মেইন ম্যেনু

৬ মাসেও উদ্ধার হয়নি রিজার্ভ চুরির টাকা

বাংলাদেশের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে চুরির টাকার যে অংশ ফিলিপাইনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা দ্রুত উদ্ধারে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে সহায়তা দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক। বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে চিঠি দেয়ার কথা জানানো হয়।

ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জেনারেল কাউন্সেল এ্লমোর ও’কাপুলেকে গত ২৩ জুন পাঠানো এক চিঠিতে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কের পক্ষে এ অনুরোধ জানান প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল কাউন্সেল থমাস বাক্সটার।

চিঠিতে বলা হয়, ম্যানিলার রিজাল কর্মাশিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) মাকাতি সিটির জুপিটার শাখায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা অ্যাকাউন্টে পরিচয় গোপন করে পৃথক নির্দেশনায় চুরির ওই বিপুল অংকের টাকা পাঠানো হয়।

এ চিঠি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ফেডারেল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অফিস ছুটি হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র শুভঙ্কর শাহার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন হওয়ায় কোনো মন্তব্য করবেন না। রিজাল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চুরির টাকা উদ্ধারে বাংলাদেশ ব্যাংক যে প্রয়াস নিয়েছে তাতে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চুরির ৬ মাসেও হোতাদের চিহ্নিত করা যায়নি এবং ফিলিপাইনে যাওয়া টাকাও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। চুরির জন্য অভিযুক্ত কাউকে এ সময়ে বিচারের মুখোমুখিও করা হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে আলোড়িত এ চুরির ঘটনা মিইয়ে যেতে বসেছে বলে উল্লেখ করা হয় রয়টার্সের প্রতিবেদনে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে ৫টি পৃথক নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার চুরি করে দুর্বৃত্তরা।

চুরির এ টাকার ৮১ মিলিয়ন ডলার পাঠানো ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকে দেশটির ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অংকের অ্যাকাউন্টে। আরবিসির শাখায় চুরির ওই টাকা যাওয়ার পর তা ফিলিপাইনের জুয়ার বোর্ডসহ বিভিন্ন ব্যবসায় চলে যায়। চুরির বাকি ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জমা হয় শ্রীলংকার বেসরকারি সেচ্ছাসেবী সংগঠন শালিকা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে। প্রাপক সংস্থার নামের বানানে ভুল থাকায় ব্যাংক কর্মকর্তারা ওই টাকা পেমেন্ট আটকে দেন।

ব্যাংক জালিয়াতির ইতিহাসে আলোড়িত এ ঘটনার দায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক, ফেডারেল ব্যাংক অব নিউইয়র্ক এবং সুইফট ম্যাসেজিং কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফেডারেল ব্যাংক অব নিউইয়র্ক এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য কিছু কমে আসছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে।






মন্তব্য চালু নেই