‘বার্বি ডল’ হওয়ার জন্য এই তরুণী যা করলেন, তাতে সকলের চোখ কপালে!

১৯৯৭ সালে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়েছিল অ্যাকোয়া ব্যান্ডের ‘বার্বি ডল’ গানটি। গলা দিয়েছিলেন ব্যান্ডের অন্যতম লিড ভোকালিস্ট লেনে নিস্ট্রম। প্লাস্টিক জগতের মায়াকন্যা ‘বার্বি’-কে রক্ত-মাংসের অনুভূতি দিয়ে যেন স্পর্শ করার অনুভূতি পেয়েছিল মানুষ। অ্যাকোয়া ব্যান্ডের গান বার্বি-প্রেমকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল। বলতে গেলে, ‘বার্বি ডল’-কে এভাবে রক্ত-মাংসের অনুভূতি দিয়ে পাওয়ার সেটাই ছিল সর্বশেষ চেষ্টা।

কিন্তু, এবার রক্ত-মাংসের ‘বার্বি ডল’-কে একদম জীবন্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন সুইডেনের ২৬ বছরের যুবতী পিক্সি ফক্স। আর এর জন্য নিজেকেই ‘বার্বি ডল’-এ রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই নিজের শরীরে ১০০টা অস্ত্রোপচার করেছেন পিক্সি। অবাক হবেন না, পিক্সির মতে, এতে সবে শুরু। খেলা তো এখনও অনেকটাই বাকি!

পিক্সি কোমর সরু করার পর
সুইডেনের গাভেলের বাসিন্দা পিক্সি একটি কারখানায় ইলেক্ট্রিসিয়ানের কাজ করতেন। ছোট থেকেই অসামান্য সুন্দরী। গাভেলের প্রতিটি তরুণ পাগল হয়ে যায় পিক্সির প্রেমের জন্য। পিক্সির বাবা কার্ল অ্যাক্সে বার্থলফ এবং মা আন্না-লিনার জানতেন না যে তাঁদের ছোট মেয়ে পিক্সি নিজেকে ‘বার্বি ডল’-র মতো চেহারা করতে লাগাতার প্লাস্টিক সার্জারি আর অস্ত্রোপচার করে যাচ্ছে। বেশ কয়েকবার অস্ত্রোপচারের পরেও মেয়ের শরীরের রূপান্তর তাঁরা লক্ষ করেননি। কিন্তু, পিক্সি কোমর সরু করতে যখন শরীরের ‘ফেমাস সিক্স রিবস’ বাদ দেন তখন তাঁরা বুঝতে পারেন, কিছু একটা ঘটাতে চলেছে পিক্সি। বাবা-মার-র জেরার সামনে পিক্সি জানিয়ে দিয়েছিল সে ‘বার্বি ডল’-এর মতো নিজেকে করতে চায়। হতে চায় ‘লিভিং লেজেন্ড’। কিন্তু, অস্ত্রোপচারের জন্য এত অর্থ কোথা থেকে পেলেন পিক্সি? বাবা-মার প্রশ্নের উত্তরে পিক্সি জানায় তাঁর বয়ফ্রেন্ডরা কিছুটা অর্থ সাহায্য করেছে। কিছুটা অর্থ সে পেয়েছে দিদি লোভিসার কাছ থেকে। আর বাকিটা সে নিজের কর্মস্থল থেকে সংগ্রহ করেছে।

১০০বার অস্ত্রোপচারের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন পিক্সি। ১০০তম অস্ত্রোপচারের জন্য নয়াদিল্লি এসেছিলেন তিনি। সেখানে এক হাসপাতালে চোখের রঙ সবুজ করতে প্লাস্টিক সার্জারি করেন। কিছুদিন আগে গোথেনবার্গ থেকেও প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছেন পিক্সি। এটা তাঁর ১০১তম অস্ত্রোপচার ছিল। এই অস্ত্রোপচারে পিক্সি-র ঠোঁটে বাড়তি চর্বি ঢোকান চিকিৎসক। এতে ঠোঁট অতিরিক্ত মোটা দেখাবে। কারণ, পিক্সির ঠোঁট বার্বির ঠোঁঠের মতো দেখাতে এই অস্ত্রোপচার করাটা দরকার ছিল। এছাড়াও, পিক্সির শরীরের বিভিন্ন অংশে থাকা বাড়তি মেদ কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে এই অস্ত্রোপচারে এবং নিতম্ব উঁচু করতেও ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে বাড়তি মেদ শরীরের ভিতরে পাঠানো হয়। এর ফলে, পিক্সির কোমর আরও সরু দেখাবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পিক্সি নিজেও জানিয়েছেন, আর কয়েকটি অস্ত্রোপচার হলেই জীবন্ত ‘বার্বি ডল’ হয়ে যাবেন তিনি। আর এই কীর্তি স্থাপন করতে পারলে তিনি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বিশ্বের সবচেয়ে সরু কোমরের মহিলা হিসেবেও স্থান পেয়ে যাবেন বলে দাবি করেছেন পিক্সি।

কিন্তু, চিন্তিত পিক্সির মা আনা। তার দাবি, পিক্সিকে এখন সুন্দর দেখাচ্ছে ঠিক। কিন্তু, অস্ত্রোপচারের আগে সে আরও বেশি সুন্দরী ছিল। আনার মতে, মেয়ের এখন বয়স অল্প, তাই অস্ত্রোপচারের ধকল নিয়ে নিচ্ছে শরীর। ষাট বছর পেরলে এই ধকল শরীর নিতে পারবে কি না, তাতে সন্দিহান পিক্সির মা।



মন্তব্য চালু নেই