মেইন ম্যেনু

৫ দিনে ৫ মামলায় হাজিরা খালেদার, অন্যথায় গ্রেফতারি পরোয়ানা

সারা দেশে বিভিন্ন সময় হামলা, নাশকতা ও মানহানির মোট ২০টি মামলায় বিচার চলছে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। এসবের মধ্যে পাঁচটি মামলায় হাজিরের জন্য আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামী ৩ মার্চ একই দিনে তিনটি মামলায় হাজিরার তারিখ রয়েছে খালেদার। এছাড়াও রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলায় আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অভিযোগপত্র আমলে নেয়ার বিষয়ে শুনানির তারিখ ধার্য রয়েছে। মহানগর দায়রা জজ আদালতে এ মামলার শুনানি হবে।

এ মামলার ধরন অনুযায়ী নির্ধারীত তারিখে আদালতে হাজির না হলে আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নিয়ম রয়েছে।

অন্যদিকে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা অন্য একটি মামলার শুনানির জন্য আগামী ২ মার্চ দিন ধার্য রয়েছে। পুলিশ গত বছর ৬ মে ওই মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। খালেদা জিয়া ছাড়াও এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত আরো ৩৭ আসামি রয়েছেন। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

গত বছর ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীতে গ্লোরী পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোলবোমা হামলার ঘটনায় ৩০ জন দগ্ধ হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। ঘটনার দুই দিন পর যাত্রাবাড়ী থানার এসআই কে এম নূরুজ্জামান বেগম খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে মামলা করেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সম্প্রতি দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে আগামী ৩ মার্চ। সে দিন তাকে আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। ঢাকার মহানগর হাকিম রাশেদ তালুকদার গত ২৫ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে করা নালিশি মামলা আমলে নিয়ে এ সমন জারি করেন।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছেন সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য। সরকারের অনুমোদন পাওয়ার পর ওই দিন সকালে আদালতে গিয়ে তিনি এই মামলার অভিযোগ দাখিল করেন।

এছাড়াও আগামী ৩ মার্চ আরো দুটি মামলায় খালেদা জিয়ার হাজিরার তারিখ ধার্য আছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা দু’টিতে নিয়ম অনুযায়ী হাজির হওয়ার কথা থাকলেও নিয়মিতই তা থেকে অব্যাহতি চাচ্ছেন খালেদা জিয়া। তার পক্ষে আইনজীবীরা এই আবেদন করছেন। আদালত তাকে সময় মঞ্জুর করছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলা দু’টির মধ্যে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচার কার্যক্রম প্রায় শেষের পথে। রাষ্ট্রপক্ষের সব সাক্ষী ইতোমধ্যে জবানবন্দী দিয়েছেন। তাদের জেরাও সম্পন্ন করা হয়েছে। এখন মামলার বাদি ও তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা করা হচ্ছে। অন্য দিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার বাদীও ইতোমধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা গ্যাটকো মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদা জিয়ার আবেদন উচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে যাওয়ার পর খালেদা জিয়াকে আগামী ১৩ এপ্রিল হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার জজ আদালত। ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার গত মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। খালেদা জিয়ার সাথে মামলার বাকি ১২ আসামিকেও ওই দিন হাজির হতে হবে। জরুরি অবস্থার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা এ মামলাটি অভিযোগপত্র দাখিলের পর বর্তমানে অভিযোগ গঠনের শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

মামলার বিষয়ে খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। সরকার বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে বেগম জিয়াকে প্রতিহত করতে চাইছে। এভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। বিএনপি যাতে দল গঠন ও কাউন্সিল গঠন করতে না পারে সে জন্য তাকে চাপে রাখতেই ঘন ঘন মামলার তারিখ নির্ধারণ হচ্ছে। এসব মামলা মূলত তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করতেই করা হচ্ছে। বাংলামেইল






মন্তব্য চালু নেই