এই ৪ কারণেই অধিনায়কত্ব ছাড়লেন ধোনি!

গোটা বিশ্বের ক্রিকেট সমর্থকদের কার্যত চমকে দিয়ে সীমিত ওভারের অধিনায়কত্ব ছাড়লেন। সামনেই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের ম্যাচ খেলতে নামবে ভারত।

আর একটি ম্যাচে নেতৃত্ব দিলেই অধিনায়ক হিসাবে ডাবল সেঞ্চুরি পূরণ করতে পারতেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি এমন সিদ্ধান্ত কেন নিলেন? আজ সকাল থেকে এমন প্রশ্ন সকলের মুখে ঘুরছে।

ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে যেটুকু জানা গেছে, তাতে মাহির অধিনায়কত্ব ছাড়ার পিছনে মূলত এই চারটে কারণ দায়ী।

২০১৯ বিশ্বকাপ : ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অধিনায়ক যে মহেন্দ্র সিং ধোনি ছিলেন, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে একথাও সত্যি, সম্প্রতি ধোনি ম্যাজিক বাইশ গজে আর দেখা যায় না বললেই চলে। অনেকেই আশা করেছিলেন যে ২০১৯ বিশ্বকাপে ধোনি হয়ত ভারতীয় ক্রিকেট দলকে নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু, বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও তিন বছর বাকি। বর্তমানে ধোনি যে ফর্মে রয়েছেন, তা মাথায় রেখে বলা যায় যে আগামী বিশ্বকাপে

তিনি নিজের কারিশমা কতটা দেখাতে পারবেন, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ফলে দলের তরুণ ক্রিকেটারদের হাতে অধিনায়কত্ব তুলে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে বলে তিনি মনে করেছেন। অন্যদিকে, মাহির এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর যার হাতেই অধিনায়কত্ব তুলে দেওয়া হোক না কেন, তিনি বিশ্বকাপের আগে দবলকে গুছিয়ে নেওয়ার অনেকটা সুযোগ পাবেন।

গত দুই বছরে তেমন সাফল্য আসেনি : বিগত দুই-আড়াই বছরে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ভারতীয় দল তেমন কিছু করে দেখাতে পারেনি। বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ়ে পরাস্ত হয়েছে মাহি ব্রিগেড। এমনকী দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেও খুব একটা ভালো ফলাফল করতে পারেনি। নিউজ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধেও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে জয়লাভ করেছে। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে গেছে ভারত।

ব্যাটিং ফর্ম : অধিনায়কত্বের পাশাপাশি, ব্যাট হাতেও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে ধোনিকে। ২০১৩ সালে শেষ শতরান করেছিলেন মাহি। প্রতিবার ব্যর্থ হওয়ার পর তার দিকে সমালোচনার তীর ধেয়ে আসছিল।

অন্যদিকে মণীশ পাণ্ডে, কেদার যাদব কিংবা করুণ নায়ারের মতো ব্যাটসম্যানরাও তার পিছনে অপেক্ষা করছেন। দলে নিজের জায়গাটা ধরে রাখতে গেলে, নিজের ব্যাটিংয়ের ওপর অবশ্যই জোর দিতে হবে ধোনিকে। হয়ত, অধিনায়কত্বের চাপেই তিনি হাত খুলে খেলতে পারেন না। এবার সেইদিকে নজর দেবেন বলেই মনে করছে ক্রিকেটমহল। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ধোনির ব্যাট থেকে বেশ কয়েকটি বড় রান এসেছিল। আশা করা হচ্ছে, তিনি সেই ফর্ম ধরে রাখতে পারবেন।

অধিনায়ক হিসাবে বিরাট কোহলির উত্থান : ইতিপূর্বে ধোনি বহুবার বলেছেন অধিনায়কত্বের বিচারে তিনি যদি যোগ্য উত্তরসূরি পান, তাহলে অবশ্যই দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। টেস্ট ক্রিকেটে বিরাট কোহলি অসাধারণ সাফল্য পেয়েছেন। ফলে ধোনির পরের প্রজন্ম যে তৈরি হয়ে গেছে, তা বুঝতে পেরেই সিংহাসন ছেড়ে দিয়েছেন।



মন্তব্য চালু নেই