মেইন ম্যেনু

৬১ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রস্তুত

পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ৬১ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসার রয়েছেন।

কোন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন কাউকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা পদে নিয়োগ না দিতে কর্মকর্তাদের তাগিদ দেওয়ার পর সম্প্রতি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা চূড়ান্ত করা হলো।

আগামী সপ্তাহেই এ তালিকা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে ইসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ইসি সূত্র জানান, কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কর্মঠ, নিরপেক্ষ, মেধাবী কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারপরও কোন কর্মকর্তাকে নিয়ে প্রশ্নের সৃষ্টি হলে ওই কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। এ জন্য প্রয়োজনের পাঁচ শতাংশ কর্মকর্তা অতিরিক্ত রাখা হয়েছে।

কোন বিতর্কিত দলীয় প্রতিষ্ঠানের কোন কর্মকর্তাকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা পদে নিয়োগ না দেওয়ার জন্য তফসিলের পর পরই সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছিল কমিশন।

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা বিধি ভঙ্গ করলে শাস্তির বিধানও রাখা হয়েছে। কোন কর্মকর্তা ভোটের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থ হলে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগে ভোটের সংখ্যা সম্পর্কে কাউকে অবহিত করলে তিনি এক থেকে পাঁচ বছর কারাদন্ড এবং অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এ ছাড়াও কোন ব্যক্তিকে ভোট প্রদানে প্ররোচিত, নিবৃত্ত, প্রভাবিত বা নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করতে কোন কাজ করলে তাকেও এক থেকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা অর্থদন্ড ভোগ করতে হবে। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রদেয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

সম্প্রতি কমিশনের এক বৈঠকে ৬১ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকালে কমিশনের যে কোন দায়িত্ব পালনে এসব কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিতে পারবে। কর্মকর্তাদের শৃঙ্খলা ও নিয়ন্ত্রণে কমিশন যে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি কোন অনিয়মে জড়িত হলে কারণ দেখিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে কমিশন। কাউকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া হলে গ্রহণযোগ্য কারণ ব্যতীত তিনি দায়িত্ব গ্রহণ বা পালনে অপারগতা প্রকাশ করতে পারবেন না।

দায়িত্ব গ্রহণের পর অব্যাহতি না পাওয়া পর্যন্ত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা চাকরির অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কমিশনের অধীনে প্রেষণে চাকরিরত আছেন বলে গণ্য হবেন।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র থাকছে ৩ হাজার ৫৮২টি। ভোট কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা ১৯ হাজার ১৮৭টি। এ হিসাবে প্রতি কেন্দ্রে ১ জন করে ৩ হাজার ৫৮২ জন প্রিজাইডিং অফিসার, প্রতি বুথে ১ জন করে ১৯ হাজার ১৮৭ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং প্রতি বুথে ২ জন করে ৩৮ হাজার ৩৭৪ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, কমিশন আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে অবাধ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে চায়। তাই কোনভাবেই যাতে এই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন না উঠে সে দিকে খেয়াল রাখতে কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এমন কাউকে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা পদে নিয়োগ না দিতে ইসি’র দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সারা দেশের ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ আগামী সপ্তাহেই শুরু হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শেষ করেছে ইসি। আগামী এক সপ্তাহে নির্বাচন হতে যাওয়া সব পৌরসভায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন তারা। পাশাপাশি নতুন বিধি-বিধান সম্পর্কে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের অবহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

প্রসঙ্গত, আগামী ৩০ ডিসেম্বর দেশের ২৩৪ পৌরসভায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছে ১২ হাজার ৪৫ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মেয়র পদে ৯২৩ জন এবং কাউন্সিলর পদে ৮ হাজার ৫৮৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৫৩৩ জন প্রার্থী রয়েছে।

এদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র পদে ছয় জন, কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন ও নারী কাউন্সিলর পদে ৪০ জন নির্বাচিত হয়েছেন।

এবারই প্রথম মেয়র পদে দলীয়ভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।






মন্তব্য চালু নেই