মেইন ম্যেনু

৭ বছরের ছেলেকে জঙ্গলে ফেলে আসলেন বাবা-মা

রূপকথার গল্পে এই রকম কাহিনী তো অহরহ শোনা যায়। কোনো এক শিশুকে জঙ্গলে ফেলে আসে তার সৎ মা। এরপর সে ডাইনির কবলে পরে এবং বুদ্ধির জোরে সে আবার বাড়িতে ফিরে আসে। কিন্তু এটা কোনো রূপকথা নয়। জাপানে সত্যি সত্যিই এমন ঘটনা ঘটেছে। সাত বছরের এক ছেলেকে হোক্কাইডোর জঙ্গলে ফেলে এসেছেন এক জাপানি বাবা-মা। গত দুদিন ধরে গোটা বন তন্ন তন্ন করে খুঁজেও ছেলেটিকে এখন অব্ধি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারীদের আশঙ্কা, ছেলেটি কোনো বন্য প্রাণির হামলার শিকার হয়েছে। তবে তারা এখনো তাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে বেরিয়েছিল সাত বছরের ইয়ামাতো তানুকা। কি নিয়ে যেন তার ওপর রেগে গিয়েছিলেন তার বাবা-মা। ছেলেকে শাস্তি দিতে তারা তাকে গাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সে হারিয়ে গেছে জাপানের হোক্কাইডো দ্বীপের এক গহিন জঙ্গলে। তাকে খুঁজে বের করতে দ্বীপটির নানেয় অঞ্চলের মেট কোমাগাটাকে বনে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন দেড়শ’র বেশি উদ্ধারকর্মী।

প্রথমে ইয়ামাতো তানুকার বাবা-মা পুলিশকে বলেছিলেন, জঙ্গলে বুনো সব্জি তোলার সময় সে হারিয়ে গেছে। কিন্তু ঘটনার একদিন পর রোববার তারা আসল ঘটনা ফাঁস করেন। তারা জানান, রাগের মাথায় তারা মেট কোমাগাটাকের প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকায় ছেলেকে ফেলে এসেছিলেন। অবশ্য একটু পরই তারা ছেলেকে তুলে আনার জন্য গাড়ি নিয়ে সেখানে ছুটে যান। কিন্তু গিয়ে দেখেন কোথাও নেই তানুকা। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে শেষে পুলিশে খবর দেন ওই বাবা-মা। কিন্তু ভয়ের কথা হচ্ছে, কোমাগাটাকের ওই জঙ্গলটি রয়েছে প্রচুর বাদামি ভাল্লুক। ছেলেটি যদি ওই হিংস্রপশুগুলোর খপ্পরে পড়ে তাহলে কি হবে! ভাবতেই বুকটা ধক করে ওঠে।

স্থানীয় এক টিভি চ্যানেলকে তানুকার বাবা জানিয়েছেন, প্রথমে ভয় পেয়ে তারা পুলিশের কাছে সত্য গোপন করেছিলেন। তবে কি অপরাধে তারা ছেলেকে এতবড় শাস্তি দিয়েছিলেন তা স্পষ্ট নয়। তবে সে যত বড় অপরাধই করুক না কেন এভাবে জঙ্গলে ফেলে আসা ঠিক হয়নি। এ ঘটনায় বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন ওই নির্বোধ বাবা-মা।






মন্তব্য চালু নেই