তাকেই সন্তানের পিতা হিসেবে দেখতে চাই, যাকে আমি ভালোবাসি

যে কোনও সম্পর্কেরই তো চালিকাশক্তি মন। মনটাই তো আসল।শরীর তো অনেক পরে। কিন্তু অনেকেই তা বোঝে না। কিছু মানুষের মন বড়ই খামখেয়ালি। এতে তো ওই মানুষটিকে দোষ দেওয়া যায় না। তাই যখন সঙ্গী বা সঙ্গিনী স্রেফ শরীরটাকে নিয়ে খেলা করে, তখন মনটা পড়ে থাকে অনেক দূরে। হ্যাঁ, ধর্ষণ।

এমনই এক জীবনের কথা শেয়ার করেছেন লিসা স্পিয়ার্স নামের এক তরুনী। লিসা-র সম্পর্কটা আসলে ধর্ষণেরই সামিল।

লিসা লিখছেন,

তখন আমার বয়স ২০। স্কুলে পড়ি। স্বাধীনচেতা জীবনেই বিশ্বাসী। তাই স্বাধীন ভাবেই বেঁচে ছিলাম। সন্তান নেওয়ার ইচ্ছে আমার ছিল না। এটাও জানতাম, গর্ভপাত সম্ভব নয়।

দত্তক নেওয়ারও ইচ্ছে ছিল না। আসলে আমি মানুষটাই এরকম বোধ হয়। সব সিদ্ধান্তই শেষ মুহূর্তে নিই। এবং শেষ পর্যন্ত সন্তানই নিলাম।

আমার মধ্যে জন্ম নেওয়া একটি প্রাণ বেড়ে উঠবে। খেলা করবে ঘর জুড়ে। কোলে এসে ঝাঁপিয়ে পড়বে। ভেবে বেশ লাগছিল। কিন্তু তারপরেই যখন ওই সন্তানের আসার অভিজ্ঞতাটা মনে এল, রাগে-দুঃখে বিষাদগ্রস্ত হয়ে গেলাম। আমি ভাবতে থাকলাম, আমার সন্তানকে কেমন দেখতে হবে। কারণ, আমি তো জানি এই সন্তানের ভ্রূণ কী ভাবে আমার শরীরে এসেছে। ওই মানুষটাকে আমি চিনি। খুব খারাপ। বাইরে থেকে নয়। ভিতর থেকে। যে আসছে, সে তো ওই মানুষটারই ঔরসের। আমি জানি, এতে আমার সন্তানের কোনও দোষই নেই। থাকতে পারে না।

ওটা কি ধর্ষণ ছিল? এখনও নিশ্চিত হতে পারি না। আমার মনটা জানার কোনও চেষ্টাই ও করেনি। শুধুই শরীরটাকে উপভোগ করেছে। সত্যি বলছি, এখন মনে হয়, ওই গোটা সম্পর্কটাই আসলে একটি ধর্ষণ। আমি স্বাধীন জীবন চেয়েছিলাম। উদ্দাম নয়। উপভোগ্য।

কিন্তু আমার বয়ফ্রেন্ড চেয়েছিল, সন্তান নিয়ে সুখী সংসার। সুখের সংজ্ঞটা আমার কাছে ভিন্ন। হতেই পারে। এখনও অনুভব করি, ওর শরীরের সেই ওজন। শক্তির প্রয়োগ। ঘর্মাক্ত দেহে পারফিউমের গন্ধ। না। আমি ওকে ভালোবাসতে পারিনি। এখনও পারব না। শেষ পর্যন্ত আমি সম্পর্কটাই ত্যাগ করি। আমি জানি, আমার সেই সন্তান ওর কাছে বড় হচ্ছে। কেমন দেখতে হয়েছে, কে জানে?

কিন্তু আমি তাকেই সন্তানের পিতা হিসেবে দেখতে চাই, যাকে আমি ভালোবাসি।সত্যিকারের ভালোবাসা।এই সময়



মন্তব্য চালু নেই