মেইন ম্যেনু

৪৫ শিক্ষাপ্র‌তিষ্ঠা‌নের ক্লাস বন্ধ রে‌খে পরিকল্পনামন্ত্রীকে সংবর্ধনা

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সংবর্ধনার অনুষ্ঠান সফল করতে কুমিল্লার ৪৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অঘোষিতভাবে বন্ধ রেখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আনা হয়েছে অনুষ্ঠানস্থলে। কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলা ভেঙে নবগঠিত জেলার ১৭তম লালমাই উপজেলা ঘোষণা করায় শনিবার জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার বাগমারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মন্ত্রীকে এ সংবর্ধনা দেয়া হয়। এতে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি ছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবক অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া শনিবার বিকেলে ওই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের জামতলী এলাকায় সর্বস্তরের লোকজন অংশগ্রহণ করে মন্ত্রীকে আরেকটি সংবর্ধনা প্রদান করেন। এতে উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও শিক্ষকরাও অংশগ্রহণ করেন। এদিকে পৃথক দুই স্থানে সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক এলাকায় প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ যাত্রীরা।

জানা যায়, লালমাইকে উপজেলা ঘোষণা করায় ওই উপজেলা এলাকার সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে পরিকল্পনামন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ হ ম মুস্তফা কামাল এমপিকে শনিবার পৃথকভাবে দুটি সংবর্ধনা দেয়া হয়। সকাল ১০টায় বাগমারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মহিলাদের উদ্যোগে গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এতে ওই এলাকার ৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (মাদরাসা, হাইস্কুল ও কলেজ) প্রায় ৫ সহস্রাধিক ছাত্রী, শিক্ষিকা ও অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন।

এদিকে শনিবার বিকালে ওই উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের জামতলী এলাকায় আয়োজিত পৃথক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওইসব প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ও শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করে। এ অনুষ্ঠানেও কমপক্ষে ৮ সহস্রাধিক স্কুল ড্রেস পরিহিত ছাত্র ও শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। এদিকে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ছাত্ররা বাসের ছাদে ওঠে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সভাস্থলে যায় এবং অনেকটা বাধ্য হয়েই সকাল থেকে ছাত্ররা বিদ্যালয় মাঠে রোদ উপেক্ষা করে অবস্থান করে। এর মধ্যে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের স্কুল মাঠে বসে থাকতে দেখা গেছে।

এদিকে পৃথক এ দুটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উপজেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অঘোষিতভাবে ক্লাস বন্ধ রাখা হয়। পৃথক এ দুই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে ঘিরে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রেখে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী হওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। অথচ মন্ত্রীর সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ রেখে ছাত্র-ছাত্রীদের ওই অনুষ্ঠানে যেতে বাধ্য করা হয় এবং দিনভর তাদের ওইসব অনুষ্ঠানে রাখা হয়। এতে ছাত্রছাত্রীরা দিনভর ক্ষুধার্ত থেকে অনুষ্ঠানে থাকতে বাধ্য হয়েছে।

জানতে চাইলে বাগমারা অধ্যক্ষ আবুল কালাম মজুমদার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ফৌজিয়া সুলতানা জানান, মন্ত্রীর সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে আমার কলেজের ৪ শতাধিক ছাত্রী এবং শিক্ষকদের নিয়ে বাগমারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে সকাল সাড়ে ৯টায় সমবেত হয়েছি। ছাত্রীরা শাড়ি পড়ে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে বাঁশি বাজিয়ে আনন্দ র‌্যালি নিয়ে সেখানে অংশগ্রহণ করে। নতুন উপজেলা হওয়ায় আমরা আনন্দিত এবং মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই।

বাগমারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালমা আক্তার জানান, বিদ্যালয় মাঠে মন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে সফল করতে ১০ দিন আগে থেকেই আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। এতে নবগঠিত এ উপজেলার ৪৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে আমাদের বিদ্যালয়ের ১২শ ছাত্রী এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক জাহাংগীর আলম, সদর দক্ষিণ উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপালী মন্ডল প্রমুখ।

এ বিষয়ে সদর দক্ষিণ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী ফরিদ আহমেদ জানান, মন্ত্রীর সংবর্ধণা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ছুটি দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। এসব প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরাই ভাল বলতে পারবে।

সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপালী মন্ডল জানান, মন্ত্রীর সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সংরক্ষিত ছুটির আওতায় ছিল কি-না তা আমার জানা নেই।

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম সাংবাদিকদের জানান, অনুষ্ঠানে আমি পরে গিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত ছুটি ছিল কি-না তা আমার জানা নেই। তবে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বিষয়টি বলতে পারবে। তিনি বলেন, বাসের ছাদে করে শিক্ষার্থীদেরকে আনা ঠিক হয়নি। এক্ষেত্রে অনাকাংখিত কোন ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আমাদের নিতে হতো। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরো সচেতন হওয়া প্রয়োজন ছিল।






মন্তব্য চালু নেই