পাবনার ঈশ্বরদীতে টানা বর্ষণে ক্ষিতিগ্রস্থ কুমড়ার চাষ

সবজি প্রধান অঞ্চল ঈশ্বরদীতে মিষ্টি কুমড়া প্রচুর পরিমাণে আবাদ হলেও গত এক সপ্তাহের টানা বর্ষণে ফলন্ত কুমড়ার গাছ মরতে শুরু করেছে। গত এক সপ্তাহ জুড়ে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ার পর হঠাৎ করে রোদের মাত্রা বেড়ে গেছে। রোদের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াতে কুমড়ার গাছ মরতে শুরু করেছে। সরেজমিনে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ময়েজ উদ্দিনের কৃষি খামার পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে মিষ্টি কুমড়ার জাংলায় প্রচুর পরিমাণে ফুল এবং জালি রয়েছে। কুমড়া ধরা অবস্থায় গাছ গুলো হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে।
কৃষকেরা জানান তারা বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও, স্থানীয় সমিতি এবং ব্যক্তিদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে জমি লিজ নিয়ে সবজি উৎপাদন করে থাকেন। সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন সবজি বিক্রি করার জন্য। এই সময় সবজি বিক্রি করে বাড়তি আয়ের আশায় থাকেন গোটা বছর ধরে। অথচ টানা বর্ষণে তাদের সেই আশা পূরণ হবেনা।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষক ও বাংলাদেশ কৃষক উন্নয়ন সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান কূল ময়েজ বলেন, এবার ৭ বিঘা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন। জমি চাষ, শ্রমিক, বাঁশ ও তার ক্রয়ে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। টানা বর্ষণের কারণে কুমড়ার গাছ হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে। মিষ্টি কুমড়ায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন রয়েছে। কুমড়ার গাছ মরে যাওয়াতে পুষ্টি চাহিদা ঘাটতি হবে। তিনি বলেন এবার দূর্যোগ না হলে সাত থেকে আট লাখ টাকার কুমড়া বিক্রি করতে পারতেন। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে জমিতে চাষাবাদ করে প্রাকৃতিক দূযোগে কৃষক ক্ষতিগ্রহস্থ হচ্ছেন। কিন্তু নতুন ভাবে কৃষককে ঋণ প্রদান করা হচ্ছেনা। ক্ষতিগ্রহস্থ কৃষককে নতুন ভাবে ঋণ প্রদান না করলে সে কিভাবে চাষাবাদ করবে। এদিকে সরকারের নজর দেয়া প্রয়োজন।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ খুরশিদ আলম জানান, ঈশ্বরদী দেশের অন্যতম সবজি উৎপাদন এলাকা। বিশেষ করে এই অঞ্চলের প্রধান অর্থকারী ফসল এখন সবজি। এবার ঈশ্বরদী উপজেলায় ২৮৬ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ হচ্ছে। বেশির ভাগ গাছেই ফুল এবং কুমড়ার জালি শোভা পাচ্ছে। জাতীয় কৃষক ময়েজ উদ্দিনের খামারে গিয়ে দেখা গেছে ফলন্ত গাছ জাংলায় মরে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। এই মিষ্টি কুমড়া বাজারে বিক্রির যোগ্য হওয়ার আগেই গাছে মরে যাচ্ছে। কুমড়ার গাছগুলো মরে না গেলে কয়েক লাখ টাকা বিক্রি করতে পারতেন। সবজির জমিতে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা হওয়ায় গাছ মরে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। জমি থেকে দ্রূত পানি বের করে দিতে হবে। একই সাথে (মালচিং) মাটি ফাটিয়ে দিতে হবে তাহলে কৃষক উপকৃত হবে।



মন্তব্য চালু নেই