মেইন ম্যেনু

৭০ বছর পরে আমেরিকার যুদ্ধবন্দিদের কাছে ক্ষমা চাইল জাপানি কোম্পানি মিৎসুবিশি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অ্যামেরিকান বন্দীদেরকে কাজ করতে বাধ্য করার কারণে ক্ষমা চেয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে যাচ্ছে মিৎসুবিশি কর্পোরেশন।

জাপানি এই কোম্পানির একজন নির্বাহী কর্মকর্তা তখনকার একজন যুদ্ধবন্দী ৯৪ বছর বয়সী জেমস মারফি এবং অন্যান্য বন্দীদের আত্মীয় স্বজনের কাছে এই ক্ষমা চাইবেন।

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে সাইমন ভিজেনথাল সেন্টারে একটি অনুষ্ঠানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কোম্পানিটির ভূমিকার কারণে তিনি তাদের গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করবেন।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীতে যারা আন্দোলন করছেন তারা বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বন্দীদের কাছে জাপানের কোন কোম্পানি এই প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করতে যাচ্ছে।

তারা আশা করছেন, এর পর অন্যান্য কোম্পানিও একইভাবে তাদের ভূমিকার জন্যে ক্ষমা চাইবে।

তারা বলছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৭০ বছর হতে যাচ্ছে আগামী অগাস্ট মাসে এবং তার আগে এই ক্ষমা প্রার্থনার ঘটনা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক ঘটনা।

অনুষ্ঠানে মি. মারফি অন্যান্য যুদ্ধবন্দীদের প্রতিনিধিত্ব করবেন যাদেরকে সেসময় জাপানি ওই কোম্পানির একটি খনিতে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিলো।

মিৎশুবিশির পূর্বতন কোম্পানি মিৎসুবিশি মাইনিং কো. এসব খনি পরিচালনা করতো।

চারটি স্থানে এই খনিতে কাজ চলতো।

এসব খনিতে পাঁচশোর মতো অ্যামেরিকান বন্দীকে কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিলো।

ফিলিপাইন, কোরিয়া এবং চীনা বন্দীদেরকেও কাজ করতে বাধ্য করা হয়।

মি. মারফি বলেছেন, তিনি কপারের একটি খনিতে এক বছরের মতো কাজ করেছেন এবং তার অভিজ্ঞতা ভয়াবহ।

“সবদিক থেকেই এটা ছিলো মারাত্মক এক দাসত্ব। খাবার ছিলো না, ওষুধ ছিলো না, কাপড় চোপড় ছিলো না, ছিলো না প্রস্রাব পায়খানা করার জায়গাও।” বলেন মি. মারফি।

তিনি বলেন, যারা তাকে কাজ করতে বাধ্য করেছিলেন তাদেরকে তিনি আগেই ক্ষমা করে দিয়েছেন কিন্তু তারপরেও তিনি চাইতেন যে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করুক।

আর্থিকভাবে কোন ক্ষতিপূরণ না দিলেও তারা এই দুঃখ প্রকাশকে অত্যন্ত বড়ো ঘটনা হিসেবেই দেখছেন।

সংবাদদাতারা বলছেন, কোম্পানিটি এখন কেনো দুঃখ প্রকাশ করতে যাচ্ছে সেটা পরিষ্কার নয়।

অ্যামেরিকান যুদ্ধবন্দীদের কাছে পাঁচ বছর আগেই ক্ষমা চেয়েছে জাপান সরকার। বিবিসি বাংলা






মন্তব্য চালু নেই