মেইন ম্যেনু

৮২ বছর পর মা-মেয়ের দেখা!

নয় মাস নিজের রক্ত-মাংস দিয়ে তাকে বড় করে তুলেছিলেন। প্রসব যন্ত্রণা সহ্য করে তাকে দেখিয়েছিলেন পৃথিবীর আলো। কিন্তু, সেই সন্তানের বড় হয়ে ওঠার মুহূর্তগুলো নিজের চোখে দেখার সৌভাগ্য হয়নি নিরুপায় মায়ের। প্রকৃতির যাঁতাকলে পড়ে খোয়াতে হয়েছিল দুধের শিশুকে। ৮২ বছর পর ফের দেখা হল হারিয়ে যাওয়া সেই ‘দুধের শিশু’র সঙ্গে। যদিও সেই ‘শিশু’ এখন ৮২ বছরের বৃদ্ধা। আর মায়ের বয়স ৯৬।

গত আট দশক ধরে একে অপরকে হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন তারা। অবশেষে দেখা মিলল। ঠিক কী ঘটেছিল? ১৯৩৩ সালের কথা। মাত্র ১৪ বছর বয়সে মা হয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাসিন্দা লিনা পের্সি। আদর করে মেয়ের নাম রেখেছিলেন ইভা মে। কিন্তু এত কম বয়সে মা হওয়ায় তার পক্ষে বাচ্চার ঠিকমতো দেখভাল করা সম্ভব নয়, এই কারণ দেখিয়ে ছয় মাসের ছোট্ট ইভাকে নিয়ে যাওয়া হয় হোমে। সেখান থেকে ইভাকে এক দম্পতি দত্তক নেন। ইভার নতুন নাম হয় বিটি মরেল।

মেয়ের নতুন জীবনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মায়েরও নতুন জীবন। প্রথম বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে বিয়ে করে সংসার পাতেন লিনা। সাত-সাতটি সন্তানের মা তিনি। কিন্তু হলে কী হবে? এই সাত সন্তানের মধ্যেও তিনি খুঁজে বেড়ান ইভার মুখ। হাজার হোক, প্রথম সন্তান বলে কথা! ইভাকে ভুলতে পারেননি লিনা। সাধ্যমতো চেষ্টা চালাতে থাকেন ইভাকে খুঁজে বের করার।

এদিকে সুখে নেই ইভা থুড়ি বিটিও। ২০ বছর পেরোতে না পেরোতেই মারা যান বিটির পালিত বাবা-মা। সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়েন তিনি। বিটি বলেন, ‘‘আমি মনে মনে অনেক ভাই-বোনকে সঙ্গী হিসেবে ভাবতাম। আমার সব ভাই-বোনেদের নাম দিয়েছিলাম। রাতের বেলা বিছানায় শুয়ে শুয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতাম। আর আমার মা’কে খুঁজতাম।’’

মাকে খুঁজে বের করতে প্রথমে বিটি যান তার হোমে। যেখান থেকে তাকে দত্তক নেওয়া হয়েছিল। বিটির এক আত্মীয়া তার আসল নাম-জন্মস্থান জানিয়েছিলেন। এরপর থেকেই জেনিওলজিক্যাল ওয়েবসাইট থেকে পড়াশুনা শুরু করেন বিটি। মাত্র ছ’মাস বয়সে এক বার ইভা থেকে বিটি মরেল হয়েছিলেন। ৮২ বছর পর নতুন করে শুরু হয় বিটি থেকে ইভা হওয়ার লড়াই।

অবশেষে এক দিন লিনাকে খুঁজে পান ইভা। তার মা এখনও বেঁচে আছেন জানতে পেরে রীতিমতো অবাক হয়ে যান। ঠিক করেন, যে করেই হোক দেখা করতে হবে মায়ের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে দেখা হল মা-মেয়ের। হয়তো এখন মনের সুখে গোটা জীবন ধরে জমানো অজস্র কথা বলবেন মা-মেয়ে।






মন্তব্য চালু নেই