মেইন ম্যেনু

৪২ বছরেও চাকুরী স্থায়ী হয়নি গৌরনদী সরকারী কলেজের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের

একটানা ৪২ বছর ধরে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী সরকারি গৌরনদী কলেজে চাকুরী করার পরে আজো স্থায়ী হতে পারেননি উপজেলার পশ্চিম শাওড়া গ্রামের হতভাগ্য বাদশা মোল্লা। চাকুরী স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিয়ে অনেকেই তার কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহন করেছিলেন। তার পরেও তার (বাদশা) চাকুরী স্থায়ী করা হয়নি।

সূত্রমতে, আশ্বাসের বাণী শুনতে শুনতে বহু আগেই বাদশা মোল্লার চাকুরীর বয়স শেষ হয়ে গেছে। একারণে এখন তিনি চাকুরি স্থায়ীকরণের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে এখনও মাসিক ২৬’শ টাকা মজুরির ভিত্তিতে তিনি কলেজের পিয়ন কাম নাইটগার্ড হিসেবে কাজ করছেন। বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ বাদশা মোল্লা। চাকুরী স্থায়ী না হওয়ায় জীবনের শেষপ্রান্তে এসে আজ তিনি বড়ই হতাশ। পশ্চিম শাওড়া গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিন মোল্লার পুত্র বাদশা মোল্লা। পিতা-মাতা সখের বশে তার নাম রেখেছিলো বাদশা। কিস্তু নামের বাদশা বাস্তব জীবনে ভিখারি। দারিদ্রতার কারণে নানাবিধ সমস্যার মধ্যে তার জীবন অতিবাহিত হয়েছে। দিনমজুর থেকে থেকে শুরু করে একসময় নৌকার মাঝি হিসেবেও তিনি কাজ করছেন।

জানা গেছে, বাদশা মোল্লা ১৯৭৪ সালে সরকারি গৌরনদী কলেজে মাত্র ৫’শ টাকা বেতনে পিয়ন পদে যোগদান করেন। চাকুরি এমপিও ভুক্ত হবে এ আশায় দীর্ঘ ৪২ বছর যাবত কলেজ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি ছাত্রাবাসের বাবুর্চি, নৈশ প্রহরী, এমনকি ঝাড়–দার ও সুইপারের কাজও করেছেন।

কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, চাকুরি স্থায়ী করার নাম কইর‌্যা কলেজের কয়েকজন অধ্যক্ষ ও হেডক্লার্ক মোর কাছ থেকে অনেকবার ঘুষ নিয়া তারা মোর জন্য কিছুই করে নাই। টাকা দিয়া কলেজে কতো মাইনসের চাকুরী হইছে। খালি মোর একলার চাকরী হইলোনা। মুই অল্লার ধারে বিচার দিছি। হে তাগোর বিচার করবে। বাদশা মোল্লার আজ বড়ই দুর্দিন। নিজের জমিজমা নেই। জীবনের সাথে সংগ্রাম করে কোনমতে তিনি বেঁচে আছেন। টাকার অভাবে বিনাচিকিৎসায় তিন বছর আগে তার স্ত্রী মারা গেছেন। রোগে শোকে তিনি নিজেও বড়ই ক্লান্ত। প্রতিবন্ধী পুত্রকে নিয়ে তিনি অর্থাভাবে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। বাঁচার তাগিদে বৃদ্ধ বাদশা মোল্লা প্রধানমন্ত্রীসহ বিত্তবানদের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গৌরনদী কলেজে বাদশা মোল্লার ন্যায় দীর্ঘ ২২ বছর ধরে দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে মাসে ২২’শ টাকা বেতনে কাজ করছেন পশ্চিম শাওড়া গ্রামের আবুল উকিল (৬০), ২৩ বছর ধরে ২১’শ টাকা বেতনে সুভাষ দাস (৫৫), ১৮ বছর ধরে ১৬’শ টাকা বেতনে কসবা গ্রামের হনুফা বেগম (৬০), ১৮ বছর ধরে ১৮’শ টাকা বেতনে নাঠৈ গ্রামের হোসনেয়ারা বেগম (৬২), ১৭ বছর ধরে ১৬’শ টাকা বেতনে পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের সুফিয়া বেগম (৬৪), ১৫ বছর ধরে ১৫’শ টাকা বেতনে বানিয়াশুরী গ্রামের ফুলজান বেগম (৬৫), ২৫ বছর ধরে ৩ হাজার টাকা বেতনে আজাহার উদ্দিন (৬৫) ও ২৩ বছর ধরে ২২’শ টাকা বেতনে শিশির দাস (৭৫) কাজ করে যাচ্ছেন। তারা সবাই অর্থাভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

উল্লেখিত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সরকারি গৌরনদী কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এসব কর্মচারীদের ব্যাপারে সরকার কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করায় আমাদের কিছুই করার নেই। তিনি আরও বলেন, কর্মচারী স্বল্পতার কারণে এদের দিয়ে আমরা কলেজের কাজ করাচ্ছি। যেকারনে দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে কলেজের বে-সরকারি ফান্ড থেকে তাদের নামেমাত্র মজুরী প্রদান করা হয়।






মন্তব্য চালু নেই