মেইন ম্যেনু

৭০ বছর ধরে তালগাছ লাগাচ্ছেন দারগ আলী

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার গ্রাম মনোহরপুর। এখানকার সৌন্দর্য বাড়িয়েছে রাস্তার দুপাশের শত শত তালগাছ। শিশুরা এখানে তালগাছ দেখেই আওড়ায় রবীন্দ্রনাথের বিখ্যাত শিশুতোষ কবিতা ‘তাল গাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে/সব গাছ ছাড়িয়ে/ উঁকি মারে আকাশে। ’

রাস্তা ধরে হাঁটতে সবাই বলাবলি করেন, ‘এটা দারগ আলীর কীর্তি’। শৈশব থেকেই তিনি তালগাছ লাগান। এখন তার বয়স ৮০-র ঘরে। তাল বীজ লাগানোর সময় অনেকে বলেছেন, ‘পাগলের কাণ্ড দেখো! যেখানে সেখানে তাল বীজ রোপণ করে লাভ কি?’ অথচ এই তালগাছ দেখে পাশের নাওরাসহ কয়েকটি গ্রামের রাস্তায়ও লোকজন তালগাছ লাগিয়েছেন। মনোহরপুর গ্রামের বাদশা মিয়ার তিন ছেলে তিন মেয়ের মধ্যে দারগ আলী দ্বিতীয়। তিনি গ্রামের খাঁটি কৃষক। স্ত্রী মরিয়ম বিবিকে নিয়ে তিনি স্বেচ্ছায় তাল বীজ লাগানোর কাজ করে আসছেন।

তাদের দুই ছেলে দুই মেয়ে। দারগ আলী বলেন, ‘নিজের, অন্যের জায়গা এবং সরকারি রাস্তার পাশে তাল বীজ লাগানোর সময় অনেকে আমাকে পাগল বলত। এখন গাছের তাল অনেকে কুড়িয়ে নেন। গাছের ছায়ায় বসে আরাম করেন। গাছের ঢাল রান্নার কাজে লাগান। এ গ্রামের প্রয়াত দুলা মিয়া চেয়ারম্যান এসব কাজে আমাকে উৎসাহ দিতেন। ’

তিনি বলেন, ‘গাছগুলোকে আমার সন্তানের মতো মনে হয়। সকাল-বিকাল গাছগুলো দেখি। তালগাছের সারি দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। আমার দেখাদেখি পাশের গ্রামগুলোতেও লোকজন অনেক তালগাছ লাগিয়েছেন। ’ এ ব্যাপারে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসলেহ উদ্দিন জানান, ‘মনোহরপুর, নাওরা, চেঙ্গাহাটা, চাঁনপুরসহ পাশের গ্রামগুলোর রাস্তায় শত শত তাল গাছ রয়েছে। এগুলো রোপণ করেছেন দারগ আলী। ’ পাশের নাওরা গ্রামের বাসিন্দা কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জামিল সেলিম বলেন, দারগ আলী একজন নীরব সমাজকর্মী। তারমতো পরিবেশ রক্ষায় আমাদেরও তাল বীজসহ অন্যান্য ফল ও কাঠ গাছ লাগানোয় এগিয়ে আসা উচিত। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন






মন্তব্য চালু নেই