মেইন ম্যেনু

৮ম শ্রেণি পাশ বাংলার এই বিখ্যাত চিকিৎসককে চেনেন কি?

গল্প নয়, সত্যি। দিব্যি পসার এই চিকিৎসকের। রোগীরাও এই চিকিৎসকের বেজায় ভক্ত। কিন্তু তাঁর কোনও মেডিক্যাল ডিগ্রি তো নেই এমনকি স্কুলের গণ্ডিও পার হননি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার পানবাড়ির বিখ্যাত ডাক্তার ইলিয়াস টোপ্পো। পেশায় চিকিৎসক হলেও তাঁর কোনও মেডিক্যাল ডিগ্রি নেই। কোনও মতে অষ্টম শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়েছেন। মাধ্যমিক পরীক্ষাতেও বসেননি। তবুও দীর্ঘ দিন ধরে সুনামের সঙ্গে ডাক্তারি করে চলছেন ডুয়ার্সের এই চিকিৎসক। আর ডিগ্রি ছাড়া এই চিকিৎসক গ্রামবাসীদের কাছে ভগবান-স্বরূপ।

প্রথম জীবনে স্কুলে পা দিলেও অষ্টম শ্রেণি পাশ করার পরে আর স্কুলের দিকে ফিরেও তাকাননি ইলিয়াস। এর পরে পারি দেন ভিন রাজ্যে।

সেখানে দীর্ঘ সময় কাটানোর পরে ফিরে আসেন নিজের জায়গা আলিপুরদুয়ার জেলার পানবাড়িতে। শুরু হয় জীবন-সংগ্রাম। তাঁর এক চিকিৎসক দাদার কাছে কাজে যোগ দেন। তাঁর কাছে পাঁচ বছর কম্পাউন্ডার হিসেবে কাজ করার পরে পানবাড়িতে শুরু করেন চিকিৎসা। নিজের বাড়িতে খোলেন চেম্বার। চিকিৎসক হয়ে যান ইলিয়াস।

দীর্ঘ ১৮ বছর ডাক্তারি পেশায় রয়েছেন ইলিয়াস। কিন্তু মাধ্যমিকের গণ্ডিও না টপকে কীভাবে একজন পেশাদার ডাক্তার হয়ে উঠলেন? এর পিছনেও রয়েছে এক গল্প।

পানবাড়ি আলিপুরদুয়ার শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। সেখানে নেই কোনও পাশ করা ডাক্তার, নেই হাসপাতাল, নেই স্বাস্থ্য কেন্দ্র। ফলে কম্পাউন্ডার ইলিয়াস এক সময়ে হয়ে ওঠেন অগতির গতি। শুধু পেশাদার বললে ভুল হবে এখন খ্যাতি সম্পন্ন ডাক্তার তিনি। এলাকার মানুষের কাছে তিনি যেন ভগবান।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এলাকায় কোন ডাক্তার, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকায় আমরা ইলিয়াসবাবুর কাছে যাওয়া শুরু করি। রোগ বিচার করে ওষুধ দেন তিনি। আমরা অনেক উপকার পেয়েছি তাঁর থেকে। তিনি গ্রামে না থাকলে হয়তো গ্রামটি বহুদিন আগেই জনমানব শূন্য হয়ে যেত।

ডাক্তার ইলিয়াসের বক্তব্য, ‘আমার সাধ্য মতো চিকিৎসা করি। বিভিন্ন রোগ বিচার করে ওষুধ দেওয়া, সেলাই করা, ইঞ্জেকশন দেওয়া, স্যালাইন দেওয়া এসব দক্ষতার সঙ্গেই করে আসছি। আজ অব্দি কোনও অসুবিধা হয়নি। তবে জটিল রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে আলিপুরদুয়ারে রেফার করে দিই।’ -এবেলা।






মন্তব্য চালু নেই