বিব্রত ২০ দলের নেতারা

কৌশলে বার বার হার বিএনপির

রাজনৈতিক কৌশলে বার বার হারছে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং কিছু কিছু ব্যাপারে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক শক্তির কৌশলের বিপরীতে ত্বরিত ও সময়োপযোগী পাল্টা কৌশলী ভূমিকায় উপনীত না হওয়াও এক ধরনের ব্যর্থতা। আর এর দায় গিয়ে পড়ছে বিএনপি তথা ২০ দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ওপরে। যার কারণে মাঠের রাজনীতিতে জনসম্পৃক্ততা মোটামুটি থাকলেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক কৌশলের কাছে বার বার হারতে হচ্ছে খালেদা জিয়ার জোটকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খালেদা জিয়া যেহেতু বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের প্রধান, তাই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সঠিক সময়ে তাকেই নিতে হবে। রাজনৈতিক আন্দোলনে যেকোনো সময় যেকোনো ধরনের সঙ্কট তৈরি হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ দলের কৌশলের বিপরীতে নিজেরা ত্বরিত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হতে হবে। আর বার বার এটাই ঘটছে বিএনপি জোটের ক্ষেত্রে।

২০১৩ সালের মার্চ মাসে ঢাকায় সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে সাক্ষাতের শিডিউল থাকা সত্ত্বেও হরতালের অজুহাতে দেখা করেননি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। প্রতিবেশী একটি বড় দেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ না করায় নেতিবাচক হিসেবে দেখেন রাজনৈতিক মহল। নিজ জোটের নেতাদের মধ্যেও এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বিএনপি জোটের তখনকার শরিক (পরে জোট থেকে বহিষ্কার) ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান শেখ শওকত হোসেন নিলু ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে এবং বাইরে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ভারতের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাক্ষাৎ না করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না।

এর কিছুদিন পর একই বছরের অক্টোবরে সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলন চলাকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সঙ্কট সমাধানে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন বেগম খালেদা জিয়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রেক্ষাপটে বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন দেন এবং গণভবনে চায়ের দাওয়াত দেন। কিন্তু হরতালের কর্মসূচি চলছে এ অবস্থায় সাক্ষাৎ করবেন না বলে জানিয়ে দেন খালেদা জিয়া। এ অবস্থায় সংলাপের সম্ভাবনা তৈরি হলেও পরে আর গড়ায়নি। এটিকেও খালেদা জিয়ার ভুল সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।

সর্বশেষ গত ২৪ জানুয়ারি বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে সাক্ষাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। রাজনৈতিক মহল ও সুশীল সমাজ তো বটেই, সাধারণ মানুষের ধারণা ছিল, দুই নেত্রীর সাক্ষাতে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের আঁধার দূর হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দুই নেত্রীর মধ্যে বহু কাঙ্ক্ষিত এ সাক্ষাৎ আর হয়নি।

২৪ জানুয়ারি রাতে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে শোকাতুর মা বেগম খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে যান।‍ এ সময় কার্যালয়ের গেট বন্ধ ছিল এবং বিএনপির শীর্ষস্থানীয় কোনো নেতা প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে গেটে আসেননি। ফলে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে গণভবনে ফিরে যান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুলশান কার্যালয়ের সামনে পৌঁছার কিছুক্ষণ আগে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘পুত্রের মৃত্যুতে বিএনপি চেয়ারপারসনের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা ভাল না থাকায় তাকে (খালেদা জিয়া) ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। এ মুহূর্তে তার সঙ্গে দেখা করা সম্ভব নয়। আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছি, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যেন এখন না আসেন।’

প্রধানমন্ত্রী গুলশান ত্যাগের পর শোকবই হাতে নিয়ে শিমুল বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এখন না আসতে বলা হলেও তিনি এসেছেন জেনে উপর থেকে শোক বই নিয়ে দৌড়ে নামতে নামতেই তিনি চলে গেছেন। তিনি এ নিয়ে রাজনীতি না করতে আহ্বান জানান।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, কোকোর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যখন জনগণের বহু প্রত্যাশিত দুই নেত্রীর সাক্ষাৎ বা মুখোমুখি হওয়ার একটা সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছিল তা বিএনপির একগুয়েমি বা যথোপযুক্ত ত্বরিত সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণেই ব্যর্থ হয়েছে। দুই নেত্রীর সাক্ষাৎ হলে সঙ্কট উত্তরণে সংলাপের পরিস্থিতি তৈরি হতো এবং সঙ্কট হয়ত কেটেও যেত তাড়াতাড়ি।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী আন্দোলনের সমাধান হিসেবে প্রধান দুই জোট বিশেষ করে, শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে সংলাপের তাগিদ ছিল সুশীল সমাজসহ সর্বসাধারণের। এ নিয়ে এতদিন বিএনপি জোটের আন্দোলনের প্রতি সুশীল সমাজের কিছুটা সহানুভূতি থাকলেও প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপি কার্যালয়ে ঢুকতে না দেওয়া এবং তাকে অভ্যর্থনা না জানানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, এতে বিএনপি জোট চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লাভবান হয়েছে আওয়ামী লীগ। জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর শীর্ষ নেতাদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া।

বিএনপির শুভাকাঙ্ক্ষীরা তো বটেই, বিব্রত অবস্থায় রয়েছেন ২০ দলের শরিক নেতারাও। এ ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে আওয়ামী লীগ আর বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি জোট।

এ ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার  বলেন, দেশবাসীর মনে আশার আলো জেগেছিল দুই নেত্রীর সাক্ষাতের মাধ্যমে সংলাপের দুয়ার খুলবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। বিএনপির নেতারা সে দিন বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেননি। এতে তারা জনসমর্থনও হারিয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোতে যে গণতন্ত্র নেই এবং ব্যক্তি বিশেষের পছন্দ-অপছন্দে তারা পরিচালিত হন, তা আবার প্রমাণিত হল এর মাধ্যমে। এক্ষেত্রে বিএনপি যেমন ভুল করছে, তেমনি সরকারি দলেও দৈন্যতার পরিচয় মিলেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান  বলেন, একটি বিয়োগান্তক ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন। জাতি প্রত্যাশা করেছিল দুই নেত্রীর সাক্ষাতে বর্তমান সঙ্কটাপন্ন রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তনের সূত্রপাত হবে। কিন্তু খালেদা জিয়া বা তার দল রাজনৈতিক প্রজ্ঞার পরিচয় দেননি। দুর্ভাগ্যবশত তাদের সাক্ষাৎ হয়নি। খালেদা জিয়া ঘুমিয়ে ছিলেন ঠিক আছে। কিন্তু দলের অন্য নেতারা যদি প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান দেখিয়ে কাছে এগিয়ে যেতেন তাহলে হয়ত কিছুটা সঙ্কট উত্তরণের সুবাতাস বইতে পারত।

তিনি বলেন, আগেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে ফোন করে চায়ের দাওয়াত দিয়েছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার অনমনীয়তার কারণে তা আর এগুয়নি। এবারও বিএনপি একটা সুযোগ হারাল এবং জাতিকে এর মাসুল দিতে হচ্ছে। হরতাল-অবরোধের আগুনে সাধারণ মানুষকে পুড়ে মরতে হচ্ছে। তবে তিনি মনে করেন উভয় পক্ষেরই দেশের প্রতি দায় রয়েছে। দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তারা যার যার অবস্থান থেকে ছাড় দেবেন বলে আশাবাদ তার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২৪ জানুয়ারি রাতে যখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে গুলশানে যান, তখন তার কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, বেগম সারোয়ারী রহমান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চেয়াপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল কাইয়ুম, চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান ও ব্যক্তিগত সহকারী সামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।

২০ দলের শরিক এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হয়ত সমবেদনার অজুহাতে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সে দিন গুলশানে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকেও রাজনৈতিক কৌশল থাকা উচিত ছিল। ম্যাডাম না হয় অসুস্থ ছিলেন। কিন্তু অন্য নেতারা তো ছিলেন। গুলশান অফিসের অন্য কর্মকর্তারাও তো ছিলেন। তারা কেন গেটের সামনে এলেন না। কেন প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ভেতরে নিয়ে গেলেন না। ম্যাডামের সঙ্গে দেখা না হয় নাই হল। কিছুক্ষণ বসিয়ে কমপক্ষে এক কাপ চা-ও তো খাওয়াতে পারতেন তারা।

তিনি বলেন, টানা অবরোধ ও হরতালে সরকার প্রকাশ্যে স্বীকার না করলেও সঙ্কটের কথা ভেবে আলোচনার পথ খুঁজছিল। কিন্তু কোকোর মৃত্যুকে কেন্দ্রকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কৌশলের বিপরীতে বিএনপির পাল্টা কৌশলী না হওয়া সে সম্ভাবনা নষ্ট করে দিল।

এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপির ডাকসাইটের নেতারা এখন আড়ালে-আবডালে রয়েছেন। বা তাদের নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। এতদিন আমলা ও ব্যবসায়ীরা ম্যাডামকে ঘিরে রেখে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ভুল বুঝাতেন। এখন তাদের অনেকেই নেই। তবে আমলাদের পরিবর্তে ‘কামলারা’ বিএনপিকে সামলাচ্ছেন। তাদের কাছে তো আর এত বড় একটি দল ও জোটের রাজনৈতিক কৌশল সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রয়োগ আশা করা যায় না।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস প্রধানমন্ত্রীকে সৌজন্য না দেখানোর ঘটনার জন্য গুলশান কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরই দুষেছেন। অজ্ঞাত স্থান থেকে  টেলিফোনে আব্বাস বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের উচিত ও দায়িত্ব ছিল, সেখানে উপস্থিত দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানসহ সিনিয়র নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর আগমনের বিষয়টি জানানো।

প্রধানমন্ত্রীকে উপযুক্ত অভ্যর্থনা ও সৌজন্য না দেখানোর ব্যর্থতাকে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অর্বাচীনতা হিসেবে মন্তব্য করেন দলের স্থায়ী কমিটির এই সদস্য।

ক্ষোভ প্রকাশ করে আব্বাস বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন গুলশান কার্যালয়ের সামনে গিয়েছেন, তখন বা এর আগেই সেখানে উপস্থিত দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কেন কর্মকর্তারা আলোচনা করেননি?

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আসার পর কী করা উচিত সে সম্পর্কে নির্দেশনা নেওয়া উচিত ছিল।’ তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড অপরাধ হিসেবেও গণ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০ দলের আরেক নেতা  বলেন, ওই সময় গুলশান কার্যালয়ের ভেতরে থাকাদের মধ্যে আইনজীবী এক নেতা গল্পের ছলে আমাকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য তাদের মোটামুটি মানসিক প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু হঠাৎ একটি অজ্ঞাত ফোন প্রেক্ষাপট পাল্টে দেয়।

এ ব্যাপারে জানতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমানের মোবাইলে বুধবার রাতে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক দ্য রিপোর্টকে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কেন গেট বন্ধ থাকল বা খোলা হল না আমি বলতে পারব না। বিষয়টি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ স্পষ্ট করেছেন। তবে আমি বলব সর্বমহল বিশেষ করে, সরকারের সঙ্কট নিরসনে সদিচ্ছা আশা করি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ গত রবিবার গুলশান কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে সহমর্মিতা জানাতে আসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ‘যথোপযুক্ত সৌজন্য না দেখানোটা সঠিক হয়নি’। তবে এ ব্যাপারে দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া একেবারেই অজ্ঞাত ছিলেন। তিনি তখন ছিলেন প্রায় অজ্ঞানের মতো। আমরা নিজেরাও তাকে দেখার সুযোগ পাইনি।

মওদুদ আহমদ আরও বলেন, সিনিয়র নেতাদের মতামতের বাইরেই গুলশান কার্যালয়ের মূল গেটে তালা বন্ধ আগে থেকেই ছিল। খালেদা জিয়ার শোকাগ্রস্ত অবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার কক্ষের দরজা বন্ধ থাকার কারণে প্রধানমন্ত্রীর আসার বিষয়টি ওই সময় তাকে (খালেদা জিয়াকে) জানানো সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে বিএনপির শরিক এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব শাহাদত হোসেন সেলিম  বলেন, বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। আমরা তাদের (বিএনপির) নেতৃত্বেই চলি। তাই দলটির কাছ থেকে সব সময় সূক্ষ্ম ও কৌশলী ভূমিকা আশা করি। বিএনপি নেতারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে এবং রাজনৈতিক কৌশলে ভুল থাকলে তার মাসুল ২০ দলসহ জনগণকেই পোহাতে হয়।

তিনি বলেন, বিএনপিতে কিছুটা সমন্বয়ের অভাব রয়েছে বলে মনে করি। দলটির অনেক মেধাবী ও যোগ্য নেতা দূরে সরে আছেন। প্রয়োজনে তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, বিএনপি নেতাদের যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরেই জোটের সফলতা-ব্যর্থতা নির্ভর করছে।

২০ দলের আরেক শরিক বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া  বলেন, অরাজনৈতিক লোকগুলো যখন রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে, তখনই সমস্যার সৃষ্টি হয়। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে যাওয়াতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে হয় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন। আর সে কারণেই বিপর্যয়। দ্য রিপোর্ট



মন্তব্য চালু নেই