আমি সবসময় চাই ছবিতে ভিন্নমাত্রা আনতে : কুরোসাওয়া

ছবিনির্মাণ শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য টোকিও আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের তৃতীয় বার্ষিক সামুরাই অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন পরিচালক মার্টিন স্করসেসে ও কিয়োশি কুরোসাওয়া।
উৎসব শুরু হওয়ার আগে নতুন ছবির প্রমোশনের জন্য টোকিওতে ছিলেন স্করসেসে। কিন্তু, উৎসবে ছিলেন না তিনি। এ কারণে কেবল কুরোসাওয়ার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়।

দেশে এবং দেশের বাইরে, কুরাসাওয়া মূলত ‘দ্য কিউর’, ‘ক্যারিশমা’ ও ‘পাল্স’-এর মতো হরর ও থ্রিলার ছবির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এরপরও তার রয়েছে টেলিভিশন ও ভিডিও মার্কেটে বড়সড় সম্পৃক্ততা। এটা পরিষ্কার যে, কুরোসাওয়া একেবারেই সাদামাঠা ছবির নির্মাতা নন। তিনি নিজেকেও এ ক্ষেত্রে আলাদা মনে করেন।
হরর মুভির জন্যই কি তিনি বিশেষত্ব নিয়ে থাকবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন, ‘আমি সবসময় ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার ছবি বানাতে চাই। সেটা করিও।’

কুরোসাওয়া সত্তরের দশকে একদল মেধাবীর সাথে কাজে জড়িয়ে যান, যাদের মধ্যে আছেন শিনিজে আওইয়ামা ও মাকোতো শিনোজাকির মতো লোক। তারা পরে স্বনামধন্য পরিচালক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
অবশ্য, তার কাজের প্রথম অভিজ্ঞতা হয় আশির দশকে, শিনজি সোমাই’র ব্লকবাস্টার ‘সেইলর সুইট অ্যান্ড মেশিনগান’-এ। সেখানে তিনি সহকারী পরিচালক ছিলেন। সোমাই’র সেট ছিল বেশ কঠিন। কুরোসাওয়া যেমনটি মনে করলেন, ‘বড় কঠিন ছিল সেটটি। প্রডাকশনটির সবগুলো দিক ছিল সম্ভ্রান্ত। তবে এডিটিংয়ের সময় এর অনেক কিছু ছেঁটে ফেলা হয়।’
এরপর তিনি নিজেই ছবি পরিচালনায় হাত দেন। ‘সুইট হোম’-এর আগ পর্যন্ত তিনি হররে প্রবেশ করেননি। সুইট হোম অনাকাক্সিক্ষতভাবে সুপারহিট হওয়ার পর ইতামি কুরোসাওয়ার সঙ্গে কাজ করতে সম্মত হন।

কুরোসাওয়া বললেন, ‘যে সময়ে জাপানি পরিচালকরা হরর ছবি বানাননি, যে কারণে স্টাডি করার কোনো সুযোগও ছিল না, তখন আমি অভিজ্ঞতার জন্য ‘পল্টারগিস্ট’-এর মতো হরর মুভিগুলোকে অভিজ্ঞতার জন্য সামনে আনি।
ইতামির সাথে কাজ করতে গিয়ে তার মতদ্বৈততা হয়েছিল। কুরোসাওয়া চাইতেন, দর্শকদের ভীতসন্ত্রস্ত করে তুলতে আর ইতামি চাইতেন বিনোদন দিতে। কুরোসাওয়ার এই চাওয়াই তার ছবিগুলোকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছিল। এ কারণেই তিনি হয়ে ওঠেন ভিন্নমাত্রা আদর্শ পরিচালক।



মন্তব্য চালু নেই