫ সালে তার একটি প্রোফাইল প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, মাংসের কিমা এবং পাস্তাও এমার দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় থাকে।

ওই পত্রিকাকে তিনি বলেছিলেন, অসুখী দাম্পত্যও তাকে দীর্ঘজীবন বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছে। ১৯৩৮ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের পর ‘আর ‍ওমুখো হননি’ এম্মা। তিনি বলেন, যদিও অনেকেই আমাকে পছন্দ করতো তবু আমি কারও দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে চাইনি।

এম্মার কর্মজীবন শুরু হয় কারখানায় কাজ করার মধ্য দিয়ে, এরপর হয়েছিলেন রাঁধুনিও। ৪১ বছর আগে ৭৫ বছর বয়সে অবসর নেয়ার আগ পর্যন্ত থামেন নি এই পরিশ্রমী নারী।

বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণতম ব্যক্তির খেতাব পাওয়ার পর শুক্রবার ঊনবিংশ শতকে জন্ম নেয়া এ নারীর বাসায় যান সাংবাদিকেরা। তিনি ঘুমিয়ে থাকায় তাদের অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতে হয় বলে অপর একটি বার্তা সংস্থার খবরে জানানো হয়েছে।

এম্মার চিকিৎসক কার্লো ব্রাভা তিন শতক ‘ছোঁয়া’ এ নারীর দীর্ঘজীবনকে ‘বিস্ময়কর’ বলে অভিহিত করেছেন।






মন্তব্য চালু নেই