বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে মুজিবপ্রেমীদের ঢল

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ। শুধু তাই নয়, নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সবাই লাল-সবুজ ও সাদা-কালো পোশাকে কালোব্যাজ ধারণ করে ইতিহাসের মহানায়কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

সোমবার ভোর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন পথ ধরে মুজিব স্মরণে হাজারো শোকার্ত মানুষের যাত্রা ছিল ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনের দিকে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা থাকতেন ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের এই বাড়িতেই। এই বাড়িতেই হত্যা করা হয়েছিলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে তৈরি প্রতিকৃতিতে ৪১তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় পুরো জাতি বিনম্র চিত্তে স্মরণ করে বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

দিনের প্রথম প্রহরে ভোর সাড়ে ৬টায় জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।

এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্য ছাড়াও তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। তিন বাহিনীর সুসজ্জিত একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর।

পরে শেখ হাসিনা দলীয় সভাপতি হিসেবে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া এবং প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে) জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের স্মৃতিবিজড়িত বঙ্গবন্ধু ভবনের ভেতরে যান। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কালোরাতে ওই ভবনের যে সিঁড়িতে ঘাতকদের গুলিতে বঙ্গবন্ধুর প্রাণহীন দেহ পড়েছিল, সেখানে গোলাপের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন তিনি।

ওই স্থানটিতে বসে কিছু সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করে শাহাদাৎ বরণকারী বঙ্গবন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করেন। সেখানে ঘুরে ঘুরে তার বাবার স্মৃতিচিহ্নগুলো দেখেন।

প্রায় আধাঘণ্টা বঙ্গবন্ধু ভবনে অবস্থান শেষে প্রধানমন্ত্রী সকাল সাড়ে ৭টায় বনানী কবরস্থানে গিয়ে তার পরিবারের অন্য সদস্য ও স্বজনসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। কবরে ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে দেন তিনি।

এরপর পবিত্র ফাতেহা পাঠ, দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এখানেও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন শ্রদ্ধা নিবেদন করে। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কবরস্থান মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে টুঙ্গিপাড়া যান।

এ দিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে সর্বস্তরের মানুষ। ভোর থেকেই জাতির জনকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক দল ও সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষ বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে ও আশপাশের রাস্তায় জড়ো হতে থাকেন।

এক পর্যায়ে জড়ো হওয়া মানুষের ভিড় বঙ্গবন্ধু ভবনের আশপাশ পেরিয়ে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন দল, সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করেন তারা।

দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীর অলিগলিতে মাইকে বাজছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের কালজয়ী ভাষণ। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত গান ও কবিতা এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণামূলক গানও চলছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে। থানা, ওয়ার্ড ও মহল্লায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের উদ্যোগে দিনব্যাপী কোরআনখানি, মোনাজাত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলছে।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেসহ বিভিন্ন স্থানে দুস্থ ও গরিব মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর থানা ও ওয়ার্ড ইউনিটগুলো। সারাদেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে ধানমন্ডির এলাকাজুড়ে তৈরি করা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী। যা এর আগে দেখা যায়নি। বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে বঙ্গবন্ধু ভবনে প্রবেশে জটিলতায় পড়তে হয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের।

বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালন করছে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সন্ধানী। এ ছাড়া তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।



মন্তব্য চালু নেই