মেইন ম্যেনু

৬০ হাজার টাকায় শ্রমিক যাবে মালয়েশিয়ায়

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেছেন, মাত্র ৬০ হাজার টাকায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাবে বাংলাদেশ। আর সৌদি আরবেও কম খরচে নারী শ্রমিক পাঠানো হবে।
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান নবনিযুক্ত প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি।

বিদেশ যেতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের নৌকায় কেউ যাতে উত্তাল সাগর পাড়ি না দেয় সে ব্যাপারে সবাইকে প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বৈধপথে মাত্র ৬০ হাজার টাকা খরচ করেই মালয়েশিয়া যাওয়া যাবে। প্রশিক্ষণ নিয়ে নামমাত্র খরচে সৌদি আরব যেতে পারবেন নারী শ্রমিকরা। এমন সুযোগ থাকার পরও কেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দিবে আমার দেশের মানুষ? আমরা মানুষকে মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘অদক্ষ শ্রমিক বিদেশ গেলে দেশেরই বদনাম হয়। তাই দেশের প্রতিটি উপজেলায় প্রবাসীদের জন্য ট্রেনিং সেন্টার নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রাম থেকে দেওয়া হবে স্মার্ট কার্ড, ফিঙ্গার প্রিন্ট, ব্রিফিং ও যাবতীয় ট্রেনিংও।’

মিয়ানমারের ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলেও মন্তব্য করেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী।

এ মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীল সদস্য ইসহাক মিয়া, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এমএ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান প্রমুখ।

এ সময় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স ও অনলাইন গণমাধ্যমের সিনিয়র সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি বলেন, ‘২, ৪, ৬ হাজার টাকার লোভে রোহিঙ্গাদের সনদ দিবেন না। তাদের অন্যায়ভাবে পাসপোর্ট বানাতে সহায়তা করবেন না। বিদেশে গিয়ে তারা যখন অপকর্ম করে তখন সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় দেশেরই।’

বিদেশে পাঠাতে প্রশিক্ষিত, দক্ষ কর্মী গড়ে তোলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে গিয়ে লাভ কি? তারা যে বেতন পাবে সেটাতে তো কোনো লাভ হয় না। আমরা দক্ষ শ্রমিক গড়ে তোলার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। নারী শ্রমিকদের কথা যদি বলি, তাদেরও প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাদের খাদ্যাভাস, কাথাবার্তা-এসব বিষয়েও প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এক থেকে দেড় সপ্তাহের প্রশিক্ষণ নিলেও হয়। সনদ থাকলে বিদেশে মূল্য আছে। বর্তমান সরকার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ছাড়াও ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে শ্রমবাজার সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।’

অস্ট্রেলিয়াতে নতুন শ্রমবাজার তৈরির ইঙ্গিত দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়াতে প্রচুর প্লাম্বার, বেকারি শ্রমিক, ডাক্তার, নার্স দরকার। তারা এসব ক্ষেত্রে দক্ষতাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। বাংলাদেশ তৈরি থাকলে নতুন সুযোগ অপেক্ষা করছে অস্ট্রেলিয়াতে।’

জনশক্তি অফিস, ট্রেনিং সেন্টারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরকে ইঙ্গিত করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিনা নোটিশে অফিসে ঢুকব আমি। কে কিভাবে দায়িত্ব পালন করছে তা সরেজমিন দেখব। আমাকে কেউ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।’

দেশের ৪১টি ট্রেনিং সেন্টারকে পর্যায়ক্রমে ৭১টিতে উন্নীত করারও ঘোষণা দেন মন্ত্রী।






মন্তব্য চালু নেই